রংপুরের পীরগঞ্জে সরকারী অর্থয়নে “ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোত্তম ব্যবহার ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে বৃহত্তর রংপুর জেলায় সেচ সম্প্রসারন (ইআইআরপি)” নামীয় প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকবান্ধব বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সরকার।
কৃষি মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন প্রককল্পটি বাস্তবায়ন করছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এিমডিএ)। বিএমডিএ’র পীরগঞ্জ উপজেলা অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্ণিত প্রকল্পের আওতায় অত্র পীরগঞ্জ উপজেলায় এ পর্যন্ত ১১ কিঃমিঃ খাল পুনঃখনন, ২-১৫ একর খাস পুকুর পুনঃখনন, ০৪টি সৌরজালিত পাতকুয়া, ১৩টি এল এল পি (বিদ্যুৎ চালিত ও সৌরচালিত) এবং ৩৩১৫০ টি (ফলেজ, বনজ ও ঔষধী) চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য পুনঃখননকৃত চতরা খালে ০১ টি সাবমারর্সড ওয়্যার, কৃষিপন্য পরিবহনের জন্য ০২ টি ওভার ব্রীজ এবং সেচ দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ১৩০০০ মিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নিমার্ণ করা হযেছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে সাড়ে ৮ কোটি টাকা।
বর্তমানে প্রকল্প গুলো হতে সুফল পেতে শুরু করেছে পীরগঞ্জের সাদারণ কৃষক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়, খাল গুলো পুনঃখননের মাধ্যমে প্রায় ৭০০ হেক্টর জমির জলাবদ্ধতা দুর হয়েছে এবং ২৭৫ হেক্টর জমিতে চলতি খরা মৌসুমে সম্পুরক সেচ প্রদান করা হয়েছে। উপজেলার চতরা ইউনিয়নের বড় বদনাপাড়া গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া বলেন চতরা খাল খননের ফলে তার ০৩ বিঘা জমিতে জলাবদ্ধতা দুর হযেছে। এছাড়া সোলার চালিত এল.এল.পি’র মাধ্যমে করতোয়া নদীর পানি দিয়ে তার নিজস্ব আরও ০৫ বিঘা জমিতে স্বল্প খরচে সেচ প্রদান করা হচ্ছে। এতে তিনি খুবই খুশি।
নলেয়অ বা শান নদী পাহাড়পুর মেজৈার কৃষক আঃ জলীল বলেন যে, শান নদীটি দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় অপদখলের ফলে বর্ষার পানি জমে থাকত। ফলে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা হত। বর্তমানে এটি খননের ফলে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা নিরসন হয়েছে অন্যদিকে নদীর জমানো পানি খরা মৌসুমে সেচ দেয়া যাচ্ছে। নদীটির আরও প্রায় ১৩ কিঃমিঃ খনন বাকি রয়েছে। অবশিষ্ট অংশটিও অতি দ্রæত খনন করা প্রয়োজন। উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দ্বারিকাপাড়া মৌজার কৃষক মোঃ বাবলু মন্ডল বলেন, তার জমিতে সোলার চালিত পাতকুয়া স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিনামুল্যে শাক শবজিতে সেচ করা হয়েছে। এতে সৌরশক্তি ব্যবহারের ফলে জাতয়ি বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ করমে। এছাড়া খননকৃত চতরা খালীট সজেমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায় যে, খালের পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বজন ও ঔষধী চারা রোপন করা হয়েছে ্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় ভুমিকা রাছবে বলে এলাকার সুশীল সমাজ মনে করেন।
প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বিএমডিএ অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ জামিনুর রহমান জানান যে, দীর্ঘদিন ধরে খনন না হওয়ায় প্রকল্পভূক্ত নদী, খাল, বিল ও পুকুর গুলো পুনঃখননে প্রায়শইঃ বিভিন্ন ধরনের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন এবং খাল পাড়ের ভূক্তভোগী জনগনের সহায়তায় প্রকল্পের কাজ সুষ্টভাবে সম্পাদনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কৃষকের কণ্যাণে কলাণে গৃহীত সরকারের কর্মাকানের ফলে এলাকার অর্থনীতে এর প্রভাব পড়বে এবং কৃষক মাষারণ জনগণ উপকৃত হবে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচলক প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমানখান জানান, যে,২৫০.৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের ০৫টি জেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে যেটি ২০২৪ সালে শেষ হবে। এর একটি অংশ পীরগঞ্জ উপজেলাতেও বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৩৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পে, নদী. খাল. বিল পুকুর পূনঃখনন, বৃক্ষরোপন, নবায়নযোগ্য জ¦ালানীর ব্যবহারের মাধ্যমে এলপি ও পাতকুয়া স্থাপননের ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহা বৃষ্পি পানি সংরক্ষণ. জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষিত হবে। প্রকল্পটি বাসবায়িত হলে অত্র অঞ্চলের হাজারো মানুষ বহুমাত্রিক সুবিধা ভোগ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার বেলায়েত, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পীরগঞ্জ (রংপুর) 



















