পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বিভিন্ন মাঠ এ যেন এক হলুদের মেলা। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে এখন চোঁখ জুড়ানো হলুদ রংয়ের অপূর্ব সমাহার । দিগন্ত বিস্তৃত মাঠে এ রং কে রাঙ্গিয়ে নিতে যেন উৎসবে মেতেছেন ফেসবুকে নিজে ফ্রেম বন্দী করছেন অনেকেই। যা প্রকৃতিতেও ভিন্নমাত্রা এনে দিয়েছে।
এ রংয়ের মেলায় যেন প্রকৃতি তার আপন খেলায় বড়ই ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরিষা ফুলের ধার দিয়ে হেঁটে চলা কৃষান-কৃষাণী অথবা শিশুর দল অন্যরকম চিত্র সৃষ্টি করছেন। উপজেলার আলোকঝাড়ি, ভেড়ভেড়ী, আঙ্গারপাড়া, খামারপাড়া, ভাবকী ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ সেঁজেছে অপরুপ সাঁজে। দৃষ্টিনন্দন হয়ে উঠেছে সরিষা ফুলে মোড়া ক্ষেতগুলো।
মৌমাছির দল ও প্রজাপিত সরিষা ফুলে পাখা মেলে আহরণ করছে মধু। ছবি তোলার লোভ সামলাতে না পেরে শীতের সকালে অথবা পড়ন্ত বিকালে সরিষা ক্ষেতে, হলুদের মাঝে নিজেকে রাঙিয়ে তুলতে ছবিও তুলছেন অনেকে। হলুদ রংয়ের মাঝে তোলা ছবি গুলো যেন প্রাণে দোলা দেওয়ার মত।
বিভিন্ন গ্রামের সরিষা চাষীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এবার প্রতি বিঘা জমি থেকে ৬-৭ মণ সরিষা উৎপাদন হবে। সরিষা চাষের অনুকূল পরিবেশের কারণে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।
কড়ইতলা গ্রামের কৃষক রফিক উদ্দিন জানান, প্রতিবিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয় সর্বোচ্চ ৫-৬ হাজার টাকা। প্রতি মণ সরিষা বিক্রি করা যায় ৩-৪ হাজার টাকা করে। প্রতি বিঘাতে ৭-৮মণ সরিষা উৎপাদন হলে বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা লাভ করা যায়। এ ছাড়া সরিষা চাষে তেমন সেচের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া মাত্র ২ মাস সময়ে সরিষা চাষ করা যায়। সরিষার বড় শত্রু জাব পোকা। তবে এই জাব পোকা এবার তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। ফলে বাম্পার ফলন হয়েছে।
সরিষার তেলে রয়েছে অনেক ওষুধি গুণ। আর সরিষার খৈল জমির উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি করে। এবং সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া সরিষার আবাদ করলে ওই জমিতে সরিষার পাতা পড়ে। ফলে জমির উর্বরতা বাড়ে।
এবিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করনের মাধ্যমে সরিষার কাছে অধিক আগ্রহ বাড়ানো হয়েছে রবিশস্য চাষের এবার অনুকূল পরিবেশ ছিল। এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পেলে মানুষ সরিষা আরও বেশি করে আবাদ করবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সজীব আল মারুফ জানান, তেল জাতীয় ফসলের চাষ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের উদ্বুদ্ধকরণ ও পরামর্শ প্রদান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া সরিষা চাষে কৃষকরা লাভবান হওয়ায় এ বছর তারা বেশি জমিতে সরিষা চাষ করছেন। এতে এক জমিতে দুইয়ের বেশি ফসল চাষাবাদ করে কৃষকরা সফল হচ্ছে।
তবে চলতি বছরে আটঘরিয়া উপজেলায় ৩ হাজর ৫শ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২ হাজর ৭৭০ হেক্টর। বৃদ্ধি পেয়েছে ২৯%। তবে এবছর আটঘরিয়া উপজেলায় ৪ হাজার জন কৃষকের মাঝে সরিষা বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে
মাসুদ রানা, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পাবনা 



















