বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরি

ঝিনাইদহ ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিশেষ ধরণের চুলায় অবাধে কাঠ পুড়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। এই কয়লা ট্রাকে ভরে পাঠানো হচ্ছে দেশে বিভিন্ন জায়গায়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে এসব চুলায় কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, কমে যাচ্ছে জমির উর্বরতাও।

উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের পাথরা গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা মৃত ওমর আলীর ছেলে আলা উদ্দিন বাড়ির পাশের জমিতে অভিনব কায়দায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন। তিনি সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চারটি কয়লা তৈরির চুলা নির্মাণ করেছেন। এসব চুলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হয়। কাঠ পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে ধোঁয়ার কারণে নানা রোধব্যাধি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এসব চুলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হয়।

কাঠ পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে ধোঁয়ার কারণে নানা রোধব্যাধি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এই চুলায়। তারা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা করছেন। তবে প্রভাবশালীদের ভয়েও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস দেখান না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে বড় আকারের বিশেষ ধরনের চুলা।

চুলার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি ও ইট দিয়ে বন্ধ করা। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুলাতে। আগুন দেওয়া শেষে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুলাতে প্রতিবার ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। পরে সেই কয়লা ঠান্ডা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্রীরুপ মজুমদার বলেন, জানতে পেরেছি বিশেষ ধরনের চুলায় বনজ সম্পদ নষ্ট করে কাঠ পুড়িয়ে অবৈধভাবে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশপুর থানার ওসি সেলিম মিয়া বলেন, খবর পেয়েছি কয়লা তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরি

প্রকাশের সময়: ১২:৩২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

ঝিনাইদহ ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিশেষ ধরণের চুলায় অবাধে কাঠ পুড়ে তৈরি করা হচ্ছে কয়লা। এই কয়লা ট্রাকে ভরে পাঠানো হচ্ছে দেশে বিভিন্ন জায়গায়। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে বিভিন্ন বনজ ও ফলজ গাছ কেটে এসব চুলায় কাঠ সরবরাহ করা হচ্ছে। এসব চুলা থেকে নির্গত ধোঁয়ায় পরিবেশ ও জীব বৈচিত্রের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ফলে হুমকিতে জনস্বাস্থ্য, কমে যাচ্ছে জমির উর্বরতাও।

উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের পাথরা গ্রাম। এই গ্রামের বাসিন্দা মৃত ওমর আলীর ছেলে আলা উদ্দিন বাড়ির পাশের জমিতে অভিনব কায়দায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করছেন। তিনি সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চারটি কয়লা তৈরির চুলা নির্মাণ করেছেন। এসব চুলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হয়। কাঠ পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে ধোঁয়ার কারণে নানা রোধব্যাধি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এসব চুলায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানো হয়।

কাঠ পোড়ানোর সময় প্রচুর কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। এতে একদিকে যেমন বনজ সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, অপর দিকে ধোঁয়ার কারণে নানা রোধব্যাধি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিন শত শত মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে এই চুলায়। তারা প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে এই ব্যবসা করছেন। তবে প্রভাবশালীদের ভয়েও কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস দেখান না। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাটি, ইট ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে তৈরি করা হয়েছে বড় আকারের বিশেষ ধরনের চুলা।

চুলার মধ্যে সারিবদ্ধভাবে কাঠ সাজিয়ে একটি মুখ খোলা রেখে অন্য মুখগুলো মাটি ও ইট দিয়ে বন্ধ করা। খোলা মুখ দিয়ে আগুন দেওয়া হয় চুলাতে। আগুন দেওয়া শেষে সেটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন পোড়ানোর পর চুলা থেকে কয়লা বের করা হয়। প্রতিটি চুলাতে প্রতিবার ২০০ থেকে ৩০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। পরে সেই কয়লা ঠান্ডা করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শ্রীরুপ মজুমদার বলেন, জানতে পেরেছি বিশেষ ধরনের চুলায় বনজ সম্পদ নষ্ট করে কাঠ পুড়িয়ে অবৈধভাবে কয়লা তৈরি করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহেশপুর থানার ওসি সেলিম মিয়া বলেন, খবর পেয়েছি কয়লা তৈরির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।