শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে মাটি বানিজ্যের মহোৎসব, প্রশাসন নিরব

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কৃষি ভূমিতে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রির মহোৎসবে পরিণত হচ্ছে। এক শ্রেণির স্বার্থন্বেশী ব্যক্তি অবৈধভাবে মাটি বানিজ্যে ফুঁসে ওঠেছে। এসব মাটি অবাধে ট্রাক্টরে বহন করায় নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। আর ধুলাবালুতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষরা। প্রকাশ্যে এই মাটি কেটে সাবার করা হলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সরেজমিনে এমনই এক চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোর্দ্দরুহিয়া গ্রামের একাধিক স্থানে। সেখানে কামারপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল খালেক মিয়া নামের এক ব্যক্তি ভেকু (স্কাভেটর) মেশিন দিয়ে নির্বিকারে মাটি কেটে বিক্রি করছে।

স্থানীয়রা জানায়, সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট সড়ক ঘেঁসে খোর্দ্দরুহিয়া গ্রামের রাশেদ মিয়ার পুকুর থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পুকুরটি গভীর হওয়ার ফলে সদ্য নির্মাণাধীন সড়কটির প্যালাসাইডিং ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া মাটিগুলো ট্রাক্টর দিয়ে অন্যত্র বহন করায় গ্রামীন মেঠোপথসহ পাকা রাস্তা দেবে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে  ফাগুনের হাওয়ায় ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পরিবেশ দূষিতসহ মানুষ শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু ওই স্থানে নয়, খোর্দ্দরুহিয়ার আশপাশের কৃষি মাঠের বিভিন্ন জায়গায় একইভাবে মাটি বানিজ্যে ফুসে ওঠেছে খালেক মিয়া। তিনি থানা পুলিশ ও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় অবাধে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অবৈধ এই আয়েরে টাকায় আব্দুল খালেক মিয়া রাতের বেলায় সাদুল্লাপুর শহরে মদ্যপান করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসভোনীয় আচরণ করছে। এদিকে খালেক মিয়ার এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিতে প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন কর্ণপাত করেনি এমনি অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদুল্যাহেল কবির ফারুক বলেন, নিয়মবহির্ভূত ভাবে মাটি কাটা হলে সেটি প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় সংবাদকর্মীদের বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মাটি উত্তোলন স্থানে পুলিশ পাঠিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু তা এখনো বন্ধ হয়নি। বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাইফুর রহমান বলেন, বিশেষ কাজে আমি ব্যস্ত আছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম জানান, ওইস্থানে মাটি বানিজ্য করা হচ্ছে, সেটি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাদুল্লাপুরে মাটি বানিজ্যের মহোৎসব, প্রশাসন নিরব

প্রকাশের সময়: ০৭:০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ মার্চ ২০২৩

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কৃষি ভূমিতে মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রির মহোৎসবে পরিণত হচ্ছে। এক শ্রেণির স্বার্থন্বেশী ব্যক্তি অবৈধভাবে মাটি বানিজ্যে ফুঁসে ওঠেছে। এসব মাটি অবাধে ট্রাক্টরে বহন করায় নষ্ট হচ্ছে রাস্তাঘাট। আর ধুলাবালুতে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মানুষরা। প্রকাশ্যে এই মাটি কেটে সাবার করা হলেও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

সরেজমিনে এমনই এক চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের খোর্দ্দরুহিয়া গ্রামের একাধিক স্থানে। সেখানে কামারপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল খালেক মিয়া নামের এক ব্যক্তি ভেকু (স্কাভেটর) মেশিন দিয়ে নির্বিকারে মাটি কেটে বিক্রি করছে।

স্থানীয়রা জানায়, সাদুল্লাপুর-ধাপেরহাট সড়ক ঘেঁসে খোর্দ্দরুহিয়া গ্রামের রাশেদ মিয়ার পুকুর থেকে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে। পুকুরটি গভীর হওয়ার ফলে সদ্য নির্মাণাধীন সড়কটির প্যালাসাইডিং ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া মাটিগুলো ট্রাক্টর দিয়ে অন্যত্র বহন করায় গ্রামীন মেঠোপথসহ পাকা রাস্তা দেবে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে  ফাগুনের হাওয়ায় ধুলাবালি উড়ে গিয়ে পরিবেশ দূষিতসহ মানুষ শ্বাসকষ্ট রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শুধু ওই স্থানে নয়, খোর্দ্দরুহিয়ার আশপাশের কৃষি মাঠের বিভিন্ন জায়গায় একইভাবে মাটি বানিজ্যে ফুসে ওঠেছে খালেক মিয়া। তিনি থানা পুলিশ ও কতিপয় রাজনৈতিক ব্যক্তির ছত্রছায়ায় অবাধে মাটি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। অবৈধ এই আয়েরে টাকায় আব্দুল খালেক মিয়া রাতের বেলায় সাদুল্লাপুর শহরে মদ্যপান করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসভোনীয় আচরণ করছে। এদিকে খালেক মিয়ার এই অবৈধ ব্যবসা বন্ধের দাবিতে প্রশাসনকে অবগত করা হলেও কোন কর্ণপাত করেনি এমনি অভিযোগ ভুক্তভোগিদের।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সহীদুল্যাহেল কবির ফারুক বলেন, নিয়মবহির্ভূত ভাবে মাটি কাটা হলে সেটি প্রশাসনের ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় সংবাদকর্মীদের বলেন, মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে মাটি উত্তোলন স্থানে পুলিশ পাঠিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু তা এখনো বন্ধ হয়নি। বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাইফুর রহমান বলেন, বিশেষ কাজে আমি ব্যস্ত আছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও স্যারের সাথে যোগাযোগ করেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. রোকসানা বেগম জানান, ওইস্থানে মাটি বানিজ্য করা হচ্ছে, সেটি তার জানা নেই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।