গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য লাল মিয়া (৫৫) কে কুপিয়ে যখম করাসহ তার ব্যাংক চেক ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘনায় স্থানীয়ভাবে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
শুক্রবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, শরীরের যখম যন্ত্রণায় বিছানায় কাতরাচ্ছে লাল মিয়া। তিনি রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডের সদস্য ও তরফ ফাজিল গ্রামের জাহার উদ্দিনের ছেলে।
আহত লাল মিয়ার স্বজনরা জানায়, ওই পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য আফরোজা বেগমের কাছে ৭ লাখ টাকা পাওনা ছিলেন লাল মিয়া। এই টাকা বাবদ জনতা ব্যাংক, মাদারগঞ্জ শাখার একটি চেক লিখে দেন আফরোজা। সেই চেকটি কালেকশনের জন্য লাল মিয়া অগ্রণী ব্যাংক লিঃ রসুলপুর শাখায় জমা দেয়। এর কিছুদিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩ টার দিকে রসুলপুর শাখা ম্যানেজার ইকবল হোসেন কর্তৃক লাল মিয়াকে ডেকে নেয় এবং বলেন যে, মাদারগঞ্জ শাখায় আফরোজার হিসাব নম্বররে ৭ লাখ টাকা ব্যালেন্স নেই। এরপর লাল মিয়াকে সেই চেকটি ফেরৎ দেওয়া হয়। এ চেকটি নিয়ে দ্বিতীয় তলার ব্যাংক গেট পার হয়ে সিঁড়িতে নামার সময় স্থানীয় রুহুল আমিন, মাহাবুর ও রানু মিয়াসহ আরও কয়েকজন মিলে সন্ত্রাসী কায়দা লাল মিয়াকে আক্রোমণ করে। এসময় তাকে এলোপাতারীভাবে পিটিয়ে যখম করতে থাকে। এতে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লে এ সুযোগে লাল মিয়ার কাছে থাকা সেই ৭ লাখ টাকার চেক ও নগদ ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এরপর বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে লাল মিয়াকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে সেখানে যখমী যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে লাল মিয়া।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভুক্তভোগি লাল মিয়া বলেন, আমি আফরোজা বেগমের কাছে কর্জ দেওয়া ৭ লাখ টাকা পাওনা ছিলাম। সেই টাকা বাবদ আমাকে একটি চেক লিখে দেয় । সেই চেকটি ব্যাংকে জমা করা হলে আফরোজার হিসাব নম্বরে টাকা নেই বলে জানায় ব্যাংক ম্যানেজার। এরই জেরে আফরোজার হুকুমে তার লেলিয়ে দেওয়া লোকজন ব্যাংকে আমার ওপর হামলা করে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে আহত করে। এসময় আমার পকেটে থাকা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে হামলাকারীরা।
এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংক লিঃ রসুলপুর শাখা ম্যানেজার ইকবল হোসেন বলেন, লাল মিয়া ৭ লাখ টাকার একটি চেক আমাদের কালেকশনে দেন। কিন্তু প্রকৃত হিসাবের মালিক আফরোজ বেগমের একাউন্টে ওই পরিমান টাকা না থাকায় লাল মিয়াকে চেকটি ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের বাহিরে মারামারির ঘটনা শুনেছি কিন্ত দেখিনি।
এ ঘটনায় আফরোজা বেগম জানান, পরিষদের বিষয়ে চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের সঙ্গে আমাদের ৯ জন সদস্যের বিরোধ ছিলো। এই ৯ জনের ঐক্য ধরে রাখা শর্তে আমার স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক লাল মিয়ার কাছে জমা ছিল। এছাড়া ব্যাংকে লাল মিয়াকে কারা মারধর করছে সে বিয়য়টি আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় জানান, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নেবেন।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















