ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতে প্রকৃতিতে যেন রঙে আগুন লেগেছে ফাগুনে। শীতের খোলস ছাড়িয়ে নবরূপে সেজেছে বৃক্ষরাজি। শুষ্ক আবহাওয়ায় চারিদিকে নজর কাড়ছে সবুজের সমাহার। আর সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়েছে সোনালী রঙের আমের মুকুল। এই মুকুলের মৌ-মৌ গন্ধে মুগ্ধ হয়ে উঠেছে গাইবান্ধার মানুষেরা।
মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেখা গেছে গাইবান্ধার বিভিন্ন শহরের আর গ্রামাঞ্চলের বাসা-বাড়িতে রোপণ করা আম গাছগুলোতে ফুটেছে আমের মুকুল। শুধু বাসা-বাড়িতেই নয়, অনেকে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন আম বাগান। এছাড়া অফিস-আদালত কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আম গাছেও দোলা দিচ্ছে মুকুল। প্রকৃতির খেয়ালে স্বর্ণালিরূপ ধারণ করেছে আবহমান গ্রামবাংলা।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৭ টি উপজেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিটি আমগাছে আশানুরূপ মুকুল আসতে শুরু করেছে। এবারে এসব মুকুল থেকে বেশি পরিমাণ পরিপক্ক আম পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে গাছগুলোতে ওষুধ প্রয়োগসহ নানামুখী পরিচর্যা প্রহণ করছে।
নবির হোসেন নামের এক ব্যক্তি বলেন, গাইবান্ধা জেলার এমন কোন বাড়ি নেই যে, যাদের বাড়িতে আমগাছ নেই। তাই প্রতিটি বাড়িতে ছড়িয়ে ছিঁটিয়ে পড়ছে আমের মুকুল। শুধু আমের মুকুলই নয়, কাঁঠাল, লিচু লেবু প্রভৃতি ফলের গাছের ফুলের গন্ধে চারিদিকে সুবাতাস বইছে। এসব মুকুলে সুবাস যেন মুগ্ধ করে তুলেছে মানুষকে।
কৃষক খাজা মিয়া জানান, কয়েক বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে আমচাষ করেন। বিদেশি জাতের আমগাছগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণ মুকুল এসেছে। এবারে আবহাওয়া অনুকুল থাকলে বাম্পার ফলন পাওয়া যেতে পারে। প্রত্যাশামূলক ফল পেতে সঠিক যত্ন নিচ্ছেন গাছগুলোর।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক বেলাল উদ্দিন জানান, এ জেলার মাটি আম গাছের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ এলাকায় কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আম চাষ করেছেন। তাদের বাগানে বেশ মুকুল দেখা দিয়েছে। তারা যেন লাভবান হতে পারে, সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির 



















