শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নজরকাড়া সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের কারণে গোটা বিশ্বেই সমাদৃত ‘লিলিয়াম’

শীত প্রধান দেশের ফুল লিলিয়াম। নজরকাড়া সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের কারণে গোটা বিশ্বেই সমাদৃত ফুলটি। দেশে চাহিদা থাকায় আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে। তবে ষড়ঋতুর এ দেশেও ফুটতে শুরু করেছে ফুলটি। চাহিদা থাকায় এই ফুলের রয়েছে বাণিজ্যিক চাষাবাদের অপার সম্ভাবনা।
লিলিয়াম নিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট’র (বিএআরআই) একদল গবেষক। গবেষণার মাঠে থোকায় থোকায় ফুটেছে লাল, হলুদ, সাদাসহ নানা বর্ণের ফুলটি। সফলতা পেয়ে ইতোমধ্যে দুটি জাত অবমুক্ত করেছেন তারা। আবহাওয়া উপযোগী করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুল চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লিলিয়াম চাষ সম্প্রসারণ করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট’র তথ্য মতে, লিলিয়াম লিলিয়েসি পরিবারের একটি বর্ষজীবী কন্দজ ফুল, যাকে মূল লিলি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফুলটির আদি আবাসস্থল এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। কিন্তু বর্তমানে বেশি দেখা যায় চীন, জাপান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশে। বিভিন্ন ধরনের লিলিয়াম ফুল থাকলেও উল্লেখযোগ্য জাত হচ্ছে, এশিয়াটিক, ওরিয়েন্টাল, মারটাগন, সিউডোলিরিয়াম।
লিলিয়াম চাষের জন্য উপযোগী বেলে দো-আঁশ মাটি। তাপমাত্রার তারতম্য ভেদে নেট দিয়ে শেড তৈরি করে ফুলটি চাষাবাদ করা যায়। মূল (বাল্ব) বপনের ১০০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে গাছ ফুল সংগ্রহের উপযোগী হয়।
বিএআরআই’র উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের গবেষক নাজনীন আফরোজ বলেন, ‘লিলিয়ামের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সাল থেকে একদল গবেষক ফুলটির ওপর গবেষণা শুরু করেন। এরই মধ্যে দলটি এশিয়াটিক জাতের ৩০টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছেন। দেশের আবহাওয়া উপযোগী দুটি জাত অবমুক্ত করেছেন। ফুলটি চাষাবাদের জন্য শেডের দরকার হয়। চাষাবাদের জন্য মাটির সঙ্গে সমান অনুপাতে গোবর সার এবং কোকো ডাস্ট মেশাতে হয়।
অপর গবেষক কারিমাতুল আম্বিয়া বলেন, ‘উদ্ভাবিত দুটি জাতে তেমন কোনো রোগবালাই হয় না। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। শুধুমাত্র গবেষণাকালে এই ফুলের পাতার মধ্যে ব্রাইট এবং জাব পোকার উপস্থিতি দেখা গেছে যা সহজে দমন করা যায়। তবে কোল্ড স্টোরেজ কম থাকায় এই ফুলের মূল (বাল্ব) সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
লিলিয়াম নিয়ে বিএআরআই পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা) ড. কবিতা আঞ্জুমান আরা জানান, ‘বাংলাদেশের ফুলপ্রেমীদের কাছে লিলিয়াম খুবই পছন্দের ফুল। নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে ফুলটির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সময় বেদে ৮০-২৫০ টাকা দামে বিক্রি হয় ফুলটি। আর তাই মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি পরিমাণে চাষাবাদের জন্য বিএআরআই’র গবেষকরা এগিয়ে এসেছে।
বিএআরআই’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. এস. এম. শরিফুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দুই শতাধিক ফুল ফসল নিয়ে গবেষণা চলছে। ইতোমধ্যে যশোর, রংপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় লিলিয়াম ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘দেশের মাটি ও আবহাওয়া লিলিয়াম ফুল চাষের উপযোগী। এটি একটি সম্ভাবনাময় চাষ। চাহিদা ও দাম ভালো। সরকারি সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে লিলিয়াম চাষ করা যাবে।
জনপ্রিয়

নজরকাড়া সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের কারণে গোটা বিশ্বেই সমাদৃত ‘লিলিয়াম’

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১
শীত প্রধান দেশের ফুল লিলিয়াম। নজরকাড়া সৌন্দর্য ও ঘ্রাণের কারণে গোটা বিশ্বেই সমাদৃত ফুলটি। দেশে চাহিদা থাকায় আমদানি করা হচ্ছে বিদেশ থেকে। তবে ষড়ঋতুর এ দেশেও ফুটতে শুরু করেছে ফুলটি। চাহিদা থাকায় এই ফুলের রয়েছে বাণিজ্যিক চাষাবাদের অপার সম্ভাবনা।
লিলিয়াম নিয়ে দীর্ঘ ৫ বছর ধরে গবেষণা করছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট’র (বিএআরআই) একদল গবেষক। গবেষণার মাঠে থোকায় থোকায় ফুটেছে লাল, হলুদ, সাদাসহ নানা বর্ণের ফুলটি। সফলতা পেয়ে ইতোমধ্যে দুটি জাত অবমুক্ত করেছেন তারা। আবহাওয়া উপযোগী করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ফুল চাষিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লিলিয়াম চাষ সম্প্রসারণ করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট’র তথ্য মতে, লিলিয়াম লিলিয়েসি পরিবারের একটি বর্ষজীবী কন্দজ ফুল, যাকে মূল লিলি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফুলটির আদি আবাসস্থল এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশ। কিন্তু বর্তমানে বেশি দেখা যায় চীন, জাপান, তাইওয়ান, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশে। বিভিন্ন ধরনের লিলিয়াম ফুল থাকলেও উল্লেখযোগ্য জাত হচ্ছে, এশিয়াটিক, ওরিয়েন্টাল, মারটাগন, সিউডোলিরিয়াম।
লিলিয়াম চাষের জন্য উপযোগী বেলে দো-আঁশ মাটি। তাপমাত্রার তারতম্য ভেদে নেট দিয়ে শেড তৈরি করে ফুলটি চাষাবাদ করা যায়। মূল (বাল্ব) বপনের ১০০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে গাছ ফুল সংগ্রহের উপযোগী হয়।
বিএআরআই’র উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের গবেষক নাজনীন আফরোজ বলেন, ‘লিলিয়ামের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ২০১৫ সাল থেকে একদল গবেষক ফুলটির ওপর গবেষণা শুরু করেন। এরই মধ্যে দলটি এশিয়াটিক জাতের ৩০টি জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করেছেন। দেশের আবহাওয়া উপযোগী দুটি জাত অবমুক্ত করেছেন। ফুলটি চাষাবাদের জন্য শেডের দরকার হয়। চাষাবাদের জন্য মাটির সঙ্গে সমান অনুপাতে গোবর সার এবং কোকো ডাস্ট মেশাতে হয়।
অপর গবেষক কারিমাতুল আম্বিয়া বলেন, ‘উদ্ভাবিত দুটি জাতে তেমন কোনো রোগবালাই হয় না। পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। শুধুমাত্র গবেষণাকালে এই ফুলের পাতার মধ্যে ব্রাইট এবং জাব পোকার উপস্থিতি দেখা গেছে যা সহজে দমন করা যায়। তবে কোল্ড স্টোরেজ কম থাকায় এই ফুলের মূল (বাল্ব) সংরক্ষণে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
লিলিয়াম নিয়ে বিএআরআই পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা) ড. কবিতা আঞ্জুমান আরা জানান, ‘বাংলাদেশের ফুলপ্রেমীদের কাছে লিলিয়াম খুবই পছন্দের ফুল। নববর্ষ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিশেষ দিনগুলোতে ফুলটির চাহিদা থাকে তুঙ্গে। সময় বেদে ৮০-২৫০ টাকা দামে বিক্রি হয় ফুলটি। আর তাই মাঠ পর্যায়ে আরও বেশি পরিমাণে চাষাবাদের জন্য বিএআরআই’র গবেষকরা এগিয়ে এসেছে।
বিএআরআই’র পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. এস. এম. শরিফুজ্জামান বলেন, ‘কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউটের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দুই শতাধিক ফুল ফসল নিয়ে গবেষণা চলছে। ইতোমধ্যে যশোর, রংপুর, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় লিলিয়াম ফুলের বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, ‘দেশের মাটি ও আবহাওয়া লিলিয়াম ফুল চাষের উপযোগী। এটি একটি সম্ভাবনাময় চাষ। চাহিদা ও দাম ভালো। সরকারি সহায়তায় বাণিজ্যিকভাবে লিলিয়াম চাষ করা যাবে।