দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১জন আহত হয়েছে। এ সংঘর্ষের ঘটনাটি রবিবার সকাল আনুমানিক পৌঁণে ৯টায় উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের উত্তর পলাশবাড়ি গ্রামে ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার উত্তর পলাশবাড়ি গ্রামের ঘিনা মোহাম্মদ শাহ ওয়াকফ এস্টেটের বর্গাচাষি অহিদুল ইসলাম (৪৪) ও আব্দুস সালাম (৬০) সকালে ওই এস্টেটের বর্গা নেয়া জমির ধান মাড়াই করতে গেলে প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিম ও আনিছুর রহমান তাদেরকে আটক করে এবং ধান মাড়াই করতে বাঁধা প্রদান করে। এসময় তারা ওই এস্টেটের মোতওয়াল্লী মো. মাসুদ বিল্যাহসহ তার পক্ষের লোকজনদের মো. শফিকুল ইসলাম পক্ষের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এনিয়ে উভয়পক্ষের লোকজনদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শফিকুল ইসলাম পক্ষের লোকজন আব্দুর রহিমের ইন্ধনে লাঠি সোডা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের তাজুল ইসলাম (৫০), সাবিনা খাতুন (৩২), সাজু ইসলাম (২৭), নুরল আলম (৪১), আকরাম হোসেন (৪৫), মোকারম হোসেন (৪৭), মাসুদ বিল্যাহ (৪২), নুরজাহান খাতুন (৩২), সাইফুল ইসলাম (৫৫), সোহেল রানা (২৫), তছলিমউদ্দিন (৬০) সহ ১০/১২ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে তাজুল ইসলাম, সাবিনা খাতুন, সাইফুল ইসলাম, সোহেল রানা ও তছলিমউদ্দিনকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর ২০২২ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সভাপতি ও মো. শফিকুল ইসলামকে সম্পাদক/মোতওয়াল্লী নির্বাচিত করে ওই ওয়াকফ এস্টেটের ১১ সদস্য বিশিষ্ট পরিচালনা কমিটি গঠন করে অনুমোদন করা হয়। এর বিরুদ্ধে পূর্বের মোতওয়াল্লী মো. মাসুদ বিল্যাহ মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যাহার নং ১৪৮৫১/২০২২। মহামান্য হাইকোর্ট গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২২ইং শুনানী অন্তে বে-আইনীভাবে গঠিত কমিটির উপর স্থগিতাদেশ প্রদান করেন এবং সকল বিবাদীদের উপর রুল জারী করে আগামী ৬ মাসের জন্য কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়। উক্ত আদেশ নিয়ে পূর্বোক্ত কমিটি হাইকোর্টের আদেশের বিপরীতে কোন আদেশ না হওয়া পর্যন্ত (ইসি নং ১০৪৬২) ঘিনা মোহাম্মদ শাহ্ ওয়াকফ এস্টেটের কার্যক্রম চালানো শুরু করেন। এনিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
পূর্বোক্ত কমিটির মোতওয়াল্লী মাসুদ বিল্লাহ বলেন, হাইকোটের আদেশে তিনি মোতওয়াল্লী হিসেবে কাজ করছেন। আমরা ঘিনা মোহাম্মদ শাহ ওয়াকফ এস্টেটের জমির ধান মাড়াই করতে গেলে প্রতিপক্ষরা বাধা দেয় ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় দু-পক্ষের মধ্যের সংঘর্ষ শুরু হয়।
নবগঠিত কমিটির মোতওয়াল্লী শফিকুল ইসলাম বলেন, হাইকোটের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোটে শুনানী না হওয়া পর্যন্ত পূর্বোক্ত কমিটির লোকজন জোরপূর্বক ধান নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করি। এসময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয় এবং আমাদের পক্ষের লোক বেশি আহত হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বজলুর রশিদ জানান, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. খালিদ হাসান বলেন, হাইকোর্ট ও আদালতে মামলা চলমান। এ অবস্থায় কোন মন্তব্য করা প্রশাসনিকভাবে সুযোগ নাই।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















