শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগানে ‘মধু বিপ্লব’ মৌমাছির ছোঁয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘মধু বিপ্লব’ সম্ভাবনা। মুকুলের ম ম গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যাচ্ছে মৌমাছি। এসব বাক্সে রানী মৌমাছি ও হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। এপিস মেলিফেরা জাতের কর্মী মৌমাছিরা মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ কলোনির মৌচাকে মধু জমা করছে। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর লিচুর বাম্পার ফলনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা পোষণ করছেন চাষিরা। এসব লিচু বাগান থেকে ৩০ মেট্রিক টন মধু আহরণ হবে। যার মূল্য দেড় কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বাগানের প্রতিটি গাছের ডাল মুকুলে ছেয়ে গেছে। এসব লিচু বাগানে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি পরাগায়নের ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর বেশি ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আবাদি জমিতে লিচু বাগান গড়ে তুলছেন। লিচু বাগানে মধু উৎপাদন করে নতুন আয়ের দ্বার খুলে দিয়েছে। লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহে নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা এসে বাগানে শ’ শ’ বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মৌচাষিরা জানান, তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্রুড ও নিউক্লিয়াস বক্স ব্যবহার করে মৌচাষ করছেন। প্রতি সপ্তাহে টানা ৩দিন প্রতিটি বাগান থেকে প্রতিনিয়ত ৩ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরিদপুর থেকে আসা এক মৌচাষি বলেন, আমি প্রতি বছরই চিরিরবন্দরে লিচুর বাগানে মধু সংগ্রহ করতে আসি। তবে এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির কারণে কিছুটা কম মধু সংগ্রহ হয়েছে। তাররপরেও মধুর বাজারদর ভালো থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করছি।

উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের এক লিচু চাষি বলেন, আমার বাগানে অন্তত দুইশ’ বিভিন্ন জাতের লিচু গাছ আছে। এবছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মৌচাষিদের উপস্থিতির কারণে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন বেশি হওয়ার আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হলে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও রোগবালাই হ্রাস পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ কম হয় এবয় লাভ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বাগানে অন্তত ৪০০টিরও বেশি মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে আরও বেশি উৎপাদন ও আয় করা সম্ভব হবে।

 

বাগানে ‘মধু বিপ্লব’ মৌমাছির ছোঁয়ায় লিচুর বাম্পার ফলন

প্রকাশের সময়: ০৫:১৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে লিচুর বাগান ঘিরে তৈরি হয়েছে ‘মধু বিপ্লব’ সম্ভাবনা। মুকুলের ম ম গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যাচ্ছে মৌমাছি। এসব বাক্সে রানী মৌমাছি ও হাজার হাজার কর্মী মৌমাছি লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। এপিস মেলিফেরা জাতের কর্মী মৌমাছিরা মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে নিজ নিজ কলোনির মৌচাকে মধু জমা করছে। লিচুর ফুল থেকে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন বৃদ্ধি পাওয়ায় এবছর লিচুর বাম্পার ফলনও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা পোষণ করছেন চাষিরা। এসব লিচু বাগান থেকে ৩০ মেট্রিক টন মধু আহরণ হবে। যার মূল্য দেড় কোটি টাকা।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। বাগানের প্রতিটি গাছের ডাল মুকুলে ছেয়ে গেছে। এসব লিচু বাগানে মধু সংগ্রহের পাশাপাশি পরাগায়নের ফলে গত বছরের তুলনায় এবছর বেশি ফলনের আশা করছেন লিচু চাষিরা। লিচু চাষ লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আবাদি জমিতে লিচু বাগান গড়ে তুলছেন। লিচু বাগানে মধু উৎপাদন করে নতুন আয়ের দ্বার খুলে দিয়েছে। লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহে নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মৌচাষিরা এসে বাগানে শ’ শ’ বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মৌচাষিরা জানান, তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্রুড ও নিউক্লিয়াস বক্স ব্যবহার করে মৌচাষ করছেন। প্রতি সপ্তাহে টানা ৩দিন প্রতিটি বাগান থেকে প্রতিনিয়ত ৩ থেকে ৫ মণ পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ফরিদপুর থেকে আসা এক মৌচাষি বলেন, আমি প্রতি বছরই চিরিরবন্দরে লিচুর বাগানে মধু সংগ্রহ করতে আসি। তবে এবার মৌসুমের শুরুতেই বৃষ্টির কারণে কিছুটা কম মধু সংগ্রহ হয়েছে। তাররপরেও মধুর বাজারদর ভালো থাকায় ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা করছি।

উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের এক লিচু চাষি বলেন, আমার বাগানে অন্তত দুইশ’ বিভিন্ন জাতের লিচু গাছ আছে। এবছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মৌচাষিদের উপস্থিতির কারণে পরাগায়ন ভালো হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন বেশি হওয়ার আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা বলেন, মৌমাছির মাধ্যমে পরাগায়ন হলে লিচুর উৎপাদন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও রোগবালাই হ্রাস পায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে খরচ কম হয় এবয় লাভ বৃদ্ধি পায়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের বাগানে অন্তত ৪০০টিরও বেশি মৌবাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা প্রদান করা হলে ভবিষ্যতে এ খাত থেকে আরও বেশি উৎপাদন ও আয় করা সম্ভব হবে।