মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়কে ধস, প্রশ্নের মুখে সেতু প্রকল্প

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এলজিইডির নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণমান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ধসের বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতু। নির্মাণ কাজ ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৯২৫ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও চিলমারী উপজেলার সংযোগ সড়কে নির্মিত হয়েছে মওলানা ভাসানী সেতু।

এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় মো. জয়নাল আবেদিনের (৫৬) সাথে। তিনি বলেন, “দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই সেতু ও সড়ক নির্মাণে। দুই তিনদিনের বৃষ্টির পানির আঘাতেই যদি সেই সড়ক ধসে যায় তাহলে তারা কি কাজ করেছেন? এ ধস দেখার পর থেকে আমাদের ভীষণ ভয় হচ্ছে।

রংপুর থেকে সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী মোছাঃ ফরিদা পারভীন বলেন, “সেতুর পাশেই এ ধরনের গর্ত। বিষয়টি দর্শনার্থীদের জন্য ভয়ানক ঝুকিপূর্ণ। কারণ অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে থাকেন। বছর পার হতে না হতেই এ ধরনের গর্ত। নির্মাণ কাজে কোনো গাফলতি থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছেন।”

কথা হয় আরেক দর্শনার্থী মো. রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, “বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি এ সেতু দেখতে। শুনেছি বহু টাকা ব্যায় হয়েছে এ সেতু নির্মাণে। সময়ও লেগেছে কয়েক বছর। আর বৃষ্টির পানিতেই যদি সেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যায় তাহলে কি কাজ করেছেন তারা?

এ বিষয়ে কথা হয় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির পানিতেই গর্ত তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকা গর্তটা দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবিও জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এটিএম ইন্জিনিয়ার মাজেদ আজাদ জানান, “ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ চলছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আর্চ ব্রীজের সংযোগ সড়কের দু’ধারে পানি নামার ড্রেন স্থাপন না করা পর্যন্ত এ সমস্যাটা লেগেই থাকবে। বিষয়টি শুরুতেও বলেছিলাম।

সড়ক পাকাকরণের কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, “মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তের শহরের মোড় নামক স্থানের সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দেখেছি। ঠিকাদারকে বলাও হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আনাম সড়ক ভেঙ্গে যায় বৃষ্টির পানিতে। আর এখানে নদী ভরাট করে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কাজেই এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

 

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বিষয়টি দেখেছি। খুব শিগগিরই স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজে কোনো গাফলতি হয়নি। ইঁদুরের গর্তদিয়ে পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে কথা হয় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সাথে। তার কাছে বিষয়টি সিম্পল।

জনপ্রিয়

বৃষ্টির পানিতেই সংযোগ সড়কে ধস, প্রশ্নের মুখে সেতু প্রকল্প

প্রকাশের সময়: ০৯:৩০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে এলজিইডির নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতুর সংযোগ সড়কের একাংশে ধস দেখা দিয়েছে। এতে সড়কে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণমান এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

স্থানীয়দের দাবি, ধসের বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত দেশের সর্ববৃহৎ মওলানা ভাসানী সেতু। নির্মাণ কাজ ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৯২৫ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ৪৯০ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৬ মিটার। অর্থায়ন করেছে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (ওফিড)। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ও চিলমারী উপজেলার সংযোগ সড়কে নির্মিত হয়েছে মওলানা ভাসানী সেতু।

এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় মো. জয়নাল আবেদিনের (৫৬) সাথে। তিনি বলেন, “দেশের কোটি কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই সেতু ও সড়ক নির্মাণে। দুই তিনদিনের বৃষ্টির পানির আঘাতেই যদি সেই সড়ক ধসে যায় তাহলে তারা কি কাজ করেছেন? এ ধস দেখার পর থেকে আমাদের ভীষণ ভয় হচ্ছে।

রংপুর থেকে সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী মোছাঃ ফরিদা পারভীন বলেন, “সেতুর পাশেই এ ধরনের গর্ত। বিষয়টি দর্শনার্থীদের জন্য ভয়ানক ঝুকিপূর্ণ। কারণ অনেকেই এখানে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে থাকেন। বছর পার হতে না হতেই এ ধরনের গর্ত। নির্মাণ কাজে কোনো গাফলতি থাকতে পারে বলে তিনি ধারণা করেছেন।”

কথা হয় আরেক দর্শনার্থী মো. রবিউল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, “বগুড়া থেকে পরিবার নিয়ে এসেছি এ সেতু দেখতে। শুনেছি বহু টাকা ব্যায় হয়েছে এ সেতু নির্মাণে। সময়ও লেগেছে কয়েক বছর। আর বৃষ্টির পানিতেই যদি সেই সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে যায় তাহলে কি কাজ করেছেন তারা?

এ বিষয়ে কথা হয় হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, সেতুর সংযোগ সড়কে বৃষ্টির পানিতেই গর্ত তৈরি হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে থাকা গর্তটা দ্রুত স্থায়ীভাবে মেরামতের দাবিও জানান তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিপা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি এটিএম ইন্জিনিয়ার মাজেদ আজাদ জানান, “ধসে যাওয়া অংশে মেরামতের কাজ চলছে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয় বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আর্চ ব্রীজের সংযোগ সড়কের দু’ধারে পানি নামার ড্রেন স্থাপন না করা পর্যন্ত এ সমস্যাটা লেগেই থাকবে। বিষয়টি শুরুতেও বলেছিলাম।

সড়ক পাকাকরণের কাজটি তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী কাজী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, “মওলানা ভাসানী সেতুর উত্তরপ্রান্তের শহরের মোড় নামক স্থানের সংযোগ সড়কে ধস দেখা দিয়েছে। বিষয়টি দেখেছি। ঠিকাদারকে বলাও হয়েছে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, “আনাম সড়ক ভেঙ্গে যায় বৃষ্টির পানিতে। আর এখানে নদী ভরাট করে সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কাজেই এটা স্বাভাবিক বিষয় বলে মনে করেন তিনি।

 

উপজেলা প্রকৌশলী তপন কুমার চক্রবর্তী বলেন, “টানা ভারী বর্ষণের কারণে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বিষয়টি দেখেছি। খুব শিগগিরই স্থায়ীভাবে মেরামতের কাজ করা হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “কাজে কোনো গাফলতি হয়নি। ইঁদুরের গর্তদিয়ে পানি প্রবেশ করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তবে ভয়ের কোনো কারণ নেই বলেও জানান তিনি।

 

এ বিষয়ে কথা হয় জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের সাথে। তার কাছে বিষয়টি সিম্পল।