বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অচেতন করে বাড়ি লুট, আতঙ্ক কাটেনি গৃহকর্তার

নির্ভৃত গ্রামাঞ্চলের কৃষক শাহজাহান আলী সরকার (৬০)। তার দুই ছেলে চাকরি সুবাদে এলাকার বাহিরে থাকেন। স্ত্রী রওশনারা বেগম (৫৫) কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস। এছাড়া এ বাড়ি রাত্রীযাপনের কেউ নেই। এরই মধ্যে একদল দুঃস্কৃতিকারী অচেতনাশক দ্রব্যাদি দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে অজ্ঞান করে ফেলে। এ সুযোগে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে য়ায়। এ ঘটনার ২৪ দিন অতিবাহীত হলেও আজও আতঙ্ক কাটেনি ওই গৃহকর্তার।

সরেজমিনে শনিবার বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আরাজী জামালপুর গ্রামে দেখা যায়, শাহজাহান আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে চরম আতঙ্কে বসে আছেন। যেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন প্রবীন এই দম্পত্তি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই রাত ১০ টার দিকে শাহজান আলী খাবার খেয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির পশ্চিম দুয়ারী আধাপাকা ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী মর্জিনা বেওয়া গাভীর দুধ দেওয়ার জন্য তার বাড়িতে আসে। এসময় শাহজাহান আলী ও তার স্ত্রী রওশনারা বেগকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তার বাড়ির আসবাপত্র তছনছ করা দেখতে পায়। এরই মধ্যে ওই দম্পত্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তারা। এরপর দেখতে পারেন যে, আলমারী ও বিছানার নিচে থাকা ৭৫ হাজার টাকা ও ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুঃস্কৃতিকারীরা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভুক্তভোগি শাহজাহান আলী সরকার বলেন, কে বা কারা আমাদের চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করেছে। এই অজ্ঞান পার্টির চক্ররা আমার ঘরের টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগি শাহজাহান আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম সরকার জানান, তারা দুই ভাই চাকরি সুবাদে বাহিরে থাকেন। বাড়িতে বাবা-মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না। পুর্বপরিকল্পিভাবে কে বা কারা ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার ২৪ দিন অতিবাহীত হলেও এখনো আমার বাবা-মা পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে ভয়ে চমকে উঠে তারা। এমন কি চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বয়স্ক বাবা ও মা। যে কোন মুহূর্তে আবারও এমন কাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ওই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি নজরদারি রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয়

অচেতন করে বাড়ি লুট, আতঙ্ক কাটেনি গৃহকর্তার

প্রকাশের সময়: ০৩:২৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২

নির্ভৃত গ্রামাঞ্চলের কৃষক শাহজাহান আলী সরকার (৬০)। তার দুই ছেলে চাকরি সুবাদে এলাকার বাহিরে থাকেন। স্ত্রী রওশনারা বেগম (৫৫) কে নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস। এছাড়া এ বাড়ি রাত্রীযাপনের কেউ নেই। এরই মধ্যে একদল দুঃস্কৃতিকারী অচেতনাশক দ্রব্যাদি দিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে অজ্ঞান করে ফেলে। এ সুযোগে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে য়ায়। এ ঘটনার ২৪ দিন অতিবাহীত হলেও আজও আতঙ্ক কাটেনি ওই গৃহকর্তার।

সরেজমিনে শনিবার বিকেলে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের আরাজী জামালপুর গ্রামে দেখা যায়, শাহজাহান আলী তার স্ত্রীকে নিয়ে চরম আতঙ্কে বসে আছেন। যেন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন প্রবীন এই দম্পত্তি।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই রাত ১০ টার দিকে শাহজান আলী খাবার খেয়ে তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ির পশ্চিম দুয়ারী আধাপাকা ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সন্ধ্যার দিকে প্রতিবেশী মর্জিনা বেওয়া গাভীর দুধ দেওয়ার জন্য তার বাড়িতে আসে। এসময় শাহজাহান আলী ও তার স্ত্রী রওশনারা বেগকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তে বিষয়টি জানাজানি হলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তার বাড়ির আসবাপত্র তছনছ করা দেখতে পায়। এরই মধ্যে ওই দম্পত্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসা নেওয়ার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেন তারা। এরপর দেখতে পারেন যে, আলমারী ও বিছানার নিচে থাকা ৭৫ হাজার টাকা ও ৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করেছে দুঃস্কৃতিকারীরা।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে ভুক্তভোগি শাহজাহান আলী সরকার বলেন, কে বা কারা আমাদের চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করেছে। এই অজ্ঞান পার্টির চক্ররা আমার ঘরের টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগি শাহজাহান আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম সরকার জানান, তারা দুই ভাই চাকরি সুবাদে বাহিরে থাকেন। বাড়িতে বাবা-মা ছাড়া আর কেউ থাকেন না। পুর্বপরিকল্পিভাবে কে বা কারা ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে।

তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার ২৪ দিন অতিবাহীত হলেও এখনো আমার বাবা-মা পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। দিন শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে ভয়ে চমকে উঠে তারা। এমন কি চরম আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বয়স্ক বাবা ও মা। যে কোন মুহূর্তে আবারও এমন কাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। এ নিয়ে থানায় একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার রায় বলেন, ওই ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি নজরদারি রাখা হয়েছে।