সবুজ সরিষা গাছ ও হলুদ ফুলের সমারোহ ঘটেছে ফসলের মাঠজুড়ে। মাঠে মাঠে সরিষার আবাদ সকলের দৃষ্টি কাড়ছে। কাঙ্ক্ষিত ফসল ঘরে উঠাতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন কৃষকরা। সার্বক্ষণিক তদারকি করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। শীতের শিশির ভেজা সকালে ঘন কুয়াশার চাদরে মোড়ানো মাঠ জুড়ে কেবল চোখে পড়ছে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। মৌমাছিরাও মধু আহরণে ফুলে ফুলে গুনগুন করছে। এ যেন এক অপরূপ সৌন্দর্য। সরিষার হলদে ফুলে আকৃষ্ট ও মুগ্ধ হয়ে ছবি তুলছেন কোমলমতি শিশুসহ নানা বয়সের নারী-পুরুষ।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার বিভিন্ন মাঠে এখন সরিষার হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ। শীতের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। চারদিকে সরিষা ফুলের ম-ম গন্ধে মুখরিত ফসলের মাঠগুলো। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে যেমন প্রকৃতির রূপ বদলায়, তেমনি বদলায় ফসলের মাঠ।কখনো সবুজ, কখনো সোনালি, কখনো বা হলুদ। এমনি ফসলের মাঠ পরিবর্তনের এ পর্যায়ে হলুদ সরিষা ফুলের চাদরে ঢাকা পড়ছে ফসলের মাঠ। এদিকে অনুকূল আবহাওয়া এবং রোগ-বালাই ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় এবার ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। সংসারের প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের জোগানের পাশাপাশি লাভজনক বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়া বর্তমান বাজারে সরিষার দাম ভালো থাকায় তারা যথেষ্ট খুশি।
উপজেলার নশরতপুর, তেঁতুলিয়া, আব্দুলপুর, বেলতলী, পশ্চিম সাঁইতাড়া, অমরপুর, ভিয়াইল, পুনট্টিসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, সরিষা ফুলের এমন সুন্দর মনোরম দৃশ্য। কৃষকরা মাঠে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর ৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্জিত হয়েছে ৬৬০ হেক্টর। যা গত বছরের তুলনায় ১১০ হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবছর প্রত্যেক চাষিই লাভবান হবেন। চাষকৃত সরিষার বেশির ভাগরই ফুল এসে গেছে। সরিষা উঠিয়ে আবার বোরো আবাদ করবেন কৃষকরা। স্বল্প সময়, কম খরচ ও কম পরিশ্রমে এই ফসলের আবাদ করে অধিক লাভবান হচ্ছে কৃষকরা।
উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের কৃষক মহসিন আলী বলেন, আমি এবার ৬বিঘা জমিতে সরিষা লাগিয়েছি। কৃষি অফিসের সরবরাহকৃত বীজসহ বাজার থেকে বীজ সংগ্রহ করে সরিষার চাষ করেছি।
প্রতিটি সরিষা গাছেই ফুল ধরেছে। ফুলগুলো আকারে বড় হয়েছে। আমন ধান কেটে জমি তৈরি করে বীজ ছড়িয়ে দিলেই সরিষা হয়ে যায়। তেমন সেচও লাগে না। সরিষা উত্তোলন করে বোরো আবাদের মৌসুমও ধরা যায়।
উপজেলার নশরতপুর গ্রামের রফিকুল আলম বলেন, সরিষা গাছের পাতা মাটিতে ঝরে পরে জৈব সারের কাজ করে। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। সরিষা আবাদের পর জমিতে বোরো ধান আবাদে সারের পরিমাণ তুলনামুলক কম লাগে। সরিষা ধান চাষের অনেকটাই খরচ কমিয়ে দেয়।
উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমেও আবাদ ভালো হবে। প্রতি বিঘায় সরিষার ফলন ৬-৭ মণ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া সরিষার উৎপাদনে কম সার, সেচ, কীটনাশক ও নিড়ানির প্রয়োজন হয় না।
উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে সরিষার তেমন রোগ বালাই নেই বললেই চলে।
কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা শারমিন বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁদের বিনামূল্যে সার, বীজ সরবরাহসহ সার্বিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দূর্যোগ না হলে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















