গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গভীর রাতে মমতাজ বেগম (৬০) নামের এক বিধবা নারীর গোয়ালঘর ও বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আগুনে একটি গাভী ও তিনটি ছাগল গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ির বিভিন্ন মালামাল পুড়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী মোছা. মমতাজ বেগম উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী মমতাজ বেগমের স্বামী মজিবর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকেই একই গ্রামের মোশারফ হোসেন মিলন, হাফিজুর রহমান, দুলু মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ভুক্তভোগীর স্বামীর নামীয় জমি দখলে রাখে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছু জমি ছেড়ে দিলেও বাকি জমি এখনও জোরপূর্বক দখলে রেখেছে তারা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জমিতে যাওয়া-আসা করলেই তাকে ও পরিবারের সদস্যদের মারধর, খুন ও গুমের হুমকি দেওয়া হতো। বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকির ঘটনায় চলতি বছরের ১৫ মার্চ সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন তারা।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে সংঘবদ্ধভাবে প্রতিপক্ষের লোক তার বাড়িতে প্রবেশ করে চিৎকার-চেঁচামেচি ও গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে গোয়ালঘরে আগুন ধরিয়ে দিলে মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুনে গোয়ালঘরে থাকা একটি গাভী ও তিনটি ছাগল দগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়। এছাড়া বসতঘরের বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমি একজন অসহায় বিধবা নারী। স্বামীর রেখে যাওয়া সামান্য সম্পদ নিয়েই বেঁচে ছিলাম। এখন আগুনে আমার গোয়ালঘর, গবাদিপশু ও ঘরের জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ও আমার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছিল। এখন গভীর রাতে বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা একত্রিত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন মিলনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘এবিষয়ে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগমের এজাহার পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 










