শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে সারের কৃত্রিম সংকট, বিপাকে কৃষকরা

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট উপজেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় চলছে রবি বীজ বুনন কার্যক্রম। বীজ বুননের আগে জমি তৈরি করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে চাষিদের। এ মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় বিপাকে পরেছে জেলার কৃষকরা। ফলে বাজারে সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কতিপয় অসাধু বিক্রেতা অধিকমূল্যে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ কৃষকদের। তারা বলেন, সার যদিও পাওয়া যায় তা বেশি দামে কিনতে হয়। জেলার খুচরা বাজারগুলোতে টিএসপি ১৮ শত টাকা পটাশ, ১৫ শত টাকা ইউরিয়া, ১৫ শত টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের যথা সময়ে তদারকি না থাকায় ঐ সব অসাধু সার ব্যবসায়ী ইচ্ছে মতো কৃষকদের নিকট সারের দাম নিচ্ছেন বলে জানান তারা।

বাজারে সার দোকান ব্যবসায়ীর বেশিরভাগই অনিবন্ধিত ব্যবসায়ী। এসব বিক্রেতা মৌসুম শুরুর আগে ডিলারদের কাছ থেকে সার ক্রয় করে গুদাম জাত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। আবার সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অধিক দামে সার কিনে চাষাবাদ করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চাষিরা।

সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে বর্তমান বাংলা টিএসপি প্রতিবস্তা ১৩৫০ টাকার স্থলে, বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা এবং বাংলা পতেঙ্গা ১২৫০ টাকার স্থলে ২”হাজার টাকা দামে কিনতে হচ্ছে অনিবন্ধিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আবাদ শুরুতে এমন ধাক্কা খেয়ে উৎপাদন খরচে যেমন দিতে চড়া মূল্য তেমনি চাষাবাদ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের।

সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাজারে সার নেই,যদিও পাওয়া যায় বেমি দামে কিনতে হয়। তাছাড়া তামাক চাষ করতে প্রচুর পরিমাণ সার লাগে। চাষাবাদের শুরুতেই সারের সংকট দেখা দিয়েছে বাজারের দোকান গুলোতে। ডিলারদের কাছে গেলে তারা বলেন সার নেই। খুচরা বিক্রেতারা বাংলা টিএসপি ও ডিএপি সার বস্তা প্রতি ৪/শত থেকে ৫ শত টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে। অন্যদিকে নিবন্ধিত বেশ কিছু ডিলারের গুদামে যথেষ্ট সার থাকা সত্বেও তারা বলছেন সার নেই। বরাদ্দ যেটা পেয়েছি সব শেষ। এ জন্যই মূলত সারের সংকট তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে সার না পেলে রবি মৌসুমে চাষাবাদে ফলন অনেক কম হওয়ারও আশংকা রয়েছে। তাই সার নিয়ে বড় চিন্তায় আছি আমরা।

সার ডিলাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৩ টিতে ব্যাপক হারে তামাক চাষ হয়। পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধায় ব্যাপক চাষ হয় ভুট্টা। তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করতে তামাকের জন্য কোন সার বরাদ্দ চায় না কৃষি বিভাগ। তামাক চাষেও প্রচুর পরিমাণ সার লাগে। যার বরাদ্দই দেয় না কৃষি বিভাগ। ফলে তামাকের জমির বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ করতে এ রবি মৌসুমে সারের এ ঘাটতি থেকে যায়। সংকট দূর করতে হলে তামাক চাষে কৃষদের নিরুৎসাহী করতে হবে। যেহেতু এ জেলায় তামাক চাষ বেশী হয় এবং চাষিরা এসব সার তামাক ক্ষেতে প্রয়োগ করেন। তাই তাদের চাহিদা বিবেচনা করে সারের বরাদ্দ দেয়া উচিৎ বলে তিনি জানান। তা না হলে সংকট থেকে যাবে।

এই বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.সাইফুল আরেফিন বলেন, নভেম্বর মাসে বরাদ্দের কিছু অংশ পর্যন্ত বাফার গুদামে মজুদ আছে। ডিসেম্বর মাসের বরাদ্দ এসেছে। এখন বাজারে সারের কোন সংকট থাকবে না । কিছু অসাধু ব্যক্তি গুজব সৃষ্টি করে বাজারে সার নেই বলে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যে সব সার ব্যবসায়ী ডিলার অধিক মূল্যে সার বিক্রি করবে, তার প্রমাণ পেলে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি, কৃষকদের ডিলারদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার কেনার আহ্বান জানান। কেউ বেশি চাইলে কৃষি দপ্তরকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

জনপ্রিয়

লালমনিরহাটে সারের কৃত্রিম সংকট, বিপাকে কৃষকরা

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৪

উত্তরের জেলা লালমনিরহাট উপজেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় চলছে রবি বীজ বুনন কার্যক্রম। বীজ বুননের আগে জমি তৈরি করতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার প্রয়োগ করতে হচ্ছে চাষিদের। এ মৌসুমে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় বিপাকে পরেছে জেলার কৃষকরা। ফলে বাজারে সার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ের কতিপয় অসাধু বিক্রেতা অধিকমূল্যে সার বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ কৃষকদের। তারা বলেন, সার যদিও পাওয়া যায় তা বেশি দামে কিনতে হয়। জেলার খুচরা বাজারগুলোতে টিএসপি ১৮ শত টাকা পটাশ, ১৫ শত টাকা ইউরিয়া, ১৫ শত টাকায় বিক্রয় হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের যথা সময়ে তদারকি না থাকায় ঐ সব অসাধু সার ব্যবসায়ী ইচ্ছে মতো কৃষকদের নিকট সারের দাম নিচ্ছেন বলে জানান তারা।

বাজারে সার দোকান ব্যবসায়ীর বেশিরভাগই অনিবন্ধিত ব্যবসায়ী। এসব বিক্রেতা মৌসুম শুরুর আগে ডিলারদের কাছ থেকে সার ক্রয় করে গুদাম জাত করার মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। আবার সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে অধিক দামে সার কিনে চাষাবাদ করছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চাষিরা।

সরকার নির্ধারিত মূল্য থেকে বর্তমান বাংলা টিএসপি প্রতিবস্তা ১৩৫০ টাকার স্থলে, বিক্রি হচ্ছে ১৭০০ টাকা এবং বাংলা পতেঙ্গা ১২৫০ টাকার স্থলে ২”হাজার টাকা দামে কিনতে হচ্ছে অনিবন্ধিত বিক্রেতাদের কাছ থেকে। আবাদ শুরুতে এমন ধাক্কা খেয়ে উৎপাদন খরচে যেমন দিতে চড়া মূল্য তেমনি চাষাবাদ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে কৃষকদের।

সরেজমিনে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বাজারে সার নেই,যদিও পাওয়া যায় বেমি দামে কিনতে হয়। তাছাড়া তামাক চাষ করতে প্রচুর পরিমাণ সার লাগে। চাষাবাদের শুরুতেই সারের সংকট দেখা দিয়েছে বাজারের দোকান গুলোতে। ডিলারদের কাছে গেলে তারা বলেন সার নেই। খুচরা বিক্রেতারা বাংলা টিএসপি ও ডিএপি সার বস্তা প্রতি ৪/শত থেকে ৫ শত টাকা বেশি দামে বিক্রি করছে। অন্যদিকে নিবন্ধিত বেশ কিছু ডিলারের গুদামে যথেষ্ট সার থাকা সত্বেও তারা বলছেন সার নেই। বরাদ্দ যেটা পেয়েছি সব শেষ। এ জন্যই মূলত সারের সংকট তৈরি হয়েছে। সঠিক সময়ে সার না পেলে রবি মৌসুমে চাষাবাদে ফলন অনেক কম হওয়ারও আশংকা রয়েছে। তাই সার নিয়ে বড় চিন্তায় আছি আমরা।

সার ডিলাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, লালমনিরহাটের ৫টি উপজেলার ৩ টিতে ব্যাপক হারে তামাক চাষ হয়। পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধায় ব্যাপক চাষ হয় ভুট্টা। তামাক চাষকে নিরুৎসাহিত করতে তামাকের জন্য কোন সার বরাদ্দ চায় না কৃষি বিভাগ। তামাক চাষেও প্রচুর পরিমাণ সার লাগে। যার বরাদ্দই দেয় না কৃষি বিভাগ। ফলে তামাকের জমির বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ করতে এ রবি মৌসুমে সারের এ ঘাটতি থেকে যায়। সংকট দূর করতে হলে তামাক চাষে কৃষদের নিরুৎসাহী করতে হবে। যেহেতু এ জেলায় তামাক চাষ বেশী হয় এবং চাষিরা এসব সার তামাক ক্ষেতে প্রয়োগ করেন। তাই তাদের চাহিদা বিবেচনা করে সারের বরাদ্দ দেয়া উচিৎ বলে তিনি জানান। তা না হলে সংকট থেকে যাবে।

এই বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড.সাইফুল আরেফিন বলেন, নভেম্বর মাসে বরাদ্দের কিছু অংশ পর্যন্ত বাফার গুদামে মজুদ আছে। ডিসেম্বর মাসের বরাদ্দ এসেছে। এখন বাজারে সারের কোন সংকট থাকবে না । কিছু অসাধু ব্যক্তি গুজব সৃষ্টি করে বাজারে সার নেই বলে সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি করে যে সব সার ব্যবসায়ী ডিলার অধিক মূল্যে সার বিক্রি করবে, তার প্রমাণ পেলে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। তিনি, কৃষকদের ডিলারদের কাছে নির্ধারিত মূল্যে সার কেনার আহ্বান জানান। কেউ বেশি চাইলে কৃষি দপ্তরকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।