শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঠের সাঁকোই ভরসা

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি, কুপতলা ও বল্লমঝাড় এই তিন ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের একমাত্র কাঠের সাঁকো। নারায়নপুরের ঘাঘট নদীর উপর নির্মিত জরাজীর্ণ কাঠের সেতুটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ ফুট হলেও অত্যন্ত সরু এবং নিচ থেকে প্রায় ৬০ ফুট উচুঁতে অবস্থিত। এ পথে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারিরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে ঘাঘট নদীর বড়ঘাটে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় সাঁকোটি। তখন থেকেই এর উপর দিয়ে আশপাশের তিন ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে আসছে। বিশেষ করে শহর ঘেষা চকমামরোজপুর, কুপতলার দুর্গাপুর, চাপাদহ, মোল্লাবাজার, বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ি, জামেরতলসহ কয়েক হাজার মানুষ। তিন ইউনিয়নের সীমানা অঞ্চলও বলা হয় বড়ঘাট পাড়ের এই সাঁকোকে। এর আগে মানুষ প্রথমে নৌকা ও পরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করতেন। দুইবছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনি সাঁকোটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেন এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো নির্মাণ করা হয়নি সেই সেতু।

দীর্ঘদিনেও এখানে সেতু নির্মাণ না করায় প্রতিদিন  এলাকার শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হতে হয়। অনেক উচুঁ এবং বহু আগের কাঠের সাঁকো এখন নড়বড়ে হয়। বর্তমানে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সাঁকোটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, যে কোন সময় সাঁকোটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেকেই কথা দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেতু নির্মাণ করা হয়না।

নারায়ণপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলের কোমলমতি শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, ‘সাঁকোটির দুইপাশে স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ এই সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। পাশেই ভেড়ামারা সেতুর কাজ চলছে। ভুক্তভোগী মানুষগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে কতৃপক্ষ দ্রুতই ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সারোয়ার কবির  বলেন,  কাঠের সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে সেতুর ছবিসহ ইতিমধ্যে প্রকল্প কর্মকর্তার নিকট তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

কাঠের সাঁকোই ভরসা

প্রকাশের সময়: ০৭:২৩:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ মার্চ ২০২৩

গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি, কুপতলা ও বল্লমঝাড় এই তিন ইউনিয়নের মানুষের চলাচলের একমাত্র কাঠের সাঁকো। নারায়নপুরের ঘাঘট নদীর উপর নির্মিত জরাজীর্ণ কাঠের সেতুটি। সেতুটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০০ ফুট হলেও অত্যন্ত সরু এবং নিচ থেকে প্রায় ৬০ ফুট উচুঁতে অবস্থিত। এ পথে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পথচারিরা।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৮ বছর আগে ঘাঘট নদীর বড়ঘাটে এলাকাবাসীর উদ্যোগে বাঁশ এবং কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয় সাঁকোটি। তখন থেকেই এর উপর দিয়ে আশপাশের তিন ইউনিয়নের মানুষ যাতায়াত করে আসছে। বিশেষ করে শহর ঘেষা চকমামরোজপুর, কুপতলার দুর্গাপুর, চাপাদহ, মোল্লাবাজার, বল্লমঝাড় ইউনিয়নের খোলাবাড়ি, জামেরতলসহ কয়েক হাজার মানুষ। তিন ইউনিয়নের সীমানা অঞ্চলও বলা হয় বড়ঘাট পাড়ের এই সাঁকোকে। এর আগে মানুষ প্রথমে নৌকা ও পরে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে যাতায়াত করতেন। দুইবছর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহাবুব আরা বেগম গিনি সাঁকোটি সংস্কারের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেন এবং স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এখনো নির্মাণ করা হয়নি সেই সেতু।

দীর্ঘদিনেও এখানে সেতু নির্মাণ না করায় প্রতিদিন  এলাকার শিক্ষার্থী, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হতে হয়। অনেক উচুঁ এবং বহু আগের কাঠের সাঁকো এখন নড়বড়ে হয়। বর্তমানে যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে গেছে। সাঁকোটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, যে কোন সময় সাঁকোটি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অনেকেই কথা দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর সেতু নির্মাণ করা হয়না।

নারায়ণপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক শরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁকোটি অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। স্কুলের কোমলমতি শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বল্লমঝাড় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জুলফিকার রহমান বলেন, ‘সাঁকোটির দুইপাশে স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ শতশত মানুষ এই সাঁকোর উপর দিয়ে যাতায়াত করেন। পাশেই ভেড়ামারা সেতুর কাজ চলছে। ভুক্তভোগী মানুষগুলোর দুর্ভোগ লাঘবে কতৃপক্ষ দ্রুতই ব্যবস্থা নিবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সারোয়ার কবির  বলেন,  কাঠের সাঁকোটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধিনে সেতুর ছবিসহ ইতিমধ্যে প্রকল্প কর্মকর্তার নিকট তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে।