গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বার বার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দছিজল হক (৬২) নামে এক ভূক্তভোগী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন। দছিজল উপজেলার ছাপড়হাটী ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।
সংবাদ সম্মেলনে তার মেয়ে জাহানারা বেগম, জামাতা জাহেদুল ইসলাম ও ছোটবোন নুরজাহান বেগম উপস্থিত ছিলেন।
তিনি অভিযোগ করে লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমরা পৈত্রিকমূলে ৭ বিঘা ২ শতাংশ জমি পাই। ১৯৭৬ সালে আমার বাবা আজিম উদ্দিন সকল সম্পত্তি আমার জেঠাতো ভাই মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল জলিল পিচাশকে (৮০) বর্গা দিয়ে স্বপরিবারে ঢাকায় যায়। পরে ১৯৭৭ সালে আমার বাবা আজিম উদ্দিন সেখানে মারা যান। বাবা বেঁচে থাকাকালিন সময়ে জলিল ফসলের ভাগ দিতেন। এরপর ১৯৮৫ সালে আমরা দশ ভাই-বোন পৈত্রিক ভিটায় এসে জমি ফেরত চাইলে জলিল পিচাশ জমি কিনেছেন বলে জানান। এ অবস্থায় জমির দলিল দেখতে চাইলে তিনি হুমকিসহ মারধরের চেষ্টা চালালে আমরা নিরুপায় হয়ে ১৯৮৯ সালে স্বপরিবারে আবারও ঢাকায় যাই। এসুযোগে আমাদের বসত ভিটার ঘরসহ আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফেলে জলিল মিয়া হলুদ চাষসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করে।
বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঢাকা থেকে আসার পর আমাদেরকে পৈত্রিক ভিটায় উঠতে না দিলে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে থেকে জমি উদ্ধারের চেষ্টা করি। একপর্যায়ে ২০২১ সালে ওই জমিতে থাকা আমার স্ত্রীসহ পাঁচজনের কবর সরাতে চাপ দেন জলিল পিচাশ। তখন গ্রামবাসীর উদ্যোগে গত ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর একটি সালিশ হয়। সালিশে জলিল কোন কাগজ দেখাতে না পেরে এক মাসের সময় নিয়ে ছলচাতুরির মাধ্যমে ১২ অক্টোবর ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় বসত ভিটার ৭৫ শতাংশ জমির উপর গোপনে মামলা করেন। পরে মামলার বিষয়টি সালিশী বৈঠকে জানানো হলে ৪ নভেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ মিয়াসহ এলাকাবাসী জমি পরিমাপ করে বসত বাড়ির ৩৪ শতাংশ জমি বুঝে দেন। এরপর টিনের চালা তৈরি করলে সেই রাতেই প্রতিপক্ষ সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। পরে আমরা বসতঘর নির্মাণ করতে গেলে পুলিশ গিয়ে তা ভেঙ্গে দেয়। বাধ্য হয়ে আমরা ১৬০ শতাংশ আবাদি জমি দখলে নিয়ে সরিষার আবাদ করি।
সেই জমির ওপর ১৩ ডিসেম্বর আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা করেন জলিল। পরে জলিল পিচাশ আবারও গত ৮ জানুয়ারি সমস্ত জমির ওপর ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা করেন। এছাড়াও জমিতে লাগানো ধানের চারা উবরে ফেলার চেষ্টাকালে গ্রামবাসীসহ প্রতিহত করে জলিল পিচাশসহ ১১জনকে ধরে থানা পুলিশে সোপর্দ করি। পরে উভয়পক্ষকে নিয়ে গত ২৯ এপ্রিল থানার এসআই রাশেদ একটি সালিশী বৈঠক করেন। এতে জলিল পিচাশ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তিনি আমাদেরকে ধান কাটার অনুমতি দেয়। আমরা ধান কাটতে গেলে তারা আমাদেরকে মারপিট করলে চারজন গুরুতর আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হই। এঘটনায় চলতি বছরের ২ মে থানায় একটি মামলা দায়ের করি। জলিল পিচাশও পাল্টা মামলা করেন।]
এছাড়াও জলিল পিচাশ গত ৪ আগস্ট ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় একটি মামলা করার পর গত ১৪ আগস্ট ভাঙচুরের অভিযোগে থানায় একটি মামলা করেন। জলিল পিচাশ বারংবার মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশী হয়রানী করায় আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জলিল পিচাশ, তার স্বজন ও পুলিশী হয়রানী থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিপুল ইসলাম আকাশ, করেসপন্ডেন্ট জাগো২৪.নেট, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) 



















