শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘুম থেকে ওঠে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই

আমিরন, মহব্বত ও হযরত আলী। সবাই গ্রামীন জনপদের বাসিন্দা। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে একটু আরাম-আয়েসে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। রাত গভীর হতেই শরীরে আগুন তাপের অনুভূতি। এরই মধ্যে চিৎকার করে জেগে ওঠে তারা। দেখতে পান বাড়ির চারদিকে আগুনের তাণ্ডপ। ছুটে আসেন স্থানীয় ব্যক্তিসহ ফায়ার সার্ভিসের দল। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ চেষ্টায় নিমিষে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর মরুয়াদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় আগুনে সর্বস্বহারা মানুষগুলো চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছে। রাতে কোথায় ঘুমাবেন এমন ঠিকানাও নেই তাদের বাড়িতে।

এর আগে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের ওই গ্রামের শোভাগঞ্জ বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসময় তিন পরিবারের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়-চোপড় ও নগদ টাকাসহ ৭ টি ঘর ভষ্মিভূত হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে রোববার রাতে বিদ্যুতের সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘুমে ছিলেন। এরই মধ্যে আগুনের তাপ ও ঘ্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে তারা। বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। এ ঘটনায় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরই মধ্যে ওই গ্রামের  মৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী আমিরন বেওয়ার ৪টি ঘর, মৃত ওলি ব্যাপারির ছেলে মহব্বত আলীর ২টি ঘর ও  আব্দুল মান্নানের ছেলে হযরত আলীর একটি ঘরসহ তিন পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত আমিরন বেওয়া জানান, কিভাবে বাড়িতে আগুন লেগেছে সেটি এখনও ঠিক বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় তার প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিসহ অন্যাদের আরও সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাপড়হাটী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী বলেন,  অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ওই তিন পরিবার এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। তাগের সহায়তার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওইস্থানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘন্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। আমাদের ধারণা বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ-আল-মারুফ জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আপাতত কম্বল দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে অবহিত করে দ্রুত সহযোগিতা করা হবে।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

ঘুম থেকে ওঠে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই

প্রকাশের সময়: ০৬:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২

আমিরন, মহব্বত ও হযরত আলী। সবাই গ্রামীন জনপদের বাসিন্দা। সারাদিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাতে একটু আরাম-আয়েসে ঘুমিয়ে পড়ছিলেন। রাত গভীর হতেই শরীরে আগুন তাপের অনুভূতি। এরই মধ্যে চিৎকার করে জেগে ওঠে তারা। দেখতে পান বাড়ির চারদিকে আগুনের তাণ্ডপ। ছুটে আসেন স্থানীয় ব্যক্তিসহ ফায়ার সার্ভিসের দল। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ চেষ্টায় নিমিষে সবকিছু পুড়ে ছাই হয়।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার উত্তর মরুয়াদহ গ্রামে গিয়ে দেখা যায় আগুনে সর্বস্বহারা মানুষগুলো চরম দুশ্চিন্তায় ভুগছে। রাতে কোথায় ঘুমাবেন এমন ঠিকানাও নেই তাদের বাড়িতে।

এর আগে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২ টার দিকে উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের ওই গ্রামের শোভাগঞ্জ বাজারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসময় তিন পরিবারের আসবাবপত্র, ধান-চাল, কাপড়-চোপড় ও নগদ টাকাসহ ৭ টি ঘর ভষ্মিভূত হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে রোববার রাতে বিদ্যুতের সর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। এসময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা ঘুমে ছিলেন। এরই মধ্যে আগুনের তাপ ও ঘ্রাণ পেয়ে জেগে ওঠে তারা। বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা দেখতে পেয়ে চিৎকার দেয়। এ ঘটনায় লোকজন ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘন্টাব্যাপী চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরই মধ্যে ওই গ্রামের  মৃত নজরুল ইসলামের স্ত্রী আমিরন বেওয়ার ৪টি ঘর, মৃত ওলি ব্যাপারির ছেলে মহব্বত আলীর ২টি ঘর ও  আব্দুল মান্নানের ছেলে হযরত আলীর একটি ঘরসহ তিন পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত আমিরন বেওয়া জানান, কিভাবে বাড়িতে আগুন লেগেছে সেটি এখনও ঠিক বলতে পারছেন না। এ ঘটনায় তার প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ক্ষতিসহ অন্যাদের আরও সাড়ে ৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে ছাপড়হাটী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী বলেন,  অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ওই তিন পরিবার এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। তাগের সহায়তার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ওইস্থানে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘন্টাব্যাপী চেষ্টার পর আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ৫-৬ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে তাদের। আমাদের ধারণা বিদ্যুতের সর্টসার্কিট থেকেই আগুন লেগেছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ-আল-মারুফ জানান, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আপাতত কম্বল দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) মহোদয়কে অবহিত করে দ্রুত সহযোগিতা করা হবে।