গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে নিলারাণী সরকার ও তার ছেলে হিমাংশু সরকার অচেতন হয়ে পড়েছে। এসময় তাদের ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট করে নিয়েছে সংঘবদ্ধ চক্রটি।
মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় অচেতন অবস্থায় দেখা যায় মা ও ছেলেকে।
জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বড় দাউদপুর গ্রামের হোমিও চিকিৎসক অনিল চন্দ্র সরকার তার মাদারগঞ্জ চেম্বারে রোগি দেখছিলেন। এসময় বাড়িতে ছিল তার স্ত্রী নিলারাণী ও হিমাংশু। রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ির রান্নার খাবার খেয়ে মা-ছেলে দুজনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এরপর রাত সাড়ে ১১ টার দিকে অনিল চন্দ্র বাড়িতে ফিরে ডাকাডাকি করে। বাড়ির ভেতর থেকে কোন শব্দ না পাওয়ায় প্রাচীর টপকিয়ে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে তিনি। এরপর দেখতে পায় স্ত্রী-সন্তান অচেতন হয়ে পড়ে রয়েছে। তাৎক্ষণিক অন্যান্য রুমে ভাঙটুর লুটপাটের দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায়।
হোমিও চিকিৎসক অনিল কুমার সরকার বলেন, একটি সংঘব্ধ চক্রের সদস্যরা আমাদের রান্নার খাবারে চেতনা নাশক ওষুধ দিয়েছিল। সেই খাবার খেয়ে স্ত্রী-সন্তান অচেতন হয়ে পড়ে। ঘটনায় দুর্বৃত্তরা আলমারি ও ট্রাঙ্ক গুলো থেকে তার স্ত্রীর সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণাংকার এবং নগদ ২০ হাজার টাকা লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: সুরঞ্জন কুমার জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে অচেতন অবস্থায় এক নারীসহ ২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেরকে রাতের খাবার কিংবা পানির সাথে উচ্চ মাত্রার ঘুমের কিংবা চেতনানাশক ওষুধ ওষুধ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে রয়েছে।
সাদুল্লাপুর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ বিষয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 



















