শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষক হান্নান কলাচাষে সফল  

মাদরাসার সহকারী সুপার আব্দুল হান্নান। শিক্ষকতার পাশাপাশি হাল ছাড়েনি বাপ-দাদার কৃষি কাজ। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে করেছেন কলা বাগান। এ বাগান থেকে সফলতার মুখ দেখেছেন। এ বছরে ৪ বিঘা জমিতে কলা চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন এই শিক্ষক।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর গ্রামীন মাঠে দেখা গেছে সারি সারি কলা গাছের দৃশ্য। এসময় পোক্ত কলার ছড়িগুলো গাছ থেকে সংগ্রহ করছিলেন আব্দুল হান্নান। তিনি মহেশপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে ও  স্থানীয় জালাগাড়ী দূর্গাপুর দাখিল মাদরাসার সহকারি সুপার।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হান্নানের বাবা মরহুম সৈয়দ আলীর একজন আদর্শ কৃষক ছিলেন। তার ছেলেকে লাঙলের ঠোঁটের পরিশ্রমে মাষ্টার্স পযর্ন্ত পড়িয়েছেন।  এই ছেলেরা এখন বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় চাকরি করছেন। এর মধ্যে হান্নানও একজন মাদরাসা শিক্ষক।বাবার রেখে যাওয়া জমিগুলোতে চাষাবাদ  করে সফলতা এনেছেন। এরই ধারাবাহীকতায় এবার ৪ বিঘা জমিতে কলার ফলনও বাম্পার হয়েছে।  এসব কলা জমি থেকেই ৪৫ হাজার টাকা শতকরা বিক্রি করেছে। এক বিঘা জমিতে কলার গাছ ৩৬০ টি থেকে ৩৭৫ টি লাগানো যায়। এ পযর্ন্ত কলা বিক্রি করে তিন লাখ টাকা ঘরে তুলেছে।  আরো প্রায় দুই লাখ টাকার বিক্রি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, চাকরির পাশাপাশি  কৃষি কাজ করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এটি অলস কৃষকদের জনন্য নয়। ভোর ৬ টায় উঠি। কলার জমিতে টুকিটাকি কাজ করি। কৃষাণ তো প্রতিদিন দুইজন করে আছেই। এরপর গোসল করে খেয়ে মাদরাসায় যাই। সেখান থেকে এসে কলা বাগানে কাজ করি। এই বাগান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা কাওসার মিশু জানান, কলাচাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সর্বাত্বক সহযোগিতা ‍অব্যাহত রেখেছি। মাঠ পর্যায়ে তাদের রোগ-বালাই ও তা রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আব্দুল হান্নানকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।

 

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শিক্ষক হান্নান কলাচাষে সফল  

প্রকাশের সময়: ০৪:৩৫:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

মাদরাসার সহকারী সুপার আব্দুল হান্নান। শিক্ষকতার পাশাপাশি হাল ছাড়েনি বাপ-দাদার কৃষি কাজ। অন্যান্য ফসলের সঙ্গে করেছেন কলা বাগান। এ বাগান থেকে সফলতার মুখ দেখেছেন। এ বছরে ৪ বিঘা জমিতে কলা চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছেন এই শিক্ষক।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহেশপুর গ্রামীন মাঠে দেখা গেছে সারি সারি কলা গাছের দৃশ্য। এসময় পোক্ত কলার ছড়িগুলো গাছ থেকে সংগ্রহ করছিলেন আব্দুল হান্নান। তিনি মহেশপুর গ্রামের মৃত সৈয়দ আলীর ছেলে ও  স্থানীয় জালাগাড়ী দূর্গাপুর দাখিল মাদরাসার সহকারি সুপার।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল হান্নানের বাবা মরহুম সৈয়দ আলীর একজন আদর্শ কৃষক ছিলেন। তার ছেলেকে লাঙলের ঠোঁটের পরিশ্রমে মাষ্টার্স পযর্ন্ত পড়িয়েছেন।  এই ছেলেরা এখন বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় চাকরি করছেন। এর মধ্যে হান্নানও একজন মাদরাসা শিক্ষক।বাবার রেখে যাওয়া জমিগুলোতে চাষাবাদ  করে সফলতা এনেছেন। এরই ধারাবাহীকতায় এবার ৪ বিঘা জমিতে কলার ফলনও বাম্পার হয়েছে।  এসব কলা জমি থেকেই ৪৫ হাজার টাকা শতকরা বিক্রি করেছে। এক বিঘা জমিতে কলার গাছ ৩৬০ টি থেকে ৩৭৫ টি লাগানো যায়। এ পযর্ন্ত কলা বিক্রি করে তিন লাখ টাকা ঘরে তুলেছে।  আরো প্রায় দুই লাখ টাকার বিক্রি করা সম্ভব।

এ বিষয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, চাকরির পাশাপাশি  কৃষি কাজ করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। এটি অলস কৃষকদের জনন্য নয়। ভোর ৬ টায় উঠি। কলার জমিতে টুকিটাকি কাজ করি। কৃষাণ তো প্রতিদিন দুইজন করে আছেই। এরপর গোসল করে খেয়ে মাদরাসায় যাই। সেখান থেকে এসে কলা বাগানে কাজ করি। এই বাগান থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা লাভ থাকবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা কাওসার মিশু জানান, কলাচাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে সর্বাত্বক সহযোগিতা ‍অব্যাহত রেখেছি। মাঠ পর্যায়ে তাদের রোগ-বালাই ও তা রোধে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আব্দুল হান্নানকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে।