শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মহান বিজয় দিবস পালন 

oppo_2

ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে তরুণ নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের দায়িত্ব পাওয়া নাজমুল হাসান সোহাগ ও মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডলের নির্দেশে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক কমিটি সাদুল্লাপুর উপজেলা থেকেও সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সোমবার সকালে জেলা শহরের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পৌরপার্কের বিজয়স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে পৌরপার্কের গোলচত্ত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশেদুল ইসলাম জুয়েল।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শুভাকাঙ্খী মাহমুদ নাছের, রোমেল সরকার, লিখন সরকার, ফিদা হাসান আহাদ, আবু তাহের সিজু, মাহমুদ মাফি, সাখাওয়াত হোসেন সগীর ও রওশন আলম পাপুল প্রমুখ। আলোচনা সভায় গাইবান্ধার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এবং সামনে জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের আকাঙ্খাকে ধারনা করে জনগণের পাশে থাকার কর্মসূচি গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়।

 

বর্তমানে সংগঠনটি গাইবান্ধার সাত উপজেলায় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী, আহত ও শহীদ পরিবারসহ শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, গৃহিণীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।

 

ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ও নেতৃত্বদানকারীদের উদ্যোগে সংহতি, প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এই শ্লোগাণে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই কমিটি আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহনে সারাদেশে এই কমিটি গঠন হচ্ছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা: রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার, লিফট-১৫, ফ্লোর-৩, ১১৪ কাজী নজরুল ইসলাম সরণী, বাংলা মোটর, ঢাকা-১২০৫।

 

কেন্দ্রীয় জাতীয় নাগরিক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন নাজমুল হাসান সোহাগ ও মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডল। এর মধ্যে পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর উপজেলা কমিটির জন্য নাজমুল হাসান সোহাগ (০১৭৩৪-৬৭৩৮৪৮), ফুলছড়ি-সাঘাটায় মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডল (০১৭৭০-৮৩৫৯৬৯), সদরে রাশেদুল ইসলাম জুয়েল (০১৭৩৬-৬৭৫১২৩), সুন্দরগঞ্জে মো. আজিজুর রহমান (০১৭৭৪-৩৫৫২১৯) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আবু তাহেরকে (০১৭৭৪-৩২৪৯০১) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আগ্রহী ব্যক্তিরা জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হতে মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন। “জাতীয় নাগরিক কমিটি, গাইবান্ধা জেলা” নামে সংগঠনটির ফেসবুক পেইজ রয়েছে। আগ্রহীরা সেখানেও যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও যোগাযোগ করা যাবে bijoy24bangla@gmail.com ইমেইলটিতেও।

জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধা জেলার দায়িতপ্রাপ্ত নাজমুল হাসান সোহাগ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা তথা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় রাখতে হবে ও বিকল্পকে চিরজাগ্রত করতে হবে। আমরা দেশ ও জাতির আশা আকাঙ্খাকে এবং সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য র্র্অর্ন্তবতীকালীন সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটির মহান বিজয় দিবস পালন 

প্রকাশের সময়: ০৬:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

ফ্যাসিবাদ ব্যবস্থার বিলোপ ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে তরুণ নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের দায়িত্ব পাওয়া নাজমুল হাসান সোহাগ ও মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডলের নির্দেশে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়াও জাতীয় নাগরিক কমিটি সাদুল্লাপুর উপজেলা থেকেও সাদুল্লাপুর উপজেলা শহরের বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে সোমবার সকালে জেলা শহরের ১ নম্বর ট্রাফিক মোড় থেকে একটি বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি পৌরপার্কের বিজয়স্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিজয়স্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে পৌরপার্কের গোলচত্ত্বরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধা সদর উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাশেদুল ইসলাম জুয়েল।

বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক কমিটির শুভাকাঙ্খী মাহমুদ নাছের, রোমেল সরকার, লিখন সরকার, ফিদা হাসান আহাদ, আবু তাহের সিজু, মাহমুদ মাফি, সাখাওয়াত হোসেন সগীর ও রওশন আলম পাপুল প্রমুখ। আলোচনা সভায় গাইবান্ধার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। এবং সামনে জুলাই-আগষ্ট আন্দোলনের আকাঙ্খাকে ধারনা করে জনগণের পাশে থাকার কর্মসূচি গ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়।

 

বর্তমানে সংগঠনটি গাইবান্ধার সাত উপজেলায় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। চলতি বছর জুলাই-আগষ্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী, আহত ও শহীদ পরিবারসহ শিক্ষক, আইনজীবী, লেখক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, গৃহিণীসহ সকল শ্রেণিপেশার মানুষ এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।

 

ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহনকারী ও নেতৃত্বদানকারীদের উদ্যোগে সংহতি, প্রতিরোধ, পুনর্গঠন এই শ্লোগাণে গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই কমিটি আত্মপ্রকাশ করে। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের অংশগ্রহনে সারাদেশে এই কমিটি গঠন হচ্ছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা: রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার, লিফট-১৫, ফ্লোর-৩, ১১৪ কাজী নজরুল ইসলাম সরণী, বাংলা মোটর, ঢাকা-১২০৫।

 

কেন্দ্রীয় জাতীয় নাগরিক কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধায় জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন নাজমুল হাসান সোহাগ ও মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডল। এর মধ্যে পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর উপজেলা কমিটির জন্য নাজমুল হাসান সোহাগ (০১৭৩৪-৬৭৩৮৪৮), ফুলছড়ি-সাঘাটায় মাহামুদ মোত্তাকিম মন্ডল (০১৭৭০-৮৩৫৯৬৯), সদরে রাশেদুল ইসলাম জুয়েল (০১৭৩৬-৬৭৫১২৩), সুন্দরগঞ্জে মো. আজিজুর রহমান (০১৭৭৪-৩৫৫২১৯) এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় আবু তাহেরকে (০১৭৭৪-৩২৪৯০১) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

আগ্রহী ব্যক্তিরা জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য হতে মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন। “জাতীয় নাগরিক কমিটি, গাইবান্ধা জেলা” নামে সংগঠনটির ফেসবুক পেইজ রয়েছে। আগ্রহীরা সেখানেও যোগাযোগ করতে পারবেন। এছাড়াও যোগাযোগ করা যাবে bijoy24bangla@gmail.com ইমেইলটিতেও।

জাতীয় নাগরিক কমিটি গাইবান্ধা জেলার দায়িতপ্রাপ্ত নাজমুল হাসান সোহাগ বলেন, প্রথম ও দ্বিতীয় স্বাধীনতা তথা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালে যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন তাদের স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় রাখতে হবে ও বিকল্পকে চিরজাগ্রত করতে হবে। আমরা দেশ ও জাতির আশা আকাঙ্খাকে এবং সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য র্র্অর্ন্তবতীকালীন সরকার ও দেশবাসীর কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।