বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাট যেন কৃষকের গলার কাঁটা

পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হলেও এ পাট বর্তমান কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা লাভের আশায় পাট চাষ করলেও পানির অভাবে পঁচাতে পারছে না। ফলে কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

অনাবৃষ্টির কারণে ডোবা নালায় শুকিয়ে যাচ্ছে। পাট পঁচাতে দেয়া ডোবা নালা গুলো হয়েছে গোচারন ভৃমিতে পরিণত হয়েছে।

এমনি দৃশ্য দেখা গেছে  গাইবান্ধার  সাদুল্লাপুরের লালমাটি এলাকা খ্যাত ধাপেরহাট এলাকায়। অনাবৃষ্টির কারণে পাট জাগ দিতে পারছেন এখাকার কৃষক।

কথা হয় হিংগার পাড়া গ্রামের পাট চাষি জুয়েল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন,  একবিঘা জমিতে পাটচাষ করেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন তো তার অর্ধেক টাকাও আসবেনা। বাড়ির পাশে পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার কয়েকদিন পরেই পুকুরের পানি শুকিয়া যায়। আমি গত ৭ দিন ধরে উচ্চমৃল্যে তেল কিনে শ্যালোমেশিন দিয়ে পুকুরে পানি সেচ দিচ্ছি। তবু পাটে জাগ অর্থাৎ পচন আসছেনা। বাধ্য হয়ে চড়া মুল্যে কামলা নিয়ে পাট ধুয়ে নিচ্ছি। পাটের আঁশ সোনালী রঙের হওয়ার কথা কিন্তু সাদা পানি না থাকায় তা কালো আকার ধারণ করেছে।

জমি থেকে পাট কাটার পর সেই পাট ২০-২২ দিন পঁচার জন্য পানিতে ডুবে রাখতে হয়। কিন্তু এবার সেই পরিমান পানি বা বৃষ্টি  অত্র এলাকায় হয়নি।

কথা হয় পাটের কাজ করা কামলা বাদশা মিয়ার সাথে তিনি দুঃখ করে বলেন, পাট ধুইতে হাতের ছাল উঠে গেছে। পানির অভাবে পাট ভালোভাবে পঁচেনি।  তাই কাজ করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।  অনেক চাষী পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে শুকিয়ে জ্বালানী হিসাবে ব্যাবহার করছে।

হিংগার পাড়ার অপর চাষী সামছুল জানান, পানি দেখে নিচু ডোবায় পাট জাগ দিয়েছিলাম কয়েকদিন পর ডোবা শুকিয়ে আমার পাটের জাগের উপর গরু-ছাগল ঘাষ খাচ্ছে। আমার সবই লোকসান।

ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ এলাকার পাটচাষিরা পানির অভাবে পাট পঁচাতে না পেয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রায় শতাধিক পাট চাষি পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন না। তারা অনেক বিপাকে আছেন।

জনপ্রিয়

পাট যেন কৃষকের গলার কাঁটা

প্রকাশের সময়: ০৩:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২২

পাটকে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ বলা হলেও এ পাট বর্তমান কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা লাভের আশায় পাট চাষ করলেও পানির অভাবে পঁচাতে পারছে না। ফলে কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।

অনাবৃষ্টির কারণে ডোবা নালায় শুকিয়ে যাচ্ছে। পাট পঁচাতে দেয়া ডোবা নালা গুলো হয়েছে গোচারন ভৃমিতে পরিণত হয়েছে।

এমনি দৃশ্য দেখা গেছে  গাইবান্ধার  সাদুল্লাপুরের লালমাটি এলাকা খ্যাত ধাপেরহাট এলাকায়। অনাবৃষ্টির কারণে পাট জাগ দিতে পারছেন এখাকার কৃষক।

কথা হয় হিংগার পাড়া গ্রামের পাট চাষি জুয়েল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন,  একবিঘা জমিতে পাটচাষ করেছি। অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন তো তার অর্ধেক টাকাও আসবেনা। বাড়ির পাশে পুকুরে পাট জাগ দেওয়ার কয়েকদিন পরেই পুকুরের পানি শুকিয়া যায়। আমি গত ৭ দিন ধরে উচ্চমৃল্যে তেল কিনে শ্যালোমেশিন দিয়ে পুকুরে পানি সেচ দিচ্ছি। তবু পাটে জাগ অর্থাৎ পচন আসছেনা। বাধ্য হয়ে চড়া মুল্যে কামলা নিয়ে পাট ধুয়ে নিচ্ছি। পাটের আঁশ সোনালী রঙের হওয়ার কথা কিন্তু সাদা পানি না থাকায় তা কালো আকার ধারণ করেছে।

জমি থেকে পাট কাটার পর সেই পাট ২০-২২ দিন পঁচার জন্য পানিতে ডুবে রাখতে হয়। কিন্তু এবার সেই পরিমান পানি বা বৃষ্টি  অত্র এলাকায় হয়নি।

কথা হয় পাটের কাজ করা কামলা বাদশা মিয়ার সাথে তিনি দুঃখ করে বলেন, পাট ধুইতে হাতের ছাল উঠে গেছে। পানির অভাবে পাট ভালোভাবে পঁচেনি।  তাই কাজ করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে।  অনেক চাষী পানির অভাবে পাট জাগ দিতে না পারায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে শুকিয়ে জ্বালানী হিসাবে ব্যাবহার করছে।

হিংগার পাড়ার অপর চাষী সামছুল জানান, পানি দেখে নিচু ডোবায় পাট জাগ দিয়েছিলাম কয়েকদিন পর ডোবা শুকিয়ে আমার পাটের জাগের উপর গরু-ছাগল ঘাষ খাচ্ছে। আমার সবই লোকসান।

ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ এলাকার পাটচাষিরা পানির অভাবে পাট পঁচাতে না পেয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রায় শতাধিক পাট চাষি পানির অভাবে পাট পঁচাতে পারছেন না। তারা অনেক বিপাকে আছেন।