শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদী বালু খেকোদের দখলে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদ। ইতোমধ্যে এই নদটি রয়েছে বালুদস্যুদের দখলে। তারা বিভিন্ন স্থানে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করছে বালু। এর ফলে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগিদের এই অভিযোগ। সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘাঘট নদের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার সিট জামুডাঙ্গা, ছোট দাউদপুর ও মহিষবান্দিসহ আরও বেশ কিছু জায়গা বালু তোলা হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার বনগ্রামের টুনিরচর থেকে নলডাঙ্গার শ্রীরামপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার বয়ে গেছে ঘাঘট নদ। এই নদীটির বেশ কিছু পয়েন্টে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে কতিপয় স্বার্থনেশি মহল। তারা কিছুতেই থামছে না বালু উত্তোলনের অপকর্ম। এই মহলে দাপট দেখে মনে হয় ঘাঘট নদটি যেনো তাদের পৈত্রিক কিংবা ক্রয় সম্পত্তি। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকার অনেকে নির্বিঘেœ বালু উত্তোলন করছে। তারা নদীতে মেশিন বসিয়ে ফসলি জমি ও বাড়ির উঠান রাস্তার পাশ দিয়ে হাজার হাজার ফুট পাইপ টেনে অবাধে বালু তুলেছেন। লাখ লাখ টাকা মূল্যের এইসব বালু বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন বালুদস্যুরা। এরপ্রভাবে নদী ভাঙনে মানুষ হারাচ্ছে বাপ-দাদার বসতভিটা ও ফসলি জমি। কেউ কেউ ভূমিহীন সেজে আশ্রয় নিচ্ছে অন্যত্র। এই বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনকে জানালেও কোনরূপ কর্ণপাত করা হয়নি মর্মে ভুক্তভোগি মানুষের অভিযোগ। তবে জোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এমন অভিযানে কয়েকদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করা হয় বালু তোলা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয়রা জানান, ওইসব মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। শুধু ঘাঘট নদ থেকে নয়, কৃষি জমি থেকেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গ্রামীন রাস্তা পাশ দিয়ে পাইপ টানার কারণে জলাবদ্ধসহ চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাইফুর রহমান বলেন, আমি ট্রেনিং নিতে ঢাকায় আছি। বিষয়টি ইউএনও স্যার দেখবেন।

উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রোকসানা বেগম বলেন, বালু তোলার বিষয়ে কারও কোন অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

অর্থসংকটে থেমে থাকা শ্মশান চুল্লির কাজ, নকশা বদলে শুরু স্থানীয়দের

সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদী বালু খেকোদের দখলে

প্রকাশের সময়: ০৫:০৩:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৩

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বুক চিরে বয়ে গেছে ঘাঘট নদ। ইতোমধ্যে এই নদটি রয়েছে বালুদস্যুদের দখলে। তারা বিভিন্ন স্থানে মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে উত্তোলন করছে বালু। এর ফলে নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কৃষি জমি ও বসতবাড়ি। ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগিদের এই অভিযোগ। সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘাঘট নদের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। উপজেলার সিট জামুডাঙ্গা, ছোট দাউদপুর ও মহিষবান্দিসহ আরও বেশ কিছু জায়গা বালু তোলা হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার বনগ্রামের টুনিরচর থেকে নলডাঙ্গার শ্রীরামপুর পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার বয়ে গেছে ঘাঘট নদ। এই নদীটির বেশ কিছু পয়েন্টে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করছে কতিপয় স্বার্থনেশি মহল। তারা কিছুতেই থামছে না বালু উত্তোলনের অপকর্ম। এই মহলে দাপট দেখে মনে হয় ঘাঘট নদটি যেনো তাদের পৈত্রিক কিংবা ক্রয় সম্পত্তি। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী ও আশপাশের এলাকার অনেকে নির্বিঘেœ বালু উত্তোলন করছে। তারা নদীতে মেশিন বসিয়ে ফসলি জমি ও বাড়ির উঠান রাস্তার পাশ দিয়ে হাজার হাজার ফুট পাইপ টেনে অবাধে বালু তুলেছেন। লাখ লাখ টাকা মূল্যের এইসব বালু বিক্রি করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনেছেন বালুদস্যুরা। এরপ্রভাবে নদী ভাঙনে মানুষ হারাচ্ছে বাপ-দাদার বসতভিটা ও ফসলি জমি। কেউ কেউ ভূমিহীন সেজে আশ্রয় নিচ্ছে অন্যত্র। এই বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য প্রশাসনকে জানালেও কোনরূপ কর্ণপাত করা হয়নি মর্মে ভুক্তভোগি মানুষের অভিযোগ। তবে জোর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন। এমন অভিযানে কয়েকদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর আবারও চালু করা হয় বালু তোলা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে স্থানীয়রা জানান, ওইসব মেশিনের বিকট শব্দে অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। শুধু ঘাঘট নদ থেকে নয়, কৃষি জমি থেকেও বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। গ্রামীন রাস্তা পাশ দিয়ে পাইপ টানার কারণে জলাবদ্ধসহ চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাইফুর রহমান বলেন, আমি ট্রেনিং নিতে ঢাকায় আছি। বিষয়টি ইউএনও স্যার দেখবেন।

উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রোকসানা বেগম বলেন, বালু তোলার বিষয়ে কারও কোন অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।