বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জন কারাগারে 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও মারধরের অভিযোগে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।

রবিবার (১৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক ইকবাল হাসান উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করেন। এ মামলায় জেল হাজতে যাওয়া অন্যান্যরা হলেন, মেহেদী হাসান মোহন (২৫), সিপাত হাসান (২২) বিপ্লব চন্দ্র রায় (৩০), মফিজুল ইসলাম, (৪৫) মাসুদ সীকার (২৫), শেখর চন্দ্র (২৫), আরিফ ইসলাম নয়ন(২৮), তৌফিক হাসান তপু (২৫), মোঃ রুবেল হোসেন (৩৫), জাহিদ হোসেন (২৫), নোমান (২২)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লালমিনরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বরাদ্দের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সরকারি বরাদ্দের ৮০ শতাংশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বাকি ২০ শতাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদের ২০ শতাংশ পান উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান।

২০২২-২৩ অর্থ বছরের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের ২০ শতাংশের ভাগাভাগি নিয়ে গত বছরের ৭ নভেম্বর(সোমবার) উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের অফিসে দুই ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার ও আনোয়ার হোসেন মিরুর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার উপজেলা চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন অফিস ত্যাগ করে চলে যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকরা এসে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের অফিস ভাঙচুর করেন। এসময় খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় ঐদিন রাতেই রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনকে প্রধান করে আটজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার। মামলাটি হাতীবান্ধা থানায় নথিভুক্ত না করায় গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হাতীবান্ধা থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এ ঘটনায় হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পান। এরপর নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী হাতীবান্ধা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করেন।পরে আজ আদালতে আবারো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনসহ অন্যরা জামিনের আবদেন করলে না মঞ্জুর করেন আদালত।

লালমনিরহাট জেলা কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামান বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের করা একটি মামলায় (মামালা নাম্বার-১৮তাং১৭/১১/২২) উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।

জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

লালমনিরহাটে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জন কারাগারে 

প্রকাশের সময়: ০৭:০৬:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ মার্চ ২০২৩

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভাংচুর ও মারধরের অভিযোগে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে বিজ্ঞ আদালত।

রবিবার (১৯ মার্চ) সকালে লালমনিরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক ইকবাল হাসান উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করেন। এ মামলায় জেল হাজতে যাওয়া অন্যান্যরা হলেন, মেহেদী হাসান মোহন (২৫), সিপাত হাসান (২২) বিপ্লব চন্দ্র রায় (৩০), মফিজুল ইসলাম, (৪৫) মাসুদ সীকার (২৫), শেখর চন্দ্র (২৫), আরিফ ইসলাম নয়ন(২৮), তৌফিক হাসান তপু (২৫), মোঃ রুবেল হোসেন (৩৫), জাহিদ হোসেন (২৫), নোমান (২২)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, লালমিনরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বরাদ্দের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের ভাগাভাগি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সরকারি বরাদ্দের ৮০ শতাংশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও বাকি ২০ শতাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদের ২০ শতাংশ পান উপজেলা চেয়ারম্যান ও দুইজন ভাইস চেয়ারম্যান।

২০২২-২৩ অর্থ বছরের টিআর ও কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের উপজেলা পরিষদের বরাদ্দের ২০ শতাংশের ভাগাভাগি নিয়ে গত বছরের ৭ নভেম্বর(সোমবার) উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনের অফিসে দুই ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার ও আনোয়ার হোসেন মিরুর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এ সময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার উপজেলা চেয়ারম্যানকে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন অফিস ত্যাগ করে চলে যান। পরে উপজেলা চেয়ারম্যানের সমর্থকরা এসে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের অফিস ভাঙচুর করেন। এসময় খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

এ ঘটনায় ঐদিন রাতেই রাতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনকে প্রধান করে আটজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৪/১৫ জনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার। মামলাটি হাতীবান্ধা থানায় নথিভুক্ত না করায় গত বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার।

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করতে হাতীবান্ধা থানাকে নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার রাতে হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুনসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি নথিভুক্ত করে পুলিশ।

এ ঘটনায় হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মামুন গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পান। এরপর নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জামিন মঞ্জুর করেন। মামলার বাদী হাতীবান্ধা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহার জামিনের বিরুদ্ধে আপিল করেন।পরে আজ আদালতে আবারো উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনসহ অন্যরা জামিনের আবদেন করলে না মঞ্জুর করেন আদালত।

লালমনিরহাট জেলা কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর নুরুজ্জামান বলেন, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেসমিন নাহারের করা একটি মামলায় (মামালা নাম্বার-১৮তাং১৭/১১/২২) উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত।