বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধার ঐতিহ্যে ঘেরা দর্শনীয় স্থানগুলোয় ঘুরে আসুন ঈদে

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধায় ঈদের আনন্দ বহুগুণে বেড়ে যায় যখন আমরা যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে বাড়ি ফিরি। অধীর অপেক্ষায় বসে থাকা প্রিয়জনের মুখগুলো দেখি। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আড্ডায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি, দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যাওয়া। ছুটির এই সময়গুলো উপভোগ করতে যেতে পারেন গাইবান্ধার ইতিহাস-ঐতিহ্যে ঘেরা দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

দেশের অন্যান্য উৎসবসহ ঈদের ছুটিতে স্থানগুলো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। আর ঘুরতে থাকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। চলুন জেনে নেওয়া যাক গাইবান্ধার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

পৌরপার্ক:
গাইবান্ধা শহরের বুকে রয়েছে সৌন্দর্য ঘেরা পৌরপার্ক। পৌরসভার নিয়ন্ত্রধীন একটি উন্মুক্ত স্থান ও সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র। একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে চারপাশে বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল ও কাঠ গাছ দিয়ে ঘেরা এ পুকুরের একপাশে রয়েছে সান বাধানো ঘাট। পুকুরের মাঝে রয়েছে পানির ফোয়ারা যেখানে ছন্দের তালে তালে দোল খায় ক্ষুদ্র জলকনা। এখানে প্রত্যেকদিন হাজারও দর্শনার্থীর ভিড় চোখে পড়ার মতো। আর ঈদকে ঘিরে আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে ওঠে। আর বিনোদনপ্রেমিদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে এই পৌরপার্কটি।

বালাসীঘাট:

নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার বহ্মপুত্র নদে অবস্থিত বালাসীঘাট। এখানে একটি নৌবন্দর ও দর্শনীয় স্থান। এ ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন এলাকা থাকা আসা দর্শণার্থীদের ভিড়ও জমে। প্রকৃতির রূপে যেন মিশে যাওয়া মতো এই স্থানটি। সেই সঙ্গে নদীবেষ্টিত এই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-করতোয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে প্রায় দেড় শতাধিক চর। এসব নদ-নদী ও চরাঞ্চলে ঈদে ভ্রমণ করে থাকেন ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার:

বালাসী সড়কের ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নামের একটি ভবন অবস্থিত। মাটির নিচে নির্মিত এ ভবন উপর থেকে দেখতে অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের মতো। ভবনের ছাদ আর ভূপৃষ্ঠ একই লেভেলে রয়েছে। ছাদে সবুজ ঘাসের আচ্ছান্ন। প্রত্যেক ঈদ ছাড়াও এখানে ভ্রমণ পিপাসুরা এটি দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকেন।

এসকেএসইন:

গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের রাধাকৃঞ্চপুর নামকস্থানে ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের কথা চিন্তা করেই স্থানীয় এসকেএস ফাউন্ডেশন এসকেএস ইন্নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দেশি-বিদেশি উন্নয়ন-দাতা সংস্থা, পর্যটক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মাল্টি-ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক আবাসন সেবা এবং খাবারের সু-ব্যবস্থা রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশমণ্ডিত নান্দনিক এ ক্যাম্পাসে। প্রশিক্ষণ, কনফারেন্স, সেমিনার, কর্মশালা আয়োজনের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৫টি হলরুম। অন্যান্য দিনের চেয়ে ঈদে এই রিসোর্টে পর্যটকদের ভির জমে।

ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক:

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক। ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ প্রায় ১৭ একর জমিতে এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এ পার্কে রয়েছে দেশি-বিদেশি বৃক্ষ, ফুলের বাগান, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন স্থাপনা। আরও আছে ২৬০ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনদের ভাস্কর্য।

 

জমিদার বাড়ি:

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বাড়ির গোড়াপত্তনকারী জমিদার কৃষ্ণকান্ত রায়। বর্তমানে তার বাসগৃহ, অতিথিশালা, রাজদরবার আর হাতিশালার স্থাপনার নেই কোনো চিহ্ন। এগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে দৃশ্যমান রয়েছে ৩টি পুকুর। আর বাসগৃহের স্থলে রয়েছে গুচ্ছগ্রামের রান্নার ঘর। এছাড়া সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় রয়েছে জমিদার বাড়ি। উপমহাদেশখ্যাত নাট্যকার-শিল্পী, চলচ্চিত্র অভিনেতা তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতি বিজড়িত নলডাঙ্গার জমিদার বাড়িতে এখনও রয়েছে বাসগৃহ, কুয়া, পুকুর ও মন্দির। অতীত ইতিহাসের এক সুর্বণ স্বাক্ষর। এছাড়া কামারপাড়া কেশালীডাঙ্গা গ্রামে আজও দাঁড়িয়ে প্যারিমাধব জমিদার বাড়ি। এখানে গড়ে ওঠেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রয়েছে বিশাকৃতির পুকুর ও কুয়া।

শাহী জামে মসজিদ:

সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় জামালপুর গ্রামে অবস্থিত ইতিহাস-ঐতিহ্যের বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদ। লোকমুখে শোনা যায় ৯৩০ সালে পারস্য থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে আসা হযরত শাহজামাল (র:) এর হাতেই নির্মিত হয় এই ঐতিহাসিক মসজিদ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদের সামনের অংশে বারান্দা নির্মাণ করে মসজিদের মেঝে সম্প্রসারণ করেছে। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাজার। মাজারটি হযরত শাহ জামালের বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, এ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।

জনপ্রিয়

গাইবান্ধার ঐতিহ্যে ঘেরা দর্শনীয় স্থানগুলোয় ঘুরে আসুন ঈদে

প্রকাশের সময়: ০৪:০৯:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধায় ঈদের আনন্দ বহুগুণে বেড়ে যায় যখন আমরা যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে বাড়ি ফিরি। অধীর অপেক্ষায় বসে থাকা প্রিয়জনের মুখগুলো দেখি। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আড্ডায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘোরাঘুরি, দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যাওয়া। ছুটির এই সময়গুলো উপভোগ করতে যেতে পারেন গাইবান্ধার ইতিহাস-ঐতিহ্যে ঘেরা দর্শনীয় স্থানগুলোতে।

দেশের অন্যান্য উৎসবসহ ঈদের ছুটিতে স্থানগুলো দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। আর ঘুরতে থাকে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা। চলুন জেনে নেওয়া যাক গাইবান্ধার দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে।

পৌরপার্ক:
গাইবান্ধা শহরের বুকে রয়েছে সৌন্দর্য ঘেরা পৌরপার্ক। পৌরসভার নিয়ন্ত্রধীন একটি উন্মুক্ত স্থান ও সামাজিক বিনোদন কেন্দ্র। একটি পুকুরকে কেন্দ্র করে চারপাশে বিভিন্ন রকমের ফুল, ফল ও কাঠ গাছ দিয়ে ঘেরা এ পুকুরের একপাশে রয়েছে সান বাধানো ঘাট। পুকুরের মাঝে রয়েছে পানির ফোয়ারা যেখানে ছন্দের তালে তালে দোল খায় ক্ষুদ্র জলকনা। এখানে প্রত্যেকদিন হাজারও দর্শনার্থীর ভিড় চোখে পড়ার মতো। আর ঈদকে ঘিরে আলোকসজ্জায় আলোকিত হয়ে ওঠে। আর বিনোদনপ্রেমিদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠে এই পৌরপার্কটি।

বালাসীঘাট:

নদীবেষ্টিত ফুলছড়ি উপজেলার বহ্মপুত্র নদে অবস্থিত বালাসীঘাট। এখানে একটি নৌবন্দর ও দর্শনীয় স্থান। এ ঘাট দিয়ে নৌকাযোগে বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়া করা হয়ে থাকে। একই সঙ্গে বিনোদনের জন্য বিভিন্ন এলাকা থাকা আসা দর্শণার্থীদের ভিড়ও জমে। প্রকৃতির রূপে যেন মিশে যাওয়া মতো এই স্থানটি। সেই সঙ্গে নদীবেষ্টিত এই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র-তিস্তা-করতোয়া নদীর বুকে জেগে উঠেছে প্রায় দেড় শতাধিক চর। এসব নদ-নদী ও চরাঞ্চলে ঈদে ভ্রমণ করে থাকেন ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা।

ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার:

বালাসী সড়কের ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে ফ্রেন্ডশিপ সেন্টার নামের একটি ভবন অবস্থিত। মাটির নিচে নির্মিত এ ভবন উপর থেকে দেখতে অনেকটা প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের মতো। ভবনের ছাদ আর ভূপৃষ্ঠ একই লেভেলে রয়েছে। ছাদে সবুজ ঘাসের আচ্ছান্ন। প্রত্যেক ঈদ ছাড়াও এখানে ভ্রমণ পিপাসুরা এটি দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকেন।

এসকেএসইন:

গাইবান্ধা-নাকাইহাট সড়কের রাধাকৃঞ্চপুর নামকস্থানে ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকদের কথা চিন্তা করেই স্থানীয় এসকেএস ফাউন্ডেশন এসকেএস ইন্নামক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দেশি-বিদেশি উন্নয়ন-দাতা সংস্থা, পর্যটক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মাল্টি-ন্যাশনাল প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যাধুনিক আবাসন সেবা এবং খাবারের সু-ব্যবস্থা রয়েছে প্রাকৃতিক পরিবেশমণ্ডিত নান্দনিক এ ক্যাম্পাসে। প্রশিক্ষণ, কনফারেন্স, সেমিনার, কর্মশালা আয়োজনের জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ৫টি হলরুম। অন্যান্য দিনের চেয়ে ঈদে এই রিসোর্টে পর্যটকদের ভির জমে।

ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক:

পলাশবাড়ী উপজেলার হরিণমারী গ্রামে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে ড্রিমল্যান্ড এডুকেশনাল পার্ক। ১৯৯৫ সালে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রশিদুন্নবী চাঁদ প্রায় ১৭ একর জমিতে এই বিনোদন কেন্দ্রটি নির্মাণ করেন। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এ পার্কে রয়েছে দেশি-বিদেশি বৃক্ষ, ফুলের বাগান, ভাস্কর্য এবং বিভিন্ন স্থাপনা। আরও আছে ২৬০ জন বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও গুণীজনদের ভাস্কর্য।

 

জমিদার বাড়ি:

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নে জমিদার বাড়ি অবস্থিত। বাড়ির গোড়াপত্তনকারী জমিদার কৃষ্ণকান্ত রায়। বর্তমানে তার বাসগৃহ, অতিথিশালা, রাজদরবার আর হাতিশালার স্থাপনার নেই কোনো চিহ্ন। এগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে দৃশ্যমান রয়েছে ৩টি পুকুর। আর বাসগৃহের স্থলে রয়েছে গুচ্ছগ্রামের রান্নার ঘর। এছাড়া সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গায় রয়েছে জমিদার বাড়ি। উপমহাদেশখ্যাত নাট্যকার-শিল্পী, চলচ্চিত্র অভিনেতা তুলসী লাহিড়ীর স্মৃতি বিজড়িত নলডাঙ্গার জমিদার বাড়িতে এখনও রয়েছে বাসগৃহ, কুয়া, পুকুর ও মন্দির। অতীত ইতিহাসের এক সুর্বণ স্বাক্ষর। এছাড়া কামারপাড়া কেশালীডাঙ্গা গ্রামে আজও দাঁড়িয়ে প্যারিমাধব জমিদার বাড়ি। এখানে গড়ে ওঠেছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রয়েছে বিশাকৃতির পুকুর ও কুয়া।

শাহী জামে মসজিদ:

সাদুল্লাপুর উপজেলার বড় জামালপুর গ্রামে অবস্থিত ইতিহাস-ঐতিহ্যের বড় জামালপুর শাহী জামে মসজিদ। লোকমুখে শোনা যায় ৯৩০ সালে পারস্য থেকে ধর্ম প্রচারের উদ্দেশে আসা হযরত শাহজামাল (র:) এর হাতেই নির্মিত হয় এই ঐতিহাসিক মসজিদ। জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকাবাসী মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদের সামনের অংশে বারান্দা নির্মাণ করে মসজিদের মেঝে সম্প্রসারণ করেছে। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি মাজার। মাজারটি হযরত শাহ জামালের বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, এ জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে দর্শনীয় স্থানগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।