তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধা জেলায় করোনা পরিস্থিতি অবনতি। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৫৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ২৩ জন, গোবিন্দগঞ্জে ১৮ জন, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে ৪ জন করে, পলাশবাড়ী ও সাঘাটায় ৩ জন করে এবং ফুলছড়ি উপজেলা ২ জন সংক্রমিত হয়েছেন।
শনিবার (৩ জুলাই) রাতে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ নিয়ে জেলায় এ পর্যন্ত সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ২৯২ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন এক হাজার ৮৫১ জন। মৃত্যুবরণ করেছে ২৩ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে ৪১৮ জন রোগি চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এ পর্যন্ত উপজেলা ভিত্তিক পরিস্থিতি-
গাইবান্ধা সদর উপজেলা: আক্রান্ত ৯৫৭ জন, সুস্থ ৭৫৯ জন, মু্ত্যু ৮ জন ও চিকিৎসাধীন ১৯০ জন রোগি।
সাদুল্লাপুর উপজেলা: আক্রান্ত ২০১ জন, সুস্থ ১৩৯ জন, মু্ত্যু ৩ জন ও চিকিৎসাধীন ৫৯ জন রোগি।
পলাশবাড়ী উপজেলা: আক্রান্ত ২০১ জন, সুস্থ ১৪৯ জন, মু্ত্যু ৫ জন ও চিকিৎসাধীন ৪৭ জন রোগি।
সাঘাটা উপজেলা: আক্রান্ত ১৪৫ জন, সুস্থ ১৩২ জন, মু্ত্যু নেই ও চিকিৎসাধীন ১৩ জন রোগি।
ফুলছড়ি উপজেলা: আক্রান্ত ১৩৯ জন, সুস্থ ১২০ জন, মু্ত্যু ১ জন ও চিকিৎসাধীন ১৮ জন রোগি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা: আক্রান্ত ১৫৩ জন, সুস্থ ১২৪ জন, মু্ত্যু ২ জন ও চিকিৎসাধীন ২৭ জন রোগি।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা: আক্রান্ত ৪৯৬ জন, সুস্থ ৪২৮ জন, মু্ত্যু ৪ জন ও চিকিৎসাধীন ৬৪ জন রোগি।
এদিকে, গাইবান্ধা জেলায় করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারি-বেসরকারি ২৫ টি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে রোগিদের জন্য বেড রয়েছে ৬৭১ টি। চিকিৎসাসেবায় ১৫৪ জন ডাক্তার ও নার্স রয়েছেন ২০৯ জন। তারা শুধু মাত্র করোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকছেন। এছাড়া করোনায় আক্রান্ত রোগিদের জরুরি চিকিৎসায় স্থানান্তরের নিমিত্তে পৃথকভাবে ২ টি এ্যাম্বুলেন্স ও ২ টি মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ১০০ বেডের আইসোলেসনেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. আ ম আখতারুজ্জামান বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য সকল সামগ্রীসহ ডাক্তার-নার্সদের সুরক্ষার সামগ্রীও মজুদ রাখা হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ও রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করে কোভিডের বর্জ্য ধ্বংস করা হচ্ছে। আগের তুলনায় সম্প্রতি সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানান তিনি।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ প্রতিরোথে মানুষদের স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে এক সপ্তাহের লকডাউন কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে। এর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী মাঠে কাজ করছেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 



















