শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন, এ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের হুমকি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন। এ সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে বিভিন্ন ধরণের গালিগালাজ করে হুমকি দিয়েছে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা শাপলা কুড়ির আসর ক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। জাহিদুল ইসলাম জাহিদ আজকের পত্রিকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

এরআগে, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সুদীপ্ত শামীমকে দেখে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার স্বামী ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরতুজ আলী এবং বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম শহীদ গত ৩০ আগস্ট “স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন সড়ক অবরোধ” শিরোনামে প্রকাশিত খবর নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন কটূক্তি করেন।

একপর্যায়ে তারা বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করার কথা পত্রিকায় লিখেছেন এটা ঠিক হয়নি। কিন্তু তারা পত্রিকায় দেখানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তারা বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন বের করে দেখান। সেখানে লেখা রয়েছে ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে এ লেখাটি কোন পত্রিকায় তারা দেখাতে না পেরে রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন।

জানা যায়, গত ৩০ শে আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কে বিদ্যালয়ের যাতায়াতের সড়ক মেরামতের দাবিতে ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় স্কুল দুটিতে কোনো ক্লাস নেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ শেষে বিদ্যালয় দুটি ছুটি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। এ নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদুল জানান, মঙ্গলবার রাতে  বামনডাঙ্গায় শাপলা কুড়ির আসর চত্বরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাচ্ছিলেন। এসময় বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তাকে পথ আটকে বলেন, আপনার কি করতে পারি আপনি কি সেটা জানেন? আরে আমার নানা সাংবাদিক সভাপতি। কি পরিচয় দিব? আমাদের সব স্টাফ মিলে গাইবান্ধা গিয়ে ইয়া দিয়ে আচ্ছি। আমরা ক্লাস নিছি ভাই স্কুল থেকে বের হয়নি। উনি আমাদের দেখছে নাকি? নিউজ করলো হাকাউ ক্লাস নেওয়া হয়নি মানে? শোনেন আপনি এই নিউজটি করবেন কেন, আপনি কোন এখতিয়ারের করলেন। আপনি নিউজ করতে পারেন না। প্রতিবাদ করব জাতীয় পত্রিকায় আনবো। ফাইজলামি করেন। সরকারী লোকের বিরুদ্ধে নিউজ করলেন। কি বুঝেন ওনি আমার কি করতে পারবে। আমার ভগ্নীপতি নিউজ এডিটর লাখ টাকা বেতন পায়। আপনাকে হ্যালো করলে কি হবে বুঝেন। আর আমার হেডমাস্টার তো ঠসা।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেন বুলু বলেন, সাংবাদিক সুদীপ্ত শামীমকে দেখে প্রথমে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বামী ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরতুজ আলী এবং বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম শহীদ ইতোপূর্বে স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন সড়ক অবরোধ শিরোনামে প্রকাশিত খবর নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন কটূক্তি করেন। তখন আমরা ভয় পেয়ে যাই। কারণ এই বামনডাঙ্গাতেই ২০১৩ সালে ৪ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একজন এমপিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর ঘন্টাখানেক পর বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান কয়েকজন অপরিচিত লোকসহ আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে একই কথা বলে তিনিও উগ্র আচরণ করতে শুরু করেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসাথে এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।

এবিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. হারুনর রশিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক সাংবাদিকদের সঙ্গে এহেন আচরণ করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পথরোধ করে সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আপনাদের বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখতেছি।

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন, এ সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের হুমকি

প্রকাশের সময়: ০৫:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন। এ সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে বিভিন্ন ধরণের গালিগালাজ করে হুমকি দিয়েছে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার বামনডাঙ্গা শাপলা কুড়ির আসর ক্লাব চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। জাহিদুল ইসলাম জাহিদ আজকের পত্রিকার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

এরআগে, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ সুদীপ্ত শামীমকে দেখে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার স্বামী ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরতুজ আলী এবং বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম শহীদ গত ৩০ আগস্ট “স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন সড়ক অবরোধ” শিরোনামে প্রকাশিত খবর নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন কটূক্তি করেন।

একপর্যায়ে তারা বলেন, স্কুল বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করার কথা পত্রিকায় লিখেছেন এটা ঠিক হয়নি। কিন্তু তারা পত্রিকায় দেখানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে তারা বিভিন্ন পত্রিকার অনলাইন বের করে দেখান। সেখানে লেখা রয়েছে ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। স্কুল বন্ধ রেখে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করা হয়েছে এ লেখাটি কোন পত্রিকায় তারা দেখাতে না পেরে রুদ্র মূর্তি ধারণ করেন।

জানা যায়, গত ৩০ শে আগস্ট মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও বামনডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় সংলগ্ন সুন্দরগঞ্জ-রংপুর মহাসড়কে বিদ্যালয়ের যাতায়াতের সড়ক মেরামতের দাবিতে ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় স্কুল দুটিতে কোনো ক্লাস নেওয়া হয়নি। সেই সঙ্গে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ শেষে বিদ্যালয় দুটি ছুটি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। এ নিয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকাসহ একাধিক জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এবং বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শোকজ করেন উপজেলা শিক্ষা অফিস। এ নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম জাহিদুল জানান, মঙ্গলবার রাতে  বামনডাঙ্গায় শাপলা কুড়ির আসর চত্বরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাচ্ছিলেন। এসময় বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান তাকে পথ আটকে বলেন, আপনার কি করতে পারি আপনি কি সেটা জানেন? আরে আমার নানা সাংবাদিক সভাপতি। কি পরিচয় দিব? আমাদের সব স্টাফ মিলে গাইবান্ধা গিয়ে ইয়া দিয়ে আচ্ছি। আমরা ক্লাস নিছি ভাই স্কুল থেকে বের হয়নি। উনি আমাদের দেখছে নাকি? নিউজ করলো হাকাউ ক্লাস নেওয়া হয়নি মানে? শোনেন আপনি এই নিউজটি করবেন কেন, আপনি কোন এখতিয়ারের করলেন। আপনি নিউজ করতে পারেন না। প্রতিবাদ করব জাতীয় পত্রিকায় আনবো। ফাইজলামি করেন। সরকারী লোকের বিরুদ্ধে নিউজ করলেন। কি বুঝেন ওনি আমার কি করতে পারবে। আমার ভগ্নীপতি নিউজ এডিটর লাখ টাকা বেতন পায়। আপনাকে হ্যালো করলে কি হবে বুঝেন। আর আমার হেডমাস্টার তো ঠসা।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মোশারফ হোসেন বুলু বলেন, সাংবাদিক সুদীপ্ত শামীমকে দেখে প্রথমে বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার স্বামী ও সুন্দরগঞ্জ ডি ডব্লিউ ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মরতুজ আলী এবং বামনডাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম শহীদ ইতোপূর্বে স্কুলের ক্লাস বন্ধ রেখে মানববন্ধন সড়ক অবরোধ শিরোনামে প্রকাশিত খবর নিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং বিভিন্ন কটূক্তি করেন। তখন আমরা ভয় পেয়ে যাই। কারণ এই বামনডাঙ্গাতেই ২০১৩ সালে ৪ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। একজন এমপিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এর ঘন্টাখানেক পর বামনডাঙ্গা বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান কয়েকজন অপরিচিত লোকসহ আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি ও সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম জাহিদকে একই কথা বলে তিনিও উগ্র আচরণ করতে শুরু করেন। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সেইসাথে এঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি।

এবিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. হারুনর রশিদ দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারি শিক্ষক সাংবাদিকদের সঙ্গে এহেন আচরণ করতে পারে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

পথরোধ করে সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আপনাদের বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখতেছি।