সুলতানা খাতুন (৬৬) দরিদ্র ও অসহায় একজন বিধবা। তাঁর স্বামী মারা গেছেন। নেই ছেলে সন্তানও। তিনি অন্যের বাড়ি থেকে পানি এনে সংসারের প্রয়োজনীয় কাজ-কর্ম করতেন। তাঁর বাড়ি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার সরহদ্দ গ্রামে। তাঁর বাড়িতে টিউবওয়েল পুঁতে (স্থাপন) দেয়ায় তিনি ভীষণ খুশি।
স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে বিধবা সুলতানার বাড়িতে আর্ন এন্ড লাইভ সংস্থার উদ্যোগে ওই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক ও ইউপি সদস্য ২১০ ফুট গভীর আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করে দেয়। ওই টিউবওয়েল পেয়ে খুশিতে আপ্লুত হয়ে পড়েন বিধবা বৃদ্ধা সুলতানা খাতুন।
জানা গেছে, বৃদ্ধা সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে পাশের অন্যের বাড়ি থেকে পানি নিয়ে এসে পারিবারিক কাজকর্ম করেন এবং পুকুরে গোসল করতেন। সরকারিভাবে প্রাপ্ত বিধবা ভাতার টাকা এবং অন্যের বাড়িতে কাজ করে যে টাকা পেত তা দিয়েই তার জীবিকা নির্বাহ হতো। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজাহারুল ইসলাম বাবুলের মাধ্যমে আর্ন এন্ড লাইভ সংস্থার পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন জেসি এ সংবাদ পান। তিনি প্রতিনিধি মাহবযর রহমান ও আব্দুল জব্বারের মাধ্যমে বৃদ্ধা বিধবা সুলতানার বাড়িতে আর্সেনিকমুক্ত একটি টিউবওয়েল স্থাপন করে দেন।
এই টিউবওয়েল পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বৃদ্ধা সুলতানা। তিনি বলেন, ভেবেছিলাম এ পৃথিবীতে আমার কেউ নেই? আল্লাহ আমার এ ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন। এলাকার মেম্বার আর ওই সংস্থার ছেলেরা এসে আমার বাড়িতে টিউবওয়েল পুঁতে (স্থাপন) করে দিলেন। আল্লাহ ওমার (ওদের) ভালো করুক।
আর্ন এন্ড লাইভ সংস্থার প্রতিনিধি আব্দুল জব্বার বলেন, এ সংবাদ পাওয়ার পরেই আমাদের সংস্থার পরিচালক জেসি আপাকে অবগত করি। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বৃদ্ধা সুলতানার বাড়িতে একটি গভীর ও আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল স্থাপন করার আশ্বাস দেন। যা আজ বাস্তবায়িত করা হলো। এরকম আরো অনেকেই আছেন। তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দেয়ার চেষ্টা করা হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















