শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মামার বিরুদ্ধে ভাগিনাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মাদকাসক্ত লাবু হোসেন ওরফে লিমন (২৫) নামে ভাগিনাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার আপন দুই মামা। এ ঘটনাটি বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শান্তির বাজার লক্ষিপুর গ্রামের উত্তরপাড়ায় ঘটেছে। নিহত লাবু হোসেন ওরফে লিমন ওই গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাবু হোসেন ওরফে লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়শই বাড়িতে ঝগড়া-বিবাদ করতো। সে নেশার টাকা সংগ্রহের জন্য পিতামাতাকে মারপিট করতো। বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করতো। অনেক সময় বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। কিছুদিন আগে সে নেশা করার সময় পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল-হাজত বাস করে। জেল-হাজত থেকে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। জেল-হাজত থেকে বেরিয়ে এসে সে আবারও নেশার টাকার জন্য পিতামাতার সাথে খারাপ আচার-আচরণ করতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। অনেক সময় সে তার পিতামাতাকে মারপিট করতে উদ্যত হতো। ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে চরম অশান্তি বিরাজ করতো। এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার পিতা মো. শহিদুল ইসলাম উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার লাবু হোসেন ওরফে লিমনের মামা মো. হায়দার আলী (৫৫) ও মো. হাসমত আলী ওরফে হাসু (২৬) কে খবর দেন যে, তোমরা এসে তোমাদের ভাগিনাকে একটু শাসন করেন। আমরা তার সাথে আর পারছি না। সে আমাদেরকে মারার জন্য আসতেছে। পরে রাতে তার দুই মামা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে তাকে বেদম আঘাত করে। এতে সে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়। এ সময় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে এনে তাকে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাবু হোসেন ওরফে লিমনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লাবু হোসেন ওরফে লিমনের মাতা মোছা. লাইজুয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে।
চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বজলুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় লিমনের মাতা মোছা. লাইজুয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনপ্রিয়

মামার বিরুদ্ধে ভাগিনাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৪:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৩
দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মাদকাসক্ত লাবু হোসেন ওরফে লিমন (২৫) নামে ভাগিনাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার আপন দুই মামা। এ ঘটনাটি বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নের শান্তির বাজার লক্ষিপুর গ্রামের উত্তরপাড়ায় ঘটেছে। নিহত লাবু হোসেন ওরফে লিমন ওই গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের ছেলে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাবু হোসেন ওরফে লিমন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার টাকার জন্য সে প্রায়শই বাড়িতে ঝগড়া-বিবাদ করতো। সে নেশার টাকা সংগ্রহের জন্য পিতামাতাকে মারপিট করতো। বাড়ির জিনিসপত্র চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করতো। অনেক সময় বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করতো। কিছুদিন আগে সে নেশা করার সময় পুলিশের হাতে আটক হয়ে জেল-হাজত বাস করে। জেল-হাজত থেকে সে জামিনে বেরিয়ে আসে। জেল-হাজত থেকে বেরিয়ে এসে সে আবারও নেশার টাকার জন্য পিতামাতার সাথে খারাপ আচার-আচরণ করতে থাকে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো। অনেক সময় সে তার পিতামাতাকে মারপিট করতে উদ্যত হতো। ফলে তাদের পরিবারের মধ্যে চরম অশান্তি বিরাজ করতো। এসব অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তার পিতা মো. শহিদুল ইসলাম উপজেলার জয়দেবপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার লাবু হোসেন ওরফে লিমনের মামা মো. হায়দার আলী (৫৫) ও মো. হাসমত আলী ওরফে হাসু (২৬) কে খবর দেন যে, তোমরা এসে তোমাদের ভাগিনাকে একটু শাসন করেন। আমরা তার সাথে আর পারছি না। সে আমাদেরকে মারার জন্য আসতেছে। পরে রাতে তার দুই মামা তার হাত-পা রশি দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও বাঁশ দিয়ে তাকে বেদম আঘাত করে। এতে সে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হয়। এ সময় এ্যাম্বুলেন্স ডেকে এনে তাকে চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক লাবু হোসেন ওরফে লিমনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় লাবু হোসেন ওরফে লিমনের মাতা মোছা. লাইজুয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে।
চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বজলুর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় লিমনের মাতা মোছা. লাইজুয়ারা বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত দুইজনকে আটক করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।