শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২২ বছরেও এমপিও হয়নি পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়

কলেজ প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পরেও এমপিওভুক্ত হয়নি পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়টি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অন্য পেশায়ও যেতে পারছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী (রোববার) ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে ওই কলেজ থেকে৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়।
জানা গেছে, পীরগঞ্জের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বিএসসি ২০০০ সালে পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রংপুর – ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন পীরগঞ্জের জামতলা নামকস্থানে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে পাঠদানের জন্য ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। প্রতি বছরই কাম্য এবং কাংখিত শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন, পাশও করছেন। কিন্তু কলেজটি এমপিওভুক্ত না হলেও শিক্ষকরা প্রায় ২ যুগ বিরতিহীনভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
কলেজ সুত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ পাঠদানের অনুমতি এবং ২০০৯ সালের ১ জুলাই স্বীকৃতি পায়। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কলেজটির স্বীকৃতি নবায়ন করা হয়েছে।
সুত্র আরও জানা গেছে, ওই কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র (কোড নং ৫৪৬, পীর রং- ৮) রয়েছে। গত ৫ বছরে এই কলেজেরই ১ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। কলেজে শিক্ষার্থী ভরপুর রাখতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ২০১৫ সালের ১ জুলাই কারিগরি শাখাও খোলা হয়েছে। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৩২৫ জন এবং কারিগরি শাখা থেকে ৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ কৃতকার্য হয়েছেন। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শাখায় ৪২২ জন এবং কারিগরি শাখায় ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছেন বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৮ অংশ নেন। এরমধ্যে ৩ জন জিপিএ-৫ সহ ১৬৩ জন কৃতকার্য হন।
একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, স্ত্রী, সন্তানদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খরচই দিতে পারি না। আর্থিক কারণে পরিবারের কাছে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। শিক্ষকতার চাকরী ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা তো তা পারি না। লেখাপড়া শিখে এই বয়সে আর যাবারও জায়গা নেই। আবার কৃষি কাজও করতে পারবো না। এমন জ্বালা সহ্য করাও মুশকিল।
কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা বিরতিহীনভাবে কলেজে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আমরা উপজেলায় লেখাপড়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছি। বছরের পর বছর বিনাবেতনে শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরী করে হাফিয়ে উঠেছেন। তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য আমরা অনেকবার আবেদন করেছি। এবারও অনলাইনে আবেদন করেছি। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বিএসসি বলেন, ২০০০ সালে আমি নিজে জমি দান করে অনেক শ্রম, সাধনা করে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার জীবনের শেষ বয়সে কলেজটি এমপিওভুক্ত দেখে যেতে চাই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মন্ডল  জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এবারেও পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছে।
জনপ্রিয়

২২ বছরেও এমপিও হয়নি পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়

প্রকাশের সময়: ১২:৪০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২
কলেজ প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পরেও এমপিওভুক্ত হয়নি পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়টি। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অন্য পেশায়ও যেতে পারছেন না শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত ১৩ ফেব্রুয়ারী (রোববার) ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হলে ওই কলেজ থেকে৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়।
জানা গেছে, পীরগঞ্জের বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ইসমাইল হোসেন বিএসসি ২০০০ সালে পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। রংপুর – ঢাকা মহাসড়ক সংলগ্ন পীরগঞ্জের জামতলা নামকস্থানে প্রতিষ্ঠিত কলেজটিতে পাঠদানের জন্য ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে। প্রতি বছরই কাম্য এবং কাংখিত শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছেন, পাশও করছেন। কিন্তু কলেজটি এমপিওভুক্ত না হলেও শিক্ষকরা প্রায় ২ যুগ বিরতিহীনভাবে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন।
কলেজ সুত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালের ২৭ মার্চ পাঠদানের অনুমতি এবং ২০০৯ সালের ১ জুলাই স্বীকৃতি পায়। আগামী ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কলেজটির স্বীকৃতি নবায়ন করা হয়েছে।
সুত্র আরও জানা গেছে, ওই কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র (কোড নং ৫৪৬, পীর রং- ৮) রয়েছে। গত ৫ বছরে এই কলেজেরই ১ হাজার ৫৯০ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছেন। কলেজে শিক্ষার্থী ভরপুর রাখতে সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি ২০১৫ সালের ১ জুলাই কারিগরি শাখাও খোলা হয়েছে। ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৩২৫ জন এবং কারিগরি শাখা থেকে ৮৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে শতভাগ কৃতকার্য হয়েছেন। বর্তমান শিক্ষাবর্ষে সাধারণ শাখায় ৪২২ জন এবং কারিগরি শাখায় ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছেন বলে জানা গেছে। ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৮ অংশ নেন। এরমধ্যে ৩ জন জিপিএ-৫ সহ ১৬৩ জন কৃতকার্য হন।
একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে বলেন, স্ত্রী, সন্তানদের নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক খরচই দিতে পারি না। আর্থিক কারণে পরিবারের কাছে মাথা নিচু করে থাকতে হয়। শিক্ষকতার চাকরী ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার জন্য তারা চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আমরা তো তা পারি না। লেখাপড়া শিখে এই বয়সে আর যাবারও জায়গা নেই। আবার কৃষি কাজও করতে পারবো না। এমন জ্বালা সহ্য করাও মুশকিল।
কলেজের অধ্যক্ষ সাদেকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আমরা বিরতিহীনভাবে কলেজে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। আমরা উপজেলায় লেখাপড়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছি। বছরের পর বছর বিনাবেতনে শিক্ষক-কর্মচারীরা চাকরী করে হাফিয়ে উঠেছেন। তিনি আরও বলেন, এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য আমরা অনেকবার আবেদন করেছি। এবারও অনলাইনে আবেদন করেছি। কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ইসমাইল হোসেন বিএসসি বলেন, ২০০০ সালে আমি নিজে জমি দান করে অনেক শ্রম, সাধনা করে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেছি। আমার জীবনের শেষ বয়সে কলেজটি এমপিওভুক্ত দেখে যেতে চাই।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মমিন মন্ডল  জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এবারেও পীরগঞ্জ মহাবিদ্যালয়সহ প্রায় অর্ধশত বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করেছে।