শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিতে খানসামায় বাড়ছে সরিষার চাষ

সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ফসলের মাঠ। পৌষ মাসের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরষে ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত মাঠ। বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক। দিগন্ত জুড়ে দেখা যাচ্ছে হলুদ আর হলুদ ফুল। দেখে মনে হয়-  প্রকৃতি যেন হলুদের সাজে সেজেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টরে জমিতে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২১০ হেক্টর। গত মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার তেলের প্রতি ক্রেতাদেরও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারপাড়া, টংগুয়া, সহজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। ছোট থেকে বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা সরিষা ক্ষেতের মাঝে ছবি তুলছে। আর অন্তত দুই মাস পরেই ঘরে উঠবে সরিষা।

সহজপুর গ্রামের কৃষক গোবিন্দ সেন বলেন, আমি এ বছর ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। সরিষার গাছ ও ফুল ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছর বিঘাপ্রতি ১২-১৩ মণ করে সরিষা পেলেও এ বছর ১৪-১৫ মণের অধিক সরিষা হবে।’ হোসেনপুর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘বোরো ধান লাগানোর আগে জমিতে সরিষা লাগানো হয়। সরিষার দাম ভালো থাকায় আমি এ বছর ৪ বিঘা  জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় বলেন, সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। এজন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিতে খানসামায় বাড়ছে সরিষার চাষ

প্রকাশের সময়: ১০:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৩

সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ফসলের মাঠ। পৌষ মাসের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরষে ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত মাঠ। বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন দেখছে কৃষক। দিগন্ত জুড়ে দেখা যাচ্ছে হলুদ আর হলুদ ফুল। দেখে মনে হয়-  প্রকৃতি যেন হলুদের সাজে সেজেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষার আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৪৬৫ হেক্টরে জমিতে। যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ২১০ হেক্টর। গত মৌসুমে ৯৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল।অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অন্যদিকে, বর্তমানে বিশ্ব বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সরিষার তেলের প্রতি ক্রেতাদেরও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার আঙ্গারপাড়া, টংগুয়া, সহজপুরসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠ সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে। ছোট থেকে বিভিন্ন বয়সের ছেলেমেয়েরা সরিষা ক্ষেতের মাঝে ছবি তুলছে। আর অন্তত দুই মাস পরেই ঘরে উঠবে সরিষা।

সহজপুর গ্রামের কৃষক গোবিন্দ সেন বলেন, আমি এ বছর ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। সরিষার গাছ ও ফুল ভালো হয়েছে। অন্যান্য বছর বিঘাপ্রতি ১২-১৩ মণ করে সরিষা পেলেও এ বছর ১৪-১৫ মণের অধিক সরিষা হবে।’ হোসেনপুর গ্রামের কৃষক আবেদ আলী বলেন, ‘বোরো ধান লাগানোর আগে জমিতে সরিষা লাগানো হয়। সরিষার দাম ভালো থাকায় আমি এ বছর ৪ বিঘা  জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বাসুদেব রায় বলেন, সরিষা চাষ লাভজনক হওয়ায় উপজেলায় সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। এজন্য কৃষি বিভাগ কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছে।