শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোচাশহরে উৎপাদিত শীতবস্ত্র যাচ্ছে সারাদেশে

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নে গড়ে ওঠেছে শতাধিক হোঁশিয়ারি কারখানা। শীতের আগমনিতে এ কারখানাগুলোতে তৈরী করা হচ্ছে চাহিদা সম্পন্ন শীতবস্ত্র। এরই মধ্যে নয়ারহাট নামকস্থানে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার শীতবস্ত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আর এই বস্ত্রগুলো যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কোচাশহর নামক এলাকায় গড়ে ওঠা কুটির শিল্পাঞ্চলের প্রধান বিপণনকেন্দ্র এ বাজারটির অবস্থান পেপুলিয়া গ্রামের নয়ারহাট। নয়া মিয়া সরকার নামের একজন উদ্যোক্তার ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট্ট বাজারটি এখন সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে শীতবস্ত্রের পাইকারী বাজার হিসেবে। পাকিস্তান আমলে গ্রামীণ এ জনপদ পরিচিতি পায় কুটির শিল্পের এলাকা হিসেবে। তখন কেবল সুতি সুতোয় হস্তচালিত মেশিনে বোনা হাত ও পায়ের মোজা শীতকালে আশপাশের হাটবাজারগুলোতে বিক্রি করতেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে উন্নত মেশিন ও উতেল সুতা আমদানী সহজ হলে এখানকার উদ্যোক্তারা শুরু করেন মোজার পাশাপাশি মাফলার, সুয়েটারসহ কয়েকটি আইটেমের শীতবস্ত্র তৈরীর কাজ। কালক্রমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে উৎপাদন হচ্ছে সর্বাধুনিক ডিজাইনের বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র।

স্থানীয় লাবিব হোঁশিয়ারির মালিক তরিকুল ইসলাম জানান,  এ এলাকার শতাধিক কারখানায় অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি শীতবন্ত্র এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের নামকরা শো-রুমে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর, ধারাইকান্দি, রতনপুরসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় উৎপাদিত শীতবস্ত্র বিক্রির বেশ কয়েকটি ছোট ছোট বাজার স্থাপিত হলেও কেবলমাত্র নয়ারহাটেই এখন প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ লাখ টাকার শীতবস্ত্র। আগামী নভেম্বর মাস থেকে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তারা।

আরেক হোঁসিয়ারির মালিক মশিউর রহমান জানান, এখানে কোন ব্যাংক না থাকায় টাকা লেনদেন এবং ঋণ সুবিধাবঞ্চিত হয়ে আছেন এই এলাকার উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ক্ষুদ্র মালিকরা বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্বপ্নছোঁয়া বোতাম ও সেলাইঘরের মালিক ইউসুফ আলী বলেন, সারা বছর ধরে উৎপাদিত শীতবস্ত্র সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় তীব্র শীত হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই এবার ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছেন।

নয়ারহাট হোঁসিয়ারী শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার অভিযোগ করে বলেন,  বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কোচাশহর পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামত করানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যুত সমস্যার পাশাপাশি কোন মোবাইল ফোনের টাওয়ার না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। রাস্তার কারণে বড় গাড়ী এখানে আসতে না পারায় মালামাল ভ্যান বা ছোট পিকআপে করে কোচাশহরে নিতে দ্বিগুন খরচ এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান বলেন কোচাশহরে স্বউদ্যোগে গড়ে তোলা কুটির শিল্পকে সরকারী স্বীকৃতির পাশাপাশি অবিলম্বে এখানকার প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

নন্দীগ্রামে স্বচ্ছতার সহিত কৃষক স্মার্ট কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু 

কোচাশহরে উৎপাদিত শীতবস্ত্র যাচ্ছে সারাদেশে

প্রকাশের সময়: ০৩:১৫:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নে গড়ে ওঠেছে শতাধিক হোঁশিয়ারি কারখানা। শীতের আগমনিতে এ কারখানাগুলোতে তৈরী করা হচ্ছে চাহিদা সম্পন্ন শীতবস্ত্র। এরই মধ্যে নয়ারহাট নামকস্থানে প্রতিদিন প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকার শীতবস্ত্র বিক্রি করা হচ্ছে। আর এই বস্ত্রগুলো যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কোচাশহর নামক এলাকায় গড়ে ওঠা কুটির শিল্পাঞ্চলের প্রধান বিপণনকেন্দ্র এ বাজারটির অবস্থান পেপুলিয়া গ্রামের নয়ারহাট। নয়া মিয়া সরকার নামের একজন উদ্যোক্তার ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা ছোট্ট বাজারটি এখন সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে শীতবস্ত্রের পাইকারী বাজার হিসেবে। পাকিস্তান আমলে গ্রামীণ এ জনপদ পরিচিতি পায় কুটির শিল্পের এলাকা হিসেবে। তখন কেবল সুতি সুতোয় হস্তচালিত মেশিনে বোনা হাত ও পায়ের মোজা শীতকালে আশপাশের হাটবাজারগুলোতে বিক্রি করতেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে উন্নত মেশিন ও উতেল সুতা আমদানী সহজ হলে এখানকার উদ্যোক্তারা শুরু করেন মোজার পাশাপাশি মাফলার, সুয়েটারসহ কয়েকটি আইটেমের শীতবস্ত্র তৈরীর কাজ। কালক্রমে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখানে উৎপাদন হচ্ছে সর্বাধুনিক ডিজাইনের বিভিন্ন প্রকার শীতবস্ত্র।

স্থানীয় লাবিব হোঁশিয়ারির মালিক তরিকুল ইসলাম জানান,  এ এলাকার শতাধিক কারখানায় অত্যাধুনিক মেশিনে তৈরি শীতবন্ত্র এখন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের নামকরা শো-রুমে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গোবিন্দগঞ্জের কোচাশহর, ধারাইকান্দি, রতনপুরসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায় উৎপাদিত শীতবস্ত্র বিক্রির বেশ কয়েকটি ছোট ছোট বাজার স্থাপিত হলেও কেবলমাত্র নয়ারহাটেই এখন প্রতিদিন গড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ লাখ টাকার শীতবস্ত্র। আগামী নভেম্বর মাস থেকে বিক্রির পরিমাণ বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪-৫ কোটিতে গিয়ে পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তারা।

আরেক হোঁসিয়ারির মালিক মশিউর রহমান জানান, এখানে কোন ব্যাংক না থাকায় টাকা লেনদেন এবং ঋণ সুবিধাবঞ্চিত হয়ে আছেন এই এলাকার উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ক্ষুদ্র মালিকরা বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্বপ্নছোঁয়া বোতাম ও সেলাইঘরের মালিক ইউসুফ আলী বলেন, সারা বছর ধরে উৎপাদিত শীতবস্ত্র সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বিক্রি হয়ে যায়। চলতি বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় তীব্র শীত হওয়ার সম্ভবনা আছে। তাই এবার ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছেন।

নয়ারহাট হোঁসিয়ারী শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান সরকার অভিযোগ করে বলেন,  বছরের পর বছর সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিয়েও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য কোচাশহর পর্যন্ত রাস্তাটি মেরামত করানো সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া বিদ্যুত সমস্যার পাশাপাশি কোন মোবাইল ফোনের টাওয়ার না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। রাস্তার কারণে বড় গাড়ী এখানে আসতে না পারায় মালামাল ভ্যান বা ছোট পিকআপে করে কোচাশহরে নিতে দ্বিগুন খরচ এবং চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান বলেন কোচাশহরে স্বউদ্যোগে গড়ে তোলা কুটির শিল্পকে সরকারী স্বীকৃতির পাশাপাশি অবিলম্বে এখানকার প্রয়োজনীয় রাস্তাগুলি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।