দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বোরোধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে বোরোধানের ফলন ভালো হলেও গত দুইদিনের ভারি বর্ষণে অনেক কৃষকের সোনালী স্বপ্ন ডুবে গেছে পানির নিচে। এমনিতেই সার, তেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের খরচ বাড়তি। ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় কর্তনের শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দূর্ভোগ চরমে উঠেছে বোরো চাষিদের। একই সাথে ধান কাটা-মাড়াই করা মজুরদের লাগামহীন দাবিতে কৃষকেরা আরো দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। মিলছে না কাঙ্খিত দামও।
উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, দু’দিনের টানা বর্ষণে বৃষ্টির পানিতে ধানের জমি তলিয়ে গেছে। ধান পুরোপুরি পেঁকে যাওয়ায় জমিতে ধান ফেলেও রাখতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় হতাশ হয়েও বেশি দামে ধান কাটা-মাড়াইতে বাধ্য হয়েছেন কৃষকরা। অপরদিকে, বাড়ির উঠান ভিজে গিয়ে কর্দমাক্ত হওয়ায় পাকা সড়কে অথবা খেলার মাঠে ধান শুকাচ্ছেন কৃষকরা। ধান ভিজে যাওয়ার সুযোগকে সদ্ব্যবহার করছেন মৌসুমি ধান ব্যবসায়ী ও ফড়িয়ারা। তারা কম দামে ধান কিনতে কৌশলে কৃষককে অনবরত ভূল বোঝাচ্ছেন।
আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের কৃষক মহসিন আলী ও আমিনুল ইসলাম জানান, কয়েক ঘন্টার টানা বর্ষণে ধানের ক্ষেত তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া ধান কেটে আনা ও মাড়াই করতে অতিরিক্ত ২ হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বৃষ্টির আগে বিঘাপ্রতি যেখানে খরচ ছিল সাড়ে ৭ হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে তা ৮- সাড়ে ৯ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। রোদ না থাকায় ওই ধান শুকাতে না পেরে কমদামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ধান চুক্তিতে কাটানো মজুর সর্দার আসফাকুর রহমান বাবু বলেন, জমি বাড়ির নিকটবর্তী হলে বিঘাপ্রতি ৮ হাজার টাকা ও দূরের জমি হলে দুরত্ব অনযায়ী দাম চাওয়া হচ্ছে। এ দামে যিনি রাজী হচ্ছেন, তাঁর জমির ধান আমরা কেটে দিচ্ছি। ধানের জমি তলিয়ে যাওয়ায় ধান পরিবহনে আমাদেরকে প্রচুর কষ্ট করতে হচ্ছে। তারপরও দিনশেষে একজন মজুর দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা রোজগার করতে পারছেন। বৃষ্টি বেশি হলে বিঘাপ্রতি দাম আরো বাড়ানো হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ১৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৩ টন এবং চালের লক্ষ্যমাত্রা ৮৫ হাজার ৮৪২ মেট্রিক টন। উপজেলায় চালের বার্ষিক চাহিদা ৫৯ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন। টানা দু’দিনের বৃষ্টিতে কৃষকরা চরম বেকায়দায় পড়েছেন। তারপরেও তাঁরা সামলানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। তিনি কৃষকদের আরো একটু ধৈর্যধারণ করে উৎপাদিত ধান সংরক্ষণের অনুরোধ করেছেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















