মো. রফিকুল ইসলাম: সাদা সোনা খ্যাত রসুন চাষে স্বপ্ন বুনছেন শস্যপ্রধান দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃষক-কৃষাণীরা। খরচের তুলনায় দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় প্রতি বছর এই উপজেলায় বাড়ছে রসুন চাষ। এখন রসুন রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৪ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ১ হাজার ২০৫ হেক্টর জমি। রসুন চাষে লাভ হওয়ায় গত কয়েক বছরে উপজেলায় রসুন চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরজমিন উপজেলার ছাতিয়ানগড়, বালাপাড়া ও গোয়ালডিহি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ধান কাটা-মাড়াই শেষে রসুন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত, বীজ সংগ্রহ ও রোপণ কাজে পুরোদমে পুরুষদের সাথে নারীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। ৫০ শতকের প্রতিবিঘা জমিতে রসুন চাষে জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, সেচ, হাল ও পরিচর্যা বাবদ খরচ হবে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর প্রতিবিঘায় ফলন হয় ৫০-৬০ মণ।
উপজেলার গোয়ালডিহি শিমুলতলী এলাকার রিশাদ শাহ জানান, প্রতিমণের বর্তমান বাজার মূল্য ৫-৭ হাজার টাকা। অন্য ফসলের চেয়ে তুলনামূলক লাভের আশায় বেড়েছে রসুন আবাদ।
দক্ষিণ বালাপাড়া এলাকার কৃষক সাব্বির হোসেন সম্পদ বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে রসুন অত্যন্ত লাভজনক ফসল। এজন্য পূর্বের মত এবছরও তিনি দেড় ১ বিঘা জমিতে রসুন রোপণ করছেন। রোপণের জন্য প্রতিবিঘায় ৭-৮ মণ রসুনের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে ভালো রসুনের বীজ ৭-৯ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্রয় করতেছি। আশা করছি, ভালো আবহাওয়া ও ফলন পেলে চলতি মৌসুমে দেড়বিঘা জমিতে এক-দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হবে।
খামারপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রসুনের ভালো ফলন পেতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা প্রদানে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, উপজেলায় রসুন আবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গত মওসুমেও ভালো দাম পাওয়ায় এবছর লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অধিক জমিতে রসুন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছরও রসুনের ভালো ফলন পাবেন কৃষক। এজন্য পরামর্শ প্রদানে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠে রয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















