বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুধু নারীই নয়, সমাজে বাড়ছে পুরুষ নির্যাতনও

শুধু নারীই নয়, সমাজে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পুরুষ নির্যাতনও।  গতনএকমাসে একই ইউনিয়নে এ রকম ২৫ জন পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর  উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে এক পরিসংখ্যানে এ রকম একটি হিসাব মিলেছে।

স্ত্রী’র নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রায় ২৫ জন পুরুষ পুলিশের দারস্থ হয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ মান-সম্মান তথা সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে নিরবে চেপে যাচ্ছেন এসব নির্যাতনের কাহীনি।

স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে নারীরা আর তেমন বিচার প্রার্থী না হলেও স্ত্রীকে ফিরে পেতে অনেক স্বামীই পুলিশসহ স্থানীয় গ্রাম্য আদালতের স্বরনাপন্ন হচ্ছেন।

পরকিয়া প্রেম,গামের্ন্টেসে চাকুরী, শ্বশুরালয়ে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে একটু সমস্যা হলেই স্ত্রী সন্তান নিয়ে পিতার বাড়িতে হাজির হয়ে আর স্বামীর সংসারে ফিরছেনা। গত একমাসে ধাপেরহাট এবং পার্শ্ববর্তী ইদিলপুর ইউনিয়নে এ রকম ভূক্তভোগী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বামী স্ত্রীকে ফিরে পেতে পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

২-১ জন স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসায় স্বামীর সংসারে ফিরে এলেও বাকীরা সব সংসার করবেন না মর্মে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

এমন ভূক্তভোগী অনেক স্বামীর সংসারেই রয়েছে ১ থেকে ৪টি পর্যন্ত ছেলে মেয়ে। এ সকল দম্পতির বিয়ের বয়স ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত গড়িয়েছে। স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হলেও স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে চানননা অনেক পুরুষই।

তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই আবার স্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রীকে ডির্ভোস দিতে বাধ্য হচ্ছে। মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা এড়াতে অতিকষ্টে ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও স্থানীয় ভাবে শালীশি বৈঠকের মাধ্যমে দেন মোহরানা ও খোরপোষ বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

প্রতিদিন এমন ভূক্তভোগি স্বামীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ছুটছে গ্রামে থেকে গ্রামে। গত একমাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ধাপেরহাটের মামুন শেখের স্ত্রী রিপা আক্তার, আনারুলের স্ত্রী শিমুলি, তাহেরুলের স্ত্রী হাজেরা বেগম, আনারুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম, এ.কে.এম নূর ফয়সালে স্ত্রী রিনা বেগম, লিটন মিয়ার স্ত্রী রোকছানা বেগম, মোঃ শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী নারগিছ বেগম, মিলন মিয়ার স্ত্রী নূর নাহার বেগম, ইদিলপুরের মুক্তার সরকারের স্ত্রী আকলিমা, জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রীর জান্নাতী, মানিক মিয়ার স্ত্রী শিরিনা, মাহাবুরের স্ত্রী শাহীনুর, সোনা মিয়ার স্ত্রী নাজমিন, শাহজাহানের স্ত্রী নারগিছসহ এ রকম প্রায় ৪০জন স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল আজিজ জানান, আগে বিচার আসতো স্ত্রীদের স্বামী তাকে নিচ্ছে না, আর এখন হয়েছে তার উল্টোটা। স্ত্রী স্বামীর সংসার করছেনা। প্রায়ই অভিযোগ আসে বউ গেছে বাপের বাড়ি, চেয়ারম্যান সাহেব বউ এনে দাও। আগের তুলনায় বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েই চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সেরাজুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, বর্তমানে সমাজে এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার পিছনে আমি মনে করি, যারা শহরে ছোট-খাটো চাকুরি, ভ্যানরিকশা চালিয়ে বা গার্মেন্ট শ্রমিক ছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশে চলমান করোনাকালীন সময়ে অনেক পুরুষ চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। অর্থ সংকটের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনো-মালিন্য, সাংসারিক কলহের জের ধরে অনেক স্ত্রী পর পুরুষের সাথে পরকিয়ার টানে উধাও আবার কেউবা পিতার বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। সমাজে বর্তমান এ ব্যধি মারাত্নক আকার ধারণ করেছে। যা মোটেই কাম্য নয়।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জাগো২৪.নেট-তে বলেন, ৪-৫টি কারণে বর্তমান সমাজে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন অসম বয়সে বিয়ে, মোবাইল, ইন্টারনেট,আর্থিক সংকট, আবার কিছু মেয়েদের বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে সমাজে এমন অপরাধ বেড়েই চলছে।

 

জনপ্রিয়

শুধু নারীই নয়, সমাজে বাড়ছে পুরুষ নির্যাতনও

প্রকাশের সময়: ১২:৩২:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ অগাস্ট ২০২১

শুধু নারীই নয়, সমাজে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পুরুষ নির্যাতনও।  গতনএকমাসে একই ইউনিয়নে এ রকম ২৫ জন পুরুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর  উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে এক পরিসংখ্যানে এ রকম একটি হিসাব মিলেছে।

স্ত্রী’র নির্যাতনের স্বীকার হয়ে প্রায় ২৫ জন পুরুষ পুলিশের দারস্থ হয়েছেন। আবার অনেক পুরুষ মান-সম্মান তথা সামাজিকতা রক্ষা করতে গিয়ে নিরবে চেপে যাচ্ছেন এসব নির্যাতনের কাহীনি।

স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে নারীরা আর তেমন বিচার প্রার্থী না হলেও স্ত্রীকে ফিরে পেতে অনেক স্বামীই পুলিশসহ স্থানীয় গ্রাম্য আদালতের স্বরনাপন্ন হচ্ছেন।

পরকিয়া প্রেম,গামের্ন্টেসে চাকুরী, শ্বশুরালয়ে পারিবারিক বিষয়াদি নিয়ে একটু সমস্যা হলেই স্ত্রী সন্তান নিয়ে পিতার বাড়িতে হাজির হয়ে আর স্বামীর সংসারে ফিরছেনা। গত একমাসে ধাপেরহাট এবং পার্শ্ববর্তী ইদিলপুর ইউনিয়নে এ রকম ভূক্তভোগী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন স্বামী স্ত্রীকে ফিরে পেতে পুলিশের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন।

২-১ জন স্থানীয় ভাবে আপোষ মিমাংসায় স্বামীর সংসারে ফিরে এলেও বাকীরা সব সংসার করবেন না মর্মে সাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছে।

এমন ভূক্তভোগী অনেক স্বামীর সংসারেই রয়েছে ১ থেকে ৪টি পর্যন্ত ছেলে মেয়ে। এ সকল দম্পতির বিয়ের বয়স ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত গড়িয়েছে। স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হলেও স্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে চানননা অনেক পুরুষই।

তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই আবার স্ত্রীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রীকে ডির্ভোস দিতে বাধ্য হচ্ছে। মামলা মোকদ্দমার ঝামেলা এড়াতে অতিকষ্টে ভিটেমাটি বিক্রি করে হলেও স্থানীয় ভাবে শালীশি বৈঠকের মাধ্যমে দেন মোহরানা ও খোরপোষ বুঝিয়ে দিচ্ছেন।

প্রতিদিন এমন ভূক্তভোগি স্বামীদের লিখিত অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ছুটছে গ্রামে থেকে গ্রামে। গত একমাসের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ধাপেরহাটের মামুন শেখের স্ত্রী রিপা আক্তার, আনারুলের স্ত্রী শিমুলি, তাহেরুলের স্ত্রী হাজেরা বেগম, আনারুল ইসলামের স্ত্রী রুপালী বেগম, এ.কে.এম নূর ফয়সালে স্ত্রী রিনা বেগম, লিটন মিয়ার স্ত্রী রোকছানা বেগম, মোঃ শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী নারগিছ বেগম, মিলন মিয়ার স্ত্রী নূর নাহার বেগম, ইদিলপুরের মুক্তার সরকারের স্ত্রী আকলিমা, জাহাঙ্গীর মিয়ার স্ত্রীর জান্নাতী, মানিক মিয়ার স্ত্রী শিরিনা, মাহাবুরের স্ত্রী শাহীনুর, সোনা মিয়ার স্ত্রী নাজমিন, শাহজাহানের স্ত্রী নারগিছসহ এ রকম প্রায় ৪০জন স্বামী স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান (দায়িত্বপ্রাপ্ত) আব্দুল আজিজ জানান, আগে বিচার আসতো স্ত্রীদের স্বামী তাকে নিচ্ছে না, আর এখন হয়েছে তার উল্টোটা। স্ত্রী স্বামীর সংসার করছেনা। প্রায়ই অভিযোগ আসে বউ গেছে বাপের বাড়ি, চেয়ারম্যান সাহেব বউ এনে দাও। আগের তুলনায় বর্তমানে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়েই চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে, ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সেরাজুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, বর্তমানে সমাজে এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার পিছনে আমি মনে করি, যারা শহরে ছোট-খাটো চাকুরি, ভ্যানরিকশা চালিয়ে বা গার্মেন্ট শ্রমিক ছিল।

তিনি আরও বলেন, দেশে চলমান করোনাকালীন সময়ে অনেক পুরুষ চাকুরী হারিয়ে বেকার হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। অর্থ সংকটের কারণে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনো-মালিন্য, সাংসারিক কলহের জের ধরে অনেক স্ত্রী পর পুরুষের সাথে পরকিয়ার টানে উধাও আবার কেউবা পিতার বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। সমাজে বর্তমান এ ব্যধি মারাত্নক আকার ধারণ করেছে। যা মোটেই কাম্য নয়।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জাগো২৪.নেট-তে বলেন, ৪-৫টি কারণে বর্তমান সমাজে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন অসম বয়সে বিয়ে, মোবাইল, ইন্টারনেট,আর্থিক সংকট, আবার কিছু মেয়েদের বেপরোয়া জীবনযাপনের কারণে সমাজে এমন অপরাধ বেড়েই চলছে।