বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায়  শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপিত হয়েছে।  এ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা,  প্রার্থনা, পদাবলি  কীর্তন, কৃষ্ণ পুজা, অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধা এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে শহরের ভিএইড রোডস্থ শ্রী শ্রী  কালিবাড়ী মাতৃ অঙ্গন মন্দির থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান। শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শুরু স্থলে শেষ হয়। পরে মাতৃ অঙ্গনে আলোচনা সভা ও প্রার্থনায়  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য্য।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার।

অতিথিরা বলেন- সনাতন ধর্মের অন্যতম একটি উৎসব জন্মাষ্টমী। দ্বাপর যুগের শেষ দিকে মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দী দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরও বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে এবং  ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে একসাথে কাজ করব।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধার সহকারি পরিচালক হামিদুর রহমান।

অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুশান্ত কুমার মাহাতো, পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক বিমল সরকার, নরত্তম নন্দ দাশ প্রভু, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক চঞ্চল সাহা, পুজা উদযাপন পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রকি দেব, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রঞ্জন সাহা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধার জুনিয়র কনসালটেন্ট বিকাশ কুমার শীল।

আলোচনা শুরুতে গীতা পাঠ করেন পুজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক গোপাল চন্দ্র পাল।

আলোচনা সভার প্রার্থনা পাঠ করেন পুরোহিত কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা কালিপদ মুখার্জী। দুপুরে প্রসাদ বিতরন করা হয় ও সন্ধ্যায় প্রার্থনা,পদাবলি  কীর্তন, কৃষ্ণ পুজা অনুষ্ঠিত হয়।

 

জনপ্রিয়

গাইবান্ধায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব পালিত

প্রকাশের সময়: ০২:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২

দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে গাইবান্ধায়  শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব উদযাপিত হয়েছে।  এ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা,  প্রার্থনা, পদাবলি  কীর্তন, কৃষ্ণ পুজা, অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধা এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার আয়োজনে শহরের ভিএইড রোডস্থ শ্রী শ্রী  কালিবাড়ী মাতৃ অঙ্গন মন্দির থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান। শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শুরু স্থলে শেষ হয়। পরে মাতৃ অঙ্গনে আলোচনা সভা ও প্রার্থনায়  প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি রণজিৎ বকসী সূর্য্য।

সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ পরেশ চন্দ্র সরকার।

অতিথিরা বলেন- সনাতন ধর্মের অন্যতম একটি উৎসব জন্মাষ্টমী। দ্বাপর যুগের শেষ দিকে মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরীতে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে বন্দী দেবকী ও বাসুদেবের বেদনাহত ক্রোড়ে জন্ম নিয়েছিলেন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।

ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টম তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরও বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে যুগে ভগবান মানুষের মাঝে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন। ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে এবং  ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলে একসাথে কাজ করব।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন- হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধার সহকারি পরিচালক হামিদুর রহমান।

অন্যন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-গাইবান্ধা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুশান্ত কুমার মাহাতো, পুজা উদযাপন পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক বিমল সরকার, নরত্তম নন্দ দাশ প্রভু, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক চঞ্চল সাহা, পুজা উদযাপন পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রকি দেব, হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক রঞ্জন সাহা।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্ট গাইবান্ধার জুনিয়র কনসালটেন্ট বিকাশ কুমার শীল।

আলোচনা শুরুতে গীতা পাঠ করেন পুজা উদযাপন পরিষদ জেলা শাখার ধর্মীয় বিষয়ক সম্পাদক গোপাল চন্দ্র পাল।

আলোচনা সভার প্রার্থনা পাঠ করেন পুরোহিত কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা কালিপদ মুখার্জী। দুপুরে প্রসাদ বিতরন করা হয় ও সন্ধ্যায় প্রার্থনা,পদাবলি  কীর্তন, কৃষ্ণ পুজা অনুষ্ঠিত হয়।