মরণ নেশা ইয়াবা বহনে নিত্যনতুন কৌশল ব্যবহার করছে পাচারকারীরা। কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবা আনতে মহাসড়ক ব্যবহার না করে গ্রামের মেঠোপথ মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছত মাদক কারবারিরা। গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে ইজিবাইক, অটোরিকশা ও টেম্পো ব্যবহার করে গন্তব্যে পাড়ি দিত। কৌশল হিসেবে পথে মনোহরী পণ্যও বিক্রি করত।
এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার করে আসছিল একটি চক্র। বুধবার (৫ মে) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরান উল্লাহ সরকার।
গ্রেফতার এ চক্রের সদস্যরা হলো- মো. তারিকুল ইসলাম (২৩), মো. সিনবাদ (২৩), মো. মিম মিয়া (২২), মো. ইমন (১৯) ও মো. মনির (২৮)। এ সময় তাদের নিকট থেকে ছদ্মবেশ ধারণের সরঞ্জামাদি, রান্নার হাঁড়িপাতিল, বালতি, বহনযোগ্য ডিসপ্লে র্যাক এবং নানা ধরনের ইমিটেশন অলংকার জব্দ করা হয়।
র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পূর্বপুরুষরা বেদে সম্প্রদায়ের লোক ছিল। বর্তমানে বেদে সম্প্রদায়ের আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় তারা কক্সবাজার সীমান্ত থেকে ইয়াবা এনে ঢাকায় সরবরাহ করত।
র্যাব সদর দফতর গোয়েন্দা তথ্যে জানতে পারে, মাদকের একটি বড় চালান নিয়ে নদীপথে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে মোহাম্মদপুরের বসিলা ব্রিজ এলাকায় হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আসছে। চালানটি ধরতে মঙ্গলবার (৪ মে) রাতে বসিলার একটি পয়েন্টে অবস্থান নেয় র্যাব-২ এর একটি দল। পরে ইয়াবা পাচারে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রেফতারের পর বহনযোগ্য রান্না করার টিনের চুলার ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা ইয়াবার কথা স্বীকার করে তারা। রান্না করার চুলার নিচের অংশ কেটে তার ভেতর থেকে মোট ৭৭ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
র্যাব-২ এর অধিনায়ক বলেন, কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা ও সমুদ্রপথে বাংলাদেশে আসা ইয়াবা ট্যাবলেট রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করে আসছিল চক্রটি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে অভিনব কায়দা হিসেবে বেদের ছদ্মবেশ ধারণ করে মাদক বহন করে নিয়ে আসত।
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে তারা মহাসড়ক ব্যবহার না করে বিকল্প হিসেবে গ্রামের ভেতরের রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটেচারিকশা ও টেম্পো ব্যবহার করে পথ পাড়ি দিত। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আসার ক্ষেত্রে তারা চট্টগ্রাম সিটি গেটসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট এড়াতে প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে হাটহাজারী-মানিকছড়ি-গুইমারা-রামগড় হয়ে ফেনী আসত।
সেখান থেকে তারা নোয়াখালীর-চৌমুহনী-সোনাইমুরী এবং চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে মতলব লঞ্চঘাট পর্যন্ত আসত। দ্বিতীয় ধাপে তারা সেখান থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় চড়ে মুন্সীগঞ্জ হয়ে বুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ঢাকার প্রবেশ করত। এতে করে তাদের ৪ থেকে ৫ দিন অথবা কোনো কোনো সময় এক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যেত।
এই দীর্ঘ সময় তারা বেদেদের মতোই জীবন যাপন করত। সন্দেহ দূর করতে পথে চুড়ি, কড়ি, চুল বাঁধার ফিতা, শিশুদের কোমরে বাঁধার ঘণ্টা, চেইন, সেফটিপিন, বাতের ব্যথার রাবার রিং ইত্যাদি বিক্রি করত। মাদক বহনের এই কৌশল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও একেবারে নতুন। আর যে রুটটি ব্যবহার হচ্ছে সেটিও নতুন।
জাগো২৪.নেট ডেস্ক 















