শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাল খনন বদলে দিয়েছে সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ি গ্রামের বেহুলার বিল।নিষ্কাশন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সারাবছরই পানিতে ডুবে থাকতো বিলের প্রায় ৪৫০ হেক্টর কৃষিজমি। দুর্ভোগ পোহাতে হতো রাউতি, ধুলাউড়ি, চৌবাড়িয়া, ভুলবাড়িয়াসহ ৮ গ্রামের প্রায় চার হাজার কৃষকদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স¤প্রতি, নিষ্কাশন খাল পুণঃখননে নেমে গেছে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিলের পানি। চলতি মৌসুমেই জমিতে ফসল রোপণের আশা করছেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা। পুণঃখনন করা হয়েছে উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের বান্নেগাড়া খালও। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধ থাকতো খালপাড়ের ৬ গ্রামের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। জমিতে আটকে থাকছে না বর্ষার পানি। পাট কেটে খালের পানিতে জাগ দিচ্ছেন চাষিরা। এসব খাল খননে বদলে গেছে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষিচিত্র। চাষাবাদের আওতায় এসেছে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি সহ¯্রাধিক হেক্টর কৃষিজমি। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধায় এবার থেকেই সুফল পাবেন চাষিরা, বলছে কৃষিবিভাগ। দ্রæত পানি নিষ্কাশনের ফলে বেহুলা ও বান্নেগাড়া বিলের জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুনসহ রবিশস্য রোপণ করতে পারবেন চাষিরা। লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই।জ¦ালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভ‚গর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।এ ব্যাপারে পাইকশা গ্রামের চাষী ইলাহী মুন্সী বলেন, আমাদের শত শত বিঘা জমি আমরা চাষ করতে পারতাম না। পানি ও কচুরিপানায় ঢেকে থাকতো। দুই এক বিঘা চাষ করতে পারলেও খরা মৌসুমে সেচ দিতে ব্যয় বেড়ে যেতো। কিন্তু এই খাল খননের ফলে যেমন জমি থেকে জলাবদ্ধতা দ‚র হইছে, তেমনই খরার মৌসুমে সেচ নিয়েও দুশ্চিন্তা কমেছে।

আরেক চাষী জানিক শেখ বলেন, এই খাল খননে আমরা খুব উপকৃত হইছি। বছরের অধিক সময় জলে ডুবে থাকা জমিগুলোও আমরা চাষ করতে পারবো। কালাইচারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, খাল খননে ফসল আনা-নেওয়াতে সুবিধা হইছে। এখন আমরা খুব সহজে নৌকা নিয়ে সবকিছু আনা-নেওয়া করতে পারছি। তাছাড়া অনেক জমি পানি বেধে থাকায় চাষ করতে পারতাম না। জমিতে পানি থাকতো। এখন সে অসুবিধা নাই। খালে পানি নেমে যাচ্ছে। চাষ করতে পারবো। কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, ভ‚ উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন পাবনা- নাটোর- সিরাজগঞ্জ (পানাসি) প্রকল্পের আওতায় সাঁথিয়ায় প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল খনন করেছে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা।পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ ভ‚-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন (পানাসি) প্রকল্প পরিচালক এবিএম মাহমুদ হাসান খান জানান, সাঁথিয়া উপজেলার বেহুলা ও বন্নেগাড়া বিলের যে দুটি খাল পুন:খনন হয়েছে। উক্ত খাল দুটি পুন:খননের ফলে প্রায় ১৫শ’ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা দুরীকরণ হবে এবং ৬শ হেক্টর জমিতে এক ফসলী থেকে দুই-তিন ফসলে পরিণত হবে। তিনি আরো জানান, লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভ‚গর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

খাল খনন বদলে দিয়েছে সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষি

প্রকাশের সময়: ০২:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ধূলাউড়ি গ্রামের বেহুলার বিল।নিষ্কাশন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় সারাবছরই পানিতে ডুবে থাকতো বিলের প্রায় ৪৫০ হেক্টর কৃষিজমি। দুর্ভোগ পোহাতে হতো রাউতি, ধুলাউড়ি, চৌবাড়িয়া, ভুলবাড়িয়াসহ ৮ গ্রামের প্রায় চার হাজার কৃষকদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স¤প্রতি, নিষ্কাশন খাল পুণঃখননে নেমে গেছে দীর্ঘদিন আটকে থাকা বিলের পানি। চলতি মৌসুমেই জমিতে ফসল রোপণের আশা করছেন স্থানীয় কৃষিজীবীরা। পুণঃখনন করা হয়েছে উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের বান্নেগাড়া খালও। বর্ষার পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধ থাকতো খালপাড়ের ৬ গ্রামের বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি। জমিতে আটকে থাকছে না বর্ষার পানি। পাট কেটে খালের পানিতে জাগ দিচ্ছেন চাষিরা। এসব খাল খননে বদলে গেছে পাবনার সাঁথিয়ার গ্রামাঞ্চলের কৃষিচিত্র। চাষাবাদের আওতায় এসেছে জলাবদ্ধতায় অনাবাদি সহ¯্রাধিক হেক্টর কৃষিজমি। পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধায় এবার থেকেই সুফল পাবেন চাষিরা, বলছে কৃষিবিভাগ। দ্রæত পানি নিষ্কাশনের ফলে বেহুলা ও বান্নেগাড়া বিলের জমিতে ধান, গম, পেঁয়াজ, রসুনসহ রবিশস্য রোপণ করতে পারবেন চাষিরা। লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই।জ¦ালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভ‚গর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।এ ব্যাপারে পাইকশা গ্রামের চাষী ইলাহী মুন্সী বলেন, আমাদের শত শত বিঘা জমি আমরা চাষ করতে পারতাম না। পানি ও কচুরিপানায় ঢেকে থাকতো। দুই এক বিঘা চাষ করতে পারলেও খরা মৌসুমে সেচ দিতে ব্যয় বেড়ে যেতো। কিন্তু এই খাল খননের ফলে যেমন জমি থেকে জলাবদ্ধতা দ‚র হইছে, তেমনই খরার মৌসুমে সেচ নিয়েও দুশ্চিন্তা কমেছে।

আরেক চাষী জানিক শেখ বলেন, এই খাল খননে আমরা খুব উপকৃত হইছি। বছরের অধিক সময় জলে ডুবে থাকা জমিগুলোও আমরা চাষ করতে পারবো। কালাইচারা গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, খাল খননে ফসল আনা-নেওয়াতে সুবিধা হইছে। এখন আমরা খুব সহজে নৌকা নিয়ে সবকিছু আনা-নেওয়া করতে পারছি। তাছাড়া অনেক জমি পানি বেধে থাকায় চাষ করতে পারতাম না। জমিতে পানি থাকতো। এখন সে অসুবিধা নাই। খালে পানি নেমে যাচ্ছে। চাষ করতে পারবো। কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, ভ‚ উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন পাবনা- নাটোর- সিরাজগঞ্জ (পানাসি) প্রকল্পের আওতায় সাঁথিয়ায় প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল খনন করেছে কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা।পাবনা-নাটোর-সিরাজগঞ্জ ভ‚-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সেচ উন্নয়ন (পানাসি) প্রকল্প পরিচালক এবিএম মাহমুদ হাসান খান জানান, সাঁথিয়া উপজেলার বেহুলা ও বন্নেগাড়া বিলের যে দুটি খাল পুন:খনন হয়েছে। উক্ত খাল দুটি পুন:খননের ফলে প্রায় ১৫শ’ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা দুরীকরণ হবে এবং ৬শ হেক্টর জমিতে এক ফসলী থেকে দুই-তিন ফসলে পরিণত হবে। তিনি আরো জানান, লো লিফট পাম্প ব্যবহারে সেচ কাজ হবে খালের পানিতেই। এতে জ্বালানি সাশ্রয়ে ফসল উৎপাদনের খরচও কমবে চাষিদের। চাপ কমবে ভ‚গর্ভস্থ পানির ব্যবহারেও।