বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হতে যাচ্ছে খানসামা উপজেলা

“দেশের একটি পরিবারও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না” মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা হতে চলেছে এ  উপজেলা। জমিসহ পাকাঘর প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে সফলভাবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ঠরা।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজলাকে চতুর্থ ধাপে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২২ মার্চ ভার্চুয়ালী ঘোষণা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী  (ইউএনও) রাশিদা। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মারুফ হাসান। তিনি জানান, ইতিপূর্বে ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে যথাক্রমে ৪১০ ৪৪৭ ও ৩০০টি মোট ১ হাজার ১৫৭টি ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। খানসামা উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫০৯ জন। এরমধ্যে  পূর্ণবাসন করা হয়েছে ১ হাজার ১৫৭ জনকে। অবশিষ্ঠ ৩৫২টি ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আরো কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আছে কী না তা জানিয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ঢোল-সহরত, মাইকিং করে ৩৫২ থেকে ১৫৯ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে এসে এ ১৫৯ জনকে জমিসহ গৃহ প্রদানের মাধ্যমে উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারা জমিসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকাঘর, টয়লেট, রান্নাঘর, ইউটিলিটি স্পেস, নলকূপ ও বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। এতে খুশিতে আত্নহারা পিছিয়ে পড়া এসব নিম্ন আয়ের মানুষরা। অনেকে এসব ঘর পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাশিদা আক্তার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি’র পরামর্শে ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সকল সদস্য, বীরমুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজসহ সাংবাদিকদের পরামর্শ নিয়েই সর্বসম্মতিক্রমে এ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খানসামা উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই কর্মযজ্ঞে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সুধীজনের দাবি ‘ক’ শ্রেণির ঘর নির্মাণের পর ভূমিহীন পাওয়া না গেলেও ‘খ’ শ্রেণির অর্থাৎ যাদের জমি আছে, ঘর নাই সেসব পরিবারের জন্য নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। ভূমিহীন না থাকলেও জমি আছে ঘর নেই এসব পরিবারের সংখ্যা এখনো অনেক রয়েছে। তাই তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।
জনপ্রিয়

আবু সাঈদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা প্রতিষ্ঠিত করব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হতে যাচ্ছে খানসামা উপজেলা

প্রকাশের সময়: ০১:৫৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ মার্চ ২০২৩
“দেশের একটি পরিবারও ভূমিহীন-গৃহহীন থাকবে না” মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। এরই ধারাবাহিকতায় ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা হতে চলেছে এ  উপজেলা। জমিসহ পাকাঘর প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে সফলভাবে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ঠরা।
আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উপজলাকে চতুর্থ ধাপে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত উপজেলা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২২ মার্চ ভার্চুয়ালী ঘোষণা করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী  (ইউএনও) রাশিদা। এজন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মারুফ হাসান। তিনি জানান, ইতিপূর্বে ১ম, ২য় ও ৩য় পর্যায়ে যথাক্রমে ৪১০ ৪৪৭ ও ৩০০টি মোট ১ হাজার ১৫৭টি ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় এসেছে। খানসামা উপজেলায় ‘ক’ শ্রেণির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫০৯ জন। এরমধ্যে  পূর্ণবাসন করা হয়েছে ১ হাজার ১৫৭ জনকে। অবশিষ্ঠ ৩৫২টি ‘ক’ শ্রেণির পরিবারকে পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। আরো কোন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার আছে কী না তা জানিয়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ঢোল-সহরত, মাইকিং করে ৩৫২ থেকে ১৫৯ জনের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায়ে এসে এ ১৫৯ জনকে জমিসহ গৃহ প্রদানের মাধ্যমে উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করতে যাচ্ছে সরকার। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তারা জমিসহ দুই কক্ষ বিশিষ্ট সেমি পাকাঘর, টয়লেট, রান্নাঘর, ইউটিলিটি স্পেস, নলকূপ ও বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন। এতে খুশিতে আত্নহারা পিছিয়ে পড়া এসব নিম্ন আয়ের মানুষরা। অনেকে এসব ঘর পেয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ধন্যবাদ জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাশিদা আক্তার বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপি’র পরামর্শে ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সকল সদস্য, বীরমুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজসহ সাংবাদিকদের পরামর্শ নিয়েই সর্বসম্মতিক্রমে এ উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খানসামা উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত ঘোষণা করবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এই কর্মযজ্ঞে সহযোগিতা করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন সুধীজনের দাবি ‘ক’ শ্রেণির ঘর নির্মাণের পর ভূমিহীন পাওয়া না গেলেও ‘খ’ শ্রেণির অর্থাৎ যাদের জমি আছে, ঘর নাই সেসব পরিবারের জন্য নতুন করে উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। ভূমিহীন না থাকলেও জমি আছে ঘর নেই এসব পরিবারের সংখ্যা এখনো অনেক রয়েছে। তাই তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ জানান।