শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে প্রতিমা

আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও এবার প্রতিমার সঠিক দাম পাওয়ায় খুশি এই সম্প্রদায়ের কারিগররা। প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, এবারের দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা কারিগররা পার করছেন ব্যস্ত সময়।

জানা যায়, একেক জন কারিগর ১৫-২০ টি করে প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন। তবে লাভ কম বেশি যাই হোক উৎসব কমিটির পছন্দের চাহিদা মত তারা প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়। পাশাপাশি পুজোর মাটির সরঞ্জাম হাড়ি, কলস, ঘট, সরা, প্রদীপ, ধূপাতি ইত্যাদিও গড়ছেন কারিগররা।

উপজেলার পুরাতন বন্দর, বামন কুড়ি, সরকারবাড়ী, কুঠিবাড়ী সার্বজনীন মন্দির, বাসুদেব বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরী হচ্ছে এসব মাটির সরঞ্জাম ও দূর্গা প্রতিমা।

প্রতিমা তৈরীতে ক্ষ্যাত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের প্রতিমা কারিগর রতন চন্দ্র মালাকার বলেন, বাপ-দাদার পেশা আকড়ে ধরে আছি। মৃৎশিল্পীদের কেউ খোঁজ খবর নেয় না। তবে এবার করোনা না থাকায় কাজের চাপ খুব বেশি এবং দাম পাচ্ছি গত দু বছরের তুলনায় বেশি। প্রতি বছর দূর্গা উৎসব আসলে কয়টা টাকার মূখ দেখি। সঠিক সময়ে প্রতিমা ডেলিভারী দিতে স্ত্রী-সন্তান ও দুই-তিন জন স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

প্রতিমার লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, ময়ূর, পেঁচা সবকিছু তৈরী শেষ হয়েছে, তবে মুল প্রতিমা দেবী দূর্গার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব প্রতিমা গুলোতে এখনো মাটির প্রলেপ দেয়া হচ্ছে, রং তুলির আচর পরবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর। ৫ দিনের এই শারদ উৎসব শুরু হবে আগামী ১লা অক্টোবর শনিবার থেকে।

গোবিন্দগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ রিমন কুমার তালুকদার জানান, উপজেলায় এবার ১২৬টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয়া দূর্গোৎসব। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ১৭টি, কামদিয়া ইউনিয়নে ১০টি, কাটাবাড়ি ইউপি ৪টি, শাখাহার ইউপি ৬টি, রাজাহার ইউপি ৪টি, সাপমারা ইউপি ৭টি, নাকাইহাট ইউপি ৬টি, দরবস্ত ইউপি ১১টি, তালুককানুপুর ইউপি ১০টি, হরিরামপুর ইউপি ১৫টি, ফুলবাড়ি ইউপি ৪টি, রাখালবুরুজ ইউপি ৬টি, গুমানীগঞ্জ ইউপি ৩টি, কামারদহ ইউনিয়নে ৪টি, কোচাশহর ইউপি ৩টি, শিবপুর ইউপি ৪টি, মহিমাগঞ্জ ইউপি ১১টি, শালমারা ইউনিয়নে একটি পূজা হবে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তনয় কুমার দেব বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অধিকতর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রত্যেক মন্ডপে মন্ডপ কমিটির উদ্যোগে অধিক সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে বলে তিনি জানান।

 

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

আপন হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে প্রতিমা

প্রকাশের সময়: ০২:২৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২

আসন্ন দুর্গা পূজা উপলক্ষে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বাড়লেও এবার প্রতিমার সঠিক দাম পাওয়ায় খুশি এই সম্প্রদায়ের কারিগররা। প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) গোবিন্দগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, এবারের দূর্গোৎসবকে ঘিরে প্রতিমা কারিগররা পার করছেন ব্যস্ত সময়।

জানা যায়, একেক জন কারিগর ১৫-২০ টি করে প্রতিমার অর্ডার নিয়েছেন। তবে লাভ কম বেশি যাই হোক উৎসব কমিটির পছন্দের চাহিদা মত তারা প্রতিমা গড়ছেন আপন হাতের ছোয়ায়। পাশাপাশি পুজোর মাটির সরঞ্জাম হাড়ি, কলস, ঘট, সরা, প্রদীপ, ধূপাতি ইত্যাদিও গড়ছেন কারিগররা।

উপজেলার পুরাতন বন্দর, বামন কুড়ি, সরকারবাড়ী, কুঠিবাড়ী সার্বজনীন মন্দির, বাসুদেব বাড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় তৈরী হচ্ছে এসব মাটির সরঞ্জাম ও দূর্গা প্রতিমা।

প্রতিমা তৈরীতে ক্ষ্যাত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের প্রতিমা কারিগর রতন চন্দ্র মালাকার বলেন, বাপ-দাদার পেশা আকড়ে ধরে আছি। মৃৎশিল্পীদের কেউ খোঁজ খবর নেয় না। তবে এবার করোনা না থাকায় কাজের চাপ খুব বেশি এবং দাম পাচ্ছি গত দু বছরের তুলনায় বেশি। প্রতি বছর দূর্গা উৎসব আসলে কয়টা টাকার মূখ দেখি। সঠিক সময়ে প্রতিমা ডেলিভারী দিতে স্ত্রী-সন্তান ও দুই-তিন জন স্থানীয় শ্রমিক নিয়ে প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে।

প্রতিমার লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, ময়ূর, পেঁচা সবকিছু তৈরী শেষ হয়েছে, তবে মুল প্রতিমা দেবী দূর্গার কাজ এখনো বাকি রয়েছে। এসব প্রতিমা গুলোতে এখনো মাটির প্রলেপ দেয়া হচ্ছে, রং তুলির আচর পরবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার পর। ৫ দিনের এই শারদ উৎসব শুরু হবে আগামী ১লা অক্টোবর শনিবার থেকে।

গোবিন্দগঞ্জ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ রিমন কুমার তালুকদার জানান, উপজেলায় এবার ১২৬টি পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয়া দূর্গোৎসব। এর মধ্যে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ১৭টি, কামদিয়া ইউনিয়নে ১০টি, কাটাবাড়ি ইউপি ৪টি, শাখাহার ইউপি ৬টি, রাজাহার ইউপি ৪টি, সাপমারা ইউপি ৭টি, নাকাইহাট ইউপি ৬টি, দরবস্ত ইউপি ১১টি, তালুককানুপুর ইউপি ১০টি, হরিরামপুর ইউপি ১৫টি, ফুলবাড়ি ইউপি ৪টি, রাখালবুরুজ ইউপি ৬টি, গুমানীগঞ্জ ইউপি ৩টি, কামারদহ ইউনিয়নে ৪টি, কোচাশহর ইউপি ৩টি, শিবপুর ইউপি ৪টি, মহিমাগঞ্জ ইউপি ১১টি, শালমারা ইউনিয়নে একটি পূজা হবে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তনয় কুমার দেব বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা আনন্দঘন পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের লক্ষ্যে সকল প্রকার সতর্কতা অবলম্বন করছি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অধিকতর নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রত্যেক মন্ডপে মন্ডপ কমিটির উদ্যোগে অধিক সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে বলে তিনি জানান।