বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন করছে এক প্রেমিকা (২১)। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের খামার
বিষ্ণুগঞ্জ গ্রামের নাপিতপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার সকাল থেকে প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছে প্রেমিকা।
জানা গেছে, পড়াশোনার সময় থেকে উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের খামার বিষ্ণুগঞ্জ গ্রামের নাপিতপাড়ার মানিক রায়ের ছেলে শুভর সাথে টংগুয়া গ্রামের শাহপাড়ার তরুণীর (২১) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের প্রেমের সম্পর্ক দুই বছর ধরে চলছে।
প্রেমিকা জানায়, আমাদের দুইজনের প্রেমের সম্পর্কের প্রমাণ হিসেবে রয়েছে অনেক এসএমএস। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমিক এক বছর ধরে তার সাথে দৈহিক সম্পর্ক করেছে। এক পর্যায়ে তাদের দুইজনের প্রেমের সম্পর্ক প্রেমিকার পরিবার জানতে পারেন। এতে প্রেমিকা প্রেমিক শুভকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রেমিকের পরিবারকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। বিয়েতে প্রেমিকের পরিবার প্রেমিকার পরিবারের নিকট যৌতুক হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করে। তাদের পরিবারের পক্ষে এত টাকা যৌতুক দেয়া সম্ভব নয়। এতে প্রেমিকের পরিবার অন্যত্র তার বিয়ে ঠিক করে। রবিবার তার আশীর্বাদ হওয়ার কথা জানতে পারি এবং বাধ্য হয়ে আমি সকালে তার (প্রেমিকের) বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করি। আমার উপস্থিতি টের পেয়ে প্রেমিক শুভ তার বাড়ি থেকে অন্যত্র পালিয়ে যায়। পরে তার কাকা-কাকি ও পিসি আমাকে জোরপূর্বক ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে। সে আমার সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সে আমাকে বিয়ে না করলে আমি আত্নহত্যা করব। এছাড়া আমার আর কোন পথ নেই।
প্রেমিক শুভ পলাতক থাকায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার পরিবারও এ নিয়ে কোন কথা বলতে রাজি হননি।
ভেড়ভেড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল বলেন, অনশনরত মেয়েটিকে ইউনিয়ন পরিষদে আনা হয়েছে। ছেলেমেয়ের পরিবার যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই হবে। এখানে আমার কোন করার নেই।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) জানান, এ ঘটনায় থানায় কোন অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















