আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী (৭০)। বয়স যখন ২৩, তখন হঠাৎ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। তার সন্ধানে হন্য হয়ে খুঁজতে থাকে স্বজনরা। অনেকের ধরণা কোনভাবে মৃত্যু হয়েছে তার। অবশেষে নিখোঁজের ৪৭ বছর পর আপন ঠিকানায় ফিরে এসেছেন এই কুদ্দস।
শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের হাজিরহাট গ্রামের নিখোঁজ কুদ্দুস মুন্সীর নাতী নাঈম মিয়া।
স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের মৃত খোকা মুন্সীর ছেলে কুদ্দুস মুন্সি। যুবক বয়সে রোকেয়া নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। বছর খানেক পর কোলজুড়ে পৃথিবীর আলোর মুখ দেখে আব্দুল করিম নামের এক সন্তান। এরই মধ্যে কুদ্দুস তার বাবার পিটুনি খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্ত দিন শেষে রাত ঘনিয়ে আসলেও আর ফিরে আসেনি। এরপর স্বজনরা তাকে বিভিন্নভাবে খুঁজেতে থাকে। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি অব্যাহত থাকলে কিছুতে সন্ধান মেলেনি কুদ্দুসের। এভাবে যুগ যুগ ধরে নিখোঁজ থাকায় অনেকে ধারণা কুদ্দুস মুন্সী হয়তো মারা গেছে। এমন ধারণা থেকে পরিবাররা আর কখনো তাকে খোঁজার চেষ্টা করেনি। তবে স্ত্রী রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে আব্দুল করিম সবসময় প্রার্থণা করতেন কুদ্দুসকে ফিরে পেতে। অনেক সময় কেঁদে ফেলতেন অশ্রুজল। এভাবে মা-ছেলে কাঁদছিলেন ৪৭ বছর।
এরই একপর্যায়ে গত ১৫ দিন আগে পলাশবাড়ী উপজেলার হাজিরহাট গ্রামের প্রতিবেশী হারুন মিয়া দিনাজপুরের রানীগঞ্জের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে দেখা হয় কুদ্দুস মুন্সীর। চেনা-পরিচয়ের চেষ্টায় আবার সেখান থেকে কুদ্দুস মুন্সী রংপুরের পীরগঞ্জের কুমেতপুর এলাকায় অবস্থান করে। বিষয়টি পরিবারকে জানানো হলেও প্রায় ১৫ দিন আগে কুমেতপুর থেকে কুদ্দুস মুন্সীকে উদ্ধারে বাড়ি আনে স্বজনরা। এরপর থেকে নিখোঁজ হওয়া ওই ব্যক্তিকে দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।
এ ব্যাপারে কুদ্দুস মুন্সীর নাতী নাঈম মিয়া জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জন্মের পর থেকে দাদুকে কখনো দেখিনি। শুধুই শুনেছি তিনি বাড়ি থেকে রাগ করে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এরই মধ্যে দাদুকে পেয়ে মহাখুশি আমরা।
পলাশবাড়ীর কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক এ ঘটনার সতত্য স্বীকার করে জাগো২৪.নেট-কে জানান, আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী নিখোঁজ হওয়ার ৪৭ বছর পর বাড়িতে ফিরে এসেছেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি অন্য এক জায়গায় বিয়ে করে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছিলেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির ও মাসুদ রানা, পলাশবাড়ী থেকে 



















