বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেন শিক্ষকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক, ঢাকার নির্দেশে তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ আগস্ট) সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই তদন্তে দায়িত্বে ছিলেন, ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোল অব একাউন্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান, জেলা নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী ও অডিটর হায়দারুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ভুক্তভোগি শিক্ষকরা জানায়, সাদুল্লাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজই হয় না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করাসহ সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া গড়ে তুলেছেন। এসবের মধ্যে ইএফটিতে মাসিক বিল প্রদানে খামখেয়ালীপনা, বকেয়া বিল প্রদানে চরম হয়রানি করে চলেছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড প্রদানে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে স্লিপ বরাদ্দ, রুটিন মেরামত বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের উৎকোচ ছাড়া কোন কাজ করতে রাজি নয় ওই কর্মকর্তা। এমনকি অসুস্থ পেনশনারদের ইএলপিসি লামগ্রান্ড প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে হয়রানী ও অর্থগ্রহণের ক্ষেত্রেও কুণ্ঠা বোধ করেন না অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম।

উপস্থিত তদন্ত কমিটির দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে টুনিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম বলেন, আমি পেনশনের কার্যাদির জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি দুই লাখ টাকা আমার কাছে দাবি করেন। এই টাকা দিতে না পেরে ওই কর্মকর্তা আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে।

এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, অনুষ্ঠিত তদন্তে একাধিক শিক্ষকের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আমি মনে করি অভিযোগের সত্যতা শতভাগ ঠিক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফী বলেন, তদন্তে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি।

অভিযুক্ত উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। এসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তে এসেছেন। তদন্ত শেষে সঠিক রিপোর্ট দাখিল করলেই তিনি ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশাবাদী।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোল অব একাউন্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

জনপ্রিয়

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৬:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সিমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেন শিক্ষকরা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক, ঢাকার নির্দেশে তদন্ত কার্য অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২১ আগস্ট) সাদুল্লাপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই তদন্তে দায়িত্বে ছিলেন, ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোল অব একাউন্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান, জেলা নিরীক্ষা ও হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা শাহজাহান আলী ও অডিটর হায়দারুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ভুক্তভোগি শিক্ষকরা জানায়, সাদুল্লাপুর উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম যোগদান করার পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজই হয় না। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভনীয় আচরণ করাসহ সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়া গড়ে তুলেছেন। এসবের মধ্যে ইএফটিতে মাসিক বিল প্রদানে খামখেয়ালীপনা, বকেয়া বিল প্রদানে চরম হয়রানি করে চলেছে। এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড প্রদানে সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে স্লিপ বরাদ্দ, রুটিন মেরামত বরাদ্দের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের উৎকোচ ছাড়া কোন কাজ করতে রাজি নয় ওই কর্মকর্তা। এমনকি অসুস্থ পেনশনারদের ইএলপিসি লামগ্রান্ড প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে হয়রানী ও অর্থগ্রহণের ক্ষেত্রেও কুণ্ঠা বোধ করেন না অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম।

উপস্থিত তদন্ত কমিটির দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে টুনিরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা মাহমুদা বেগম বলেন, আমি পেনশনের কার্যাদির জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি দুই লাখ টাকা আমার কাছে দাবি করেন। এই টাকা দিতে না পেরে ওই কর্মকর্তা আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে।

এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সাদুল্লাপুর উপজেলা শাখার সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, অনুষ্ঠিত তদন্তে একাধিক শিক্ষকের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আমি মনে করি অভিযোগের সত্যতা শতভাগ ঠিক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্যাহিশ শাফী বলেন, তদন্তে সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করি।

অভিযুক্ত উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে শিক্ষকদের আনিত অভিযোগ সঠিক নয়। এসব নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্তে এসেছেন। তদন্ত শেষে সঠিক রিপোর্ট দাখিল করলেই তিনি ন্যায় বিচার পাবেন বলে আশাবাদী।

এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোল অব একাউন্স কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সুষ্ঠু তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্টর নিকট প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।