সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক নিয়োগ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ভাতা প্রদান, অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল লতিফ মির্জা সড়কে অবস্থিত সিরাজগঞ্জ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. সাবিনা ইয়াসমিন দীর্ঘদিন যাবৎ নানা অনিয়ম করে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করে আসছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রতিবছরের চিকিৎসা ভাতা ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদানের নাম ও বিভিন্ন কাজের অজুহাত দেখিয়ে অভিভাবকদের কাছে থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে অবৈধভাবে ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা ভাতার কোন অর্থই শিক্ষার্থীরা পায়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানিয়েছেন। অভিভাবক ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে জানান, প্রধান শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন চিকিৎসা ভাতার অর্থ দিবেন বলে আশ্বাস দিয়ে আসছেন।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের যথাযথ বিধিবিধান লঙ্ঘন করে কোন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নানা অনিয়মের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের নাম করে গোপনীয় ভাবে বিভিন্ন প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষকরা বলেন, বিভিন্ন সময়ে মোটা অংকের টাকা তিনি নিয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগের নামে টাকা নেয়া, বছরের চিকিৎসা ভাতা ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে প্রদানের নাম করে অভিভাবকদের কাছে থেকে বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা আদায়সহ নানা অভিযোগ প্রধান শিক্ষিক সাবিনা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে। অনিয়ম, দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্কুলে শিক্ষকরা,। এবিষয়ে প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ধার হিসাবে টাকা নিয়েছি। চাকরী দেওয়ার কথা বলে কোন টাকা নেওয়া হয়নি।
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি শহিদুল আলম বলেন, এবিষয় নিয়ে সুইট বাংলাদেশ থেকে গত ২৫ আগষ্ট একটি টিম এসেছিল। তাদের তদন্তে টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে। পরে টাকা ফেরত দেওয়া আদেশ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক সাবিনাকে।
সেলিম রেজা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, সিরাজগঞ্জ 



















