বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌন হয়রানীর অভিযোগে নাইট কোচিং বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

ছবি প্রতিকী

উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের অনন্তরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নাইট কোচিং সেন্টার করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক এর বিরুদ্ধে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কোচিং চলাকালিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠে।

বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ আরিফুর রহমান, ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, আওয়ামীলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে নাইট কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়।

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক সরকারি বিধি উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলের ভবন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কোচিং সেন্টারটি চালিয়ে আসছিলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো এবং তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করতে বাধ্য করতো।

সম্প্রতি একজন শিক্ষিকাকে রাত এগারোটায় বাড়ি পৌছে দেয়ার নামে নির্জন রাস্তায় যৌন হয়রানী করলে উক্ত শিক্ষিকা চাকুরী ছেড়ে দেয়। ইতিপূর্বেও কোচিং সেন্টারটির অনেক শিক্ষিকার সাথে অনুরুপ ঘটনায় তারাও চাকরী ছেড়ে দেয়।

গত ২৫ আগস্ট রাতে কোচিং সেন্টাররের কক্ষেই জনৈক এক শিক্ষিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় অনন্তরামপুর গ্রামের দুই জন শিক্ষার্থী দেখে ফেলে। শিক্ষার্থী কর্তৃক বিষয়টি অভিভাবকগণ অবহিত হয়ে ঐ রাতেই বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে জানায় এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রাতেই কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এর পূর্বেও কয়েকজন মহিলা শিক্ষিকা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। আমি প্রধান শিক্ষক মোদাব্বেরুল ইসলামকে জানানোর পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ করনেনি। নারীলোভী শিক্ষক মেজাম্মেল হক এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায়, থানায় অভিাযোগ করার কেউ সাহস পাচ্ছে না।

এদিকে কোচিঙ সেন্টারটির সাবেক শিক্ষক-শিক্ষিকা, জন প্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসীগন তদন্ত সাপেক্ষ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিস্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু জাহের মো: সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি অবগতি হয়েছি। আগামী কর্মদিবসে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

জনপ্রিয়

যৌন হয়রানীর অভিযোগে নাইট কোচিং বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী

প্রকাশের সময়: ০৮:০৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২২

উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়নের অনন্তরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নাইট কোচিং সেন্টার করে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক এর বিরুদ্ধে স্থানীয় শিক্ষার্থীদের কোচিং চলাকালিন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠে।

বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান শাহ আরিফুর রহমান, ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, আওয়ামীলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সহ বেশ কয়েকজন বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে নাইট কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়।

সরেজমিনে খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক সরকারি বিধি উপেক্ষা করে সরকারি স্কুলের ভবন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার কোচিং সেন্টারটি চালিয়ে আসছিলেন। সেখানে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারের সুন্দরী মেয়েদের কোচিং সেন্টারের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো এবং তাদের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করতে বাধ্য করতো।

সম্প্রতি একজন শিক্ষিকাকে রাত এগারোটায় বাড়ি পৌছে দেয়ার নামে নির্জন রাস্তায় যৌন হয়রানী করলে উক্ত শিক্ষিকা চাকুরী ছেড়ে দেয়। ইতিপূর্বেও কোচিং সেন্টারটির অনেক শিক্ষিকার সাথে অনুরুপ ঘটনায় তারাও চাকরী ছেড়ে দেয়।

গত ২৫ আগস্ট রাতে কোচিং সেন্টাররের কক্ষেই জনৈক এক শিক্ষিকার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় অনন্তরামপুর গ্রামের দুই জন শিক্ষার্থী দেখে ফেলে। শিক্ষার্থী কর্তৃক বিষয়টি অভিভাবকগণ অবহিত হয়ে ঐ রাতেই বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যকে জানায় এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রাতেই কোচিং সেন্টারটি বন্ধ করে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এর পূর্বেও কয়েকজন মহিলা শিক্ষিকা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। আমি প্রধান শিক্ষক মোদাব্বেরুল ইসলামকে জানানোর পরেও ব্যবস্থা গ্রহণ করনেনি। নারীলোভী শিক্ষক মেজাম্মেল হক এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায়, থানায় অভিাযোগ করার কেউ সাহস পাচ্ছে না।

এদিকে কোচিঙ সেন্টারটির সাবেক শিক্ষক-শিক্ষিকা, জন প্রতিনিধি ও সচেতন এলাকাবাসীগন তদন্ত সাপেক্ষ্যে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিস্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু জাহের মো: সাইফুর রহমান বলেন, বিষয়টি অবগতি হয়েছি। আগামী কর্মদিবসে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।