মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘাঘটের পেটে ঘরবাড়ি, নদীর স্রোতে অশ্রুজল   

আঁকাবাঁকা বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। টানা বর্ষণে পানির সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। আর এই স্রোতের ধাক্কায় অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। এখন আশ্রয়হীন হয়ে অঝরে কাঁদছে নদীপারের বহু পরিবার।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে- ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনের দৃশ্য। অব্যাহত ভাঙনের ফলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এড়াছাও হুমকির মুখে পড়েছে আরও একাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন- গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। এতে করে সীট জামুডাঙ্গা মুন্সীপাড়া এলাকায় থাকায় শুরু হয়েছে ঘাঘটের অব্যাহত ভাঙন। এ ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যে জহুরুল, সাদা, মুকুল, মচকুট ও মোস্তফাসহ অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। এছাড়া সম্প্রতি ভাঙনে আজিজল, আনোয়ারুল, ফুল মিয়া, নীল মিয়া ও শহিদুলের ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে তাদের বাপ-দাদার ঘরবাড়ি। একই সঙ্গে বাঁশঝাড় ও ফসলী জমিও বিলীন হয়েছে অনেকের। নদী ভাঙনের শিকার মানুষদের মধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধসহ আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে অন্যের জমিতে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগি মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোন সহায়তা মেলেনি তাদের।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানের ভাঙন নতুন করে নয়। এটি দীর্ঘদিনের। এখানে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ একাধিকা দায়িত্বশীলদের জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। তবে দুই বছর আগে জিও ব্যাগ বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারনে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্ত নীল মিয়া কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। এরই মধ্যে ঘাঘট নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন- ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়। প্রতিবেদন দাখিল করে স্থানীয় এমপির কাছে ডিও লেটার নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।

 

জনপ্রিয়

ঘাঘটের পেটে ঘরবাড়ি, নদীর স্রোতে অশ্রুজল   

প্রকাশের সময়: ০৯:১৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

আঁকাবাঁকা বয়ে গেছে ঘাঘট নদী। টানা বর্ষণে পানির সঙ্গে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। আর এই স্রোতের ধাক্কায় অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি। এখন আশ্রয়হীন হয়ে অঝরে কাঁদছে নদীপারের বহু পরিবার।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নে সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে- ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনের দৃশ্য। অব্যাহত ভাঙনের ফলে বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। এড়াছাও হুমকির মুখে পড়েছে আরও একাধিক বসতবাড়ি।

স্থানীয়রা বলছেন- গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বেড়েছে স্রোতের গতিবেগ। এতে করে সীট জামুডাঙ্গা মুন্সীপাড়া এলাকায় থাকায় শুরু হয়েছে ঘাঘটের অব্যাহত ভাঙন। এ ভাঙনের কবলে ইতোমধ্যে জহুরুল, সাদা, মুকুল, মচকুট ও মোস্তফাসহ অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। এছাড়া সম্প্রতি ভাঙনে আজিজল, আনোয়ারুল, ফুল মিয়া, নীল মিয়া ও শহিদুলের ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে তাদের বাপ-দাদার ঘরবাড়ি। একই সঙ্গে বাঁশঝাড় ও ফসলী জমিও বিলীন হয়েছে অনেকের। নদী ভাঙনের শিকার মানুষদের মধ্যে অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বাঁধসহ আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে। আবার কেউ কেউ আশ্রয় নিতে শুরু করেছে অন্যের জমিতে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগি মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এ পর্যন্ত সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোন সহায়তা মেলেনি তাদের।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, সীট জামুডাঙ্গা (মুন্সীপাড়া) নামক স্থানের ভাঙন নতুন করে নয়। এটি দীর্ঘদিনের। এখানে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ একাধিকা দায়িত্বশীলদের জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। তবে দুই বছর আগে জিও ব্যাগ বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অদৃশ্য কারনে তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।

ক্ষতিগ্রস্ত নীল মিয়া কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, দরিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করে সংসার চালিয়ে আসছিলাম। এরই মধ্যে ঘাঘট নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে ঘরবাড়ি। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণভাবে বসবাস করে আসছি। এখন পর্যন্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় দুর্বিসহ জীবন-যাপন করছি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন- ইতোমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়। প্রতিবেদন দাখিল করে স্থানীয় এমপির কাছে ডিও লেটার নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ করা হবে।