গাইবান্ধার সাঘাটায় আলোচিত ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার সময় আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিন ৪৮ দিন পরে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে মারা গেছেন। স্থানীয় যুবদল নেতা মোখলেছুর রহমান মুকুল এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে স্বজনদের অভিযোগ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহতের বাবা ও উপজেলা জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য সামছুল হোদা দুদু। আজ সকাল ৭ টা ৪০ মিনিটে মারা যায় বলে তিনি জানান।
সাঘাটা উপজেলা যুব জামায়াতের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান আপেল বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। জামায়াত-শিবিরকে কোন ঠাসা করতেই পরিকল্পিত ভাবে সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশাসন সব জেনের আসামিদের ধরছেন না।
সাঘাটা উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাজেদুর রহমান সাদা জানান, দিন দুপুরে এমন হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে সেই চাকু পলাশ এখনো এলাকায় ঘুড়ে বেড়ায়। মুকলের বাবা এখনো মানুষকে মাঝে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন । প্রশাসন নিরব কেন ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুন সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের বিষয়ে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে স্কুলটির প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লার সাথে যুবদল নেতা মুকুলের কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যায়। এর ১০ মিনিট পর শিবির নেতা সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন বোনারপাড়া-সাঘাটা সড়কের উপজেলা সংলগ্ন বোনারপাড়া চৌমাথায় দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় যুবদল নেতা মুকুল মিয়ার নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৩ জন ছুরি দিয়ে জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে আঘাত করে। এসময় বোনারপাড়া ইউনিয়ন শিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাজ বারী এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে রাস্তার ফেলে গলায় ছুরিকাঘাত করেন যুবদল নেতা মুকুল মিয়াসহ কয়েকজন । পরে স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইফুল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী সালাউদ্দিনকে বগুড়া জিয়াউর রহমান হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় । দীর্ঘ ৪৮ দিন চিকিৎসার পরে আজ ৮ আগস্ট সকালের দিকে মারা যায় ।
এ ঘটনায় নিহত শিবির নেতা সাইফুল্লাহর বাবা হাবিবুর রহমান ২২ জুন সাঘাটা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ঘটনার পরপরই দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে মোখলেছুর রহমান মুকুলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়।
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, সাইফুল্লাহ বারী হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি মোখলেছুর রহমান মুকুলসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















