শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানসামায় আলুর দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

দিনাজপুরের খানসামায় এবার আলু চাষে খরচ বেশি হওয়ায় বর্তমান বাজারে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে আগাম জাতের আলুতে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না বলে কৃষকরা দুশ্চিন্তায়। এবার সার, আলুর বীজ, সেচ ও কৃষকের খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন আলু চাষিরা। আলু চাষ বৃদ্ধি পেলেও খানসামা উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে আলু বিক্রি করে দিচ্ছে বলে কৃষকরা জানায়।
খানসামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয় এবং প্রায় ৫৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। হেক্টর প্রতি আলুর গড় উৎপাদন ১৬.৫ মেট্রিক টন।
কয়েকজন কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে খানসামায় গ্রানুলা, স্টিক ও সেভেন জাতের এ তিন ধরনের আলুতে বীজের মূল্য এবং পরিচর্যা অনুযায়ী উৎপাদন খরচের তারতম্য রয়েছে। গ্রানুলা আলুতে প্রতি বিঘায় চাষাবাদে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, স্টিক ও সেভেন জাতের আলুতে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কৃষক মাহফুজুর রহমান, জাহিদ ইকবাল রানাসহ কয়েকজন জানান, গতবার আলুচাষ করে লাভ হয়েছিল। কিন্তু এবার সার, আলুর বীজ, সেচ ও কৃষকের খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান হয়েছে। এবার জমিচাষে গতবারের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কৃষকের হাজিরা ছিল ৮০০, এবার ১ হাজার ২০০ টাকা। আইল বাঁধা ১ হাজার ২০০ থেকে বৃদ্ধি  পেয়ে হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। গতবার আলু উত্তোলনের খরচ প্রতিবস্তা ৩০ টাকা ছিল, এবার হয়েছে ৭০ টাকা। আলু পরিস্কার করার লেবার খরচ গতবছর মণপ্রতি ১০ টাকা ছিল, এবছর ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।প্রতিবিঘা জমিতে ক্যারেজ আলু লাগাতে খরচ হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। যা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৯ হাজার ৩০০ টাকায়।

উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউপির হোসেনপুর গ্রামের সেনপাড়ার আলুচাষি লক্ষণ রায় বলেন, গ্রানুলাজাতের আলু উত্তোলনের সময় আক্ষেপ করে জানান, প্রতিকেজি আলু ৯ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তিনি। এক বিঘা জমিতে তার ৬০ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা আলু হয়েছে। যার বাজারদর অনুযায়ী এই আলুর দাম ২১ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ ৪০ বস্তা আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে অন্তত ২৯ হাজার টাকা। প্রতিকেজি আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে অন্তত ১২ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, খানসামায় তুলনামূলক আলুর চাষ বেশি হয়। তবে এ উপজেলায় হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ভরা মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের এ সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। সমস্যাটি থেকে উত্তরণের জন্য আলু সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

খানসামায় আলুর দাম না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় কৃষক

প্রকাশের সময়: ০৪:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২২
দিনাজপুরের খানসামায় এবার আলু চাষে খরচ বেশি হওয়ায় বর্তমান বাজারে কাঙ্খিত দাম না পেয়ে আগাম জাতের আলুতে উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না বলে কৃষকরা দুশ্চিন্তায়। এবার সার, আলুর বীজ, সেচ ও কৃষকের খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করছেন আলু চাষিরা। আলু চাষ বৃদ্ধি পেলেও খানসামা উপজেলায় কোন হিমাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্ষেত থেকে আলু বিক্রি করে দিচ্ছে বলে কৃষকরা জানায়।
খানসামা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয় এবং প্রায় ৫৩ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়। হেক্টর প্রতি আলুর গড় উৎপাদন ১৬.৫ মেট্রিক টন।
কয়েকজন কৃষক জানান, চলতি মৌসুমে খানসামায় গ্রানুলা, স্টিক ও সেভেন জাতের এ তিন ধরনের আলুতে বীজের মূল্য এবং পরিচর্যা অনুযায়ী উৎপাদন খরচের তারতম্য রয়েছে। গ্রানুলা আলুতে প্রতি বিঘায় চাষাবাদে ২৮ থেকে ৩০ হাজার টাকা, স্টিক ও সেভেন জাতের আলুতে ৩৫ থেকে ৩৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

কৃষক মাহফুজুর রহমান, জাহিদ ইকবাল রানাসহ কয়েকজন জানান, গতবার আলুচাষ করে লাভ হয়েছিল। কিন্তু এবার সার, আলুর বীজ, সেচ ও কৃষকের খরচ বেশি হওয়ায় লোকসান হয়েছে। এবার জমিচাষে গতবারের তুলনায় প্রায় ২০০ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। কৃষকের হাজিরা ছিল ৮০০, এবার ১ হাজার ২০০ টাকা। আইল বাঁধা ১ হাজার ২০০ থেকে বৃদ্ধি  পেয়ে হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। গতবার আলু উত্তোলনের খরচ প্রতিবস্তা ৩০ টাকা ছিল, এবার হয়েছে ৭০ টাকা। আলু পরিস্কার করার লেবার খরচ গতবছর মণপ্রতি ১০ টাকা ছিল, এবছর ২০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।প্রতিবিঘা জমিতে ক্যারেজ আলু লাগাতে খরচ হয়েছে ২৯ হাজার ৫০০ টাকা। যা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৯ হাজার ৩০০ টাকায়।

উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউপির হোসেনপুর গ্রামের সেনপাড়ার আলুচাষি লক্ষণ রায় বলেন, গ্রানুলাজাতের আলু উত্তোলনের সময় আক্ষেপ করে জানান, প্রতিকেজি আলু ৯ টাকা দরে বিক্রি করেছেন তিনি। এক বিঘা জমিতে তার ৬০ কেজি ওজনের ৪০ বস্তা আলু হয়েছে। যার বাজারদর অনুযায়ী এই আলুর দাম ২১ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ ৪০ বস্তা আলুর উৎপাদন খরচ হয়েছে অন্তত ২৯ হাজার টাকা। প্রতিকেজি আলু উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে অন্তত ১২ টাকা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় বলেন, খানসামায় তুলনামূলক আলুর চাষ বেশি হয়। তবে এ উপজেলায় হিমাগার না থাকায় কৃষকরা ভরা মৌসুমে কম দামে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকদের এ সমস্যা আমরা চিহ্নিত করেছি। সমস্যাটি থেকে উত্তরণের জন্য আলু সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।