শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পীরগঞ্জে জমি দখলের পায়তারা

প্রায় ৭ যুগ নিরবিচ্ছন্নভাবে জমি ভোগদখল করার পরেও নাম স্বর্বস ভুমিহীন কল্যাণ সমিতির লোকজন সেই জমি জোর পূর্বক বেদখল দেয়ার চেষ্টা করছে।

এবিষয়ে রংপুর বিজ্ঞ আদালতে এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলা ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায় উপজেলা আলমপুর ইউনিয়নের মৌজা পাটগ্রাম জে.এল নং- ১৭২ সিএস নং ২, ৩ এস.এ খতিয়ান নং- ২২৪ আরএস ৫৮০ সাবেক দাগ ১২১২ হাল দাগ ১৪৮৭ জমির পরিমান ২৯.৯৮ শতকের মধ্যে ২.৪৬ শতক এবং সামাজিক বনবিভাগের ২৪.৯৮ শতক এবং ২.৫৪ জমি খাস খতিয়ান ভূক্ত। উক্ত জমির মালিক ছিলেন জমিদার বীরেন্দ্রনাথ রায়, জমিদার বাবু উক্ত জমি পত্তনের কথা প্রকাশ করলে পাটগ্রামের নিজাম উদ্দিন ১৩৫৪ সালে ১৮ই চৈত্র নয় টাকা খাজনা প্রদান করে জমির মালিকানা প্রাপ্ত হয়।

দীর্ঘদিন বাদী ও তার ওয়ারিশগণ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় আদিবাসী সমিতির নেতা পাঁচগাছী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের পুত্র দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পাটগ্রামের মৃত বালু বিসকের পুত রামছই মুর্মু পিতা টুনু শরেন বাগা সর্দার বধুরাই মুর্মুর পুত্র সুমন খলিপা মৃত সাম মুর্মুর পুত্র ফিলিমন মুর্মু মৃত ইন্দরায়ের পুত্র ছোপল মুর্মু পিতা এন্টা মুর্মুর পুত্র লগেন মুর্মুর পুত্র মৃত বাবু মিয়ার পুত্র হাফেজ মিয়া পিতা- অজ্ঞাত, মৃত আজগার আলীর পুত্র শাহী মিয়া ইমামজ উদ্দিনের পুত্র ভোলা মিয়া ফজল হকের পুত্র নজরুল এবং সংগঠনের ২০ থেকে ৩০ জন লোক লাঠি ও দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত জমি জোর পূর্বক বেদখল করতে হাল চাষ দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এলাকাবাসী ও বাদী তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উক্ত জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে এএস আই আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলের সত্যতা যাচাই করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশের সাথেও অসৌজন্যেমূলক আচরণ করা হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু ফয়সালা করার জন্য নেজাম উদ্দিন ও তার পুত্র আবু বক্কর সিদ্দিক রংপুর সহকারী সিনিয়র আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩১২/২২ বিজ্ঞ আদালত উক্ত জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধজ্ঞা এবং আসামীদের শোকোস করেন।

একাধিক এলাকাবাসীর নিকট জমির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভূমিহীন সমিতির লোকজন জোরপূর্বক উক্ত জমি বেদখল নেয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়াও অনুরুপ ঘটনা ঘটিয়েছে কুমেদপুর ইউনিয়নের বগেরবাড়ী চৈত্রকোল ইউনিয়নের শাল্টি চতরা ইউনিয়নের কাঙ্গুরপাড়া গ্রামে। সেখানে নিজস্ব ভোগদখল করা জমি ভূমিহীন নামে জোড়পূর্বক দখলের চেষ্টায় একাধিক মামলা হয়েছে। এবিষয়ে বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্দুল গোফ্ফার মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিরোধপূর্ণ জমিটি বিবাদী দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল করে আসছে। এবং জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের রয়েছে।

এছাড়াও ভূমিহীন সমবায় সমিতির লোকজন বনবিভাগের বেশ কিছু জমি বেদখল করে নিয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো বিষয়ে বনবিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভূমিহীন নেতা দেলোয়ার হোসেনর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

পীরগঞ্জে জমি দখলের পায়তারা

প্রকাশের সময়: ০৭:০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রায় ৭ যুগ নিরবিচ্ছন্নভাবে জমি ভোগদখল করার পরেও নাম স্বর্বস ভুমিহীন কল্যাণ সমিতির লোকজন সেই জমি জোর পূর্বক বেদখল দেয়ার চেষ্টা করছে।

এবিষয়ে রংপুর বিজ্ঞ আদালতে এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। মামলা ও থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায় উপজেলা আলমপুর ইউনিয়নের মৌজা পাটগ্রাম জে.এল নং- ১৭২ সিএস নং ২, ৩ এস.এ খতিয়ান নং- ২২৪ আরএস ৫৮০ সাবেক দাগ ১২১২ হাল দাগ ১৪৮৭ জমির পরিমান ২৯.৯৮ শতকের মধ্যে ২.৪৬ শতক এবং সামাজিক বনবিভাগের ২৪.৯৮ শতক এবং ২.৫৪ জমি খাস খতিয়ান ভূক্ত। উক্ত জমির মালিক ছিলেন জমিদার বীরেন্দ্রনাথ রায়, জমিদার বাবু উক্ত জমি পত্তনের কথা প্রকাশ করলে পাটগ্রামের নিজাম উদ্দিন ১৩৫৪ সালে ১৮ই চৈত্র নয় টাকা খাজনা প্রদান করে জমির মালিকানা প্রাপ্ত হয়।

দীর্ঘদিন বাদী ও তার ওয়ারিশগণ নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ মঙ্গলবার সকাল ১১ ঘটিকার সময় আদিবাসী সমিতির নেতা পাঁচগাছী ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের পুত্র দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পাটগ্রামের মৃত বালু বিসকের পুত রামছই মুর্মু পিতা টুনু শরেন বাগা সর্দার বধুরাই মুর্মুর পুত্র সুমন খলিপা মৃত সাম মুর্মুর পুত্র ফিলিমন মুর্মু মৃত ইন্দরায়ের পুত্র ছোপল মুর্মু পিতা এন্টা মুর্মুর পুত্র লগেন মুর্মুর পুত্র মৃত বাবু মিয়ার পুত্র হাফেজ মিয়া পিতা- অজ্ঞাত, মৃত আজগার আলীর পুত্র শাহী মিয়া ইমামজ উদ্দিনের পুত্র ভোলা মিয়া ফজল হকের পুত্র নজরুল এবং সংগঠনের ২০ থেকে ৩০ জন লোক লাঠি ও দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উক্ত জমি জোর পূর্বক বেদখল করতে হাল চাষ দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। এলাকাবাসী ও বাদী তাদেরকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। উক্ত জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে এএস আই আলমগীর হোসেন ঘটনাস্থলের সত্যতা যাচাই করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশের সাথেও অসৌজন্যেমূলক আচরণ করা হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু ফয়সালা করার জন্য নেজাম উদ্দিন ও তার পুত্র আবু বক্কর সিদ্দিক রংপুর সহকারী সিনিয়র আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ৩১২/২২ বিজ্ঞ আদালত উক্ত জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে অর্ন্তবর্তীকালীন নিষেধজ্ঞা এবং আসামীদের শোকোস করেন।

একাধিক এলাকাবাসীর নিকট জমির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ভূমিহীন সমিতির লোকজন জোরপূর্বক উক্ত জমি বেদখল নেয়ার চেষ্টা করছে। এছাড়াও অনুরুপ ঘটনা ঘটিয়েছে কুমেদপুর ইউনিয়নের বগেরবাড়ী চৈত্রকোল ইউনিয়নের শাল্টি চতরা ইউনিয়নের কাঙ্গুরপাড়া গ্রামে। সেখানে নিজস্ব ভোগদখল করা জমি ভূমিহীন নামে জোড়পূর্বক দখলের চেষ্টায় একাধিক মামলা হয়েছে। এবিষয়ে বনবিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্দুল গোফ্ফার মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি বলেন বিরোধপূর্ণ জমিটি বিবাদী দীর্ঘদিন যাবত ভোগদখল করে আসছে। এবং জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের রয়েছে।

এছাড়াও ভূমিহীন সমবায় সমিতির লোকজন বনবিভাগের বেশ কিছু জমি বেদখল করে নিয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলো বিষয়ে বনবিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ভূমিহীন নেতা দেলোয়ার হোসেনর সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।