শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিউমারের যন্ত্রণায় বিপর্যস্ত শৈশব, চিকিৎসার অপেক্ষায় শিশু

দিনমজুর পরিবারের পাঁচ বছরের শিশু সাহেরা খাতুনের দূরন্তপনা শৈশবের দিনগুলো এখন কেটে যাচ্ছে অসহ্য যন্ত্রণায়।  টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে এ শিশু। উন্নত চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচার ও বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুস সামাদ ও জান্নাতি বেগম দম্পতির কোলজুড়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় সাহেরা। জন্মের মাত্র এক মাস পর তার একটি চোখে ছোট্ট একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে পুরো চোখ ঢেকে যায় এবং চোখ থেকে দিন-রাত অবিরাম রক্ত ও পুঁজ বের হতে থাকে।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরে গাইবান্ধা, রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সর্বশেষ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, সাহেরা টিউমারে আক্রান্ত। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শিশুটির মা জান্নাতি বেগম বলেন, অন্য শিশুদের মতো আমার সন্তানও খেলতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু সারাক্ষণ ব্যথায় কাতর থাকে। সন্তানের কষ্ট দেখে কিছুই করতে পারছি না। সবাই যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার সন্তান নতুন জীবন পাবে।

শিশুর বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে অনেক টাকা ধার করেছি। এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার সন্তানের জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন করা হলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

জনপ্রিয়

লালমনিরহাটে জেলা বৃক্ষমেলার উদ্বোধন

টিউমারের যন্ত্রণায় বিপর্যস্ত শৈশব, চিকিৎসার অপেক্ষায় শিশু

প্রকাশের সময়: ০৭:০১:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

দিনমজুর পরিবারের পাঁচ বছরের শিশু সাহেরা খাতুনের দূরন্তপনা শৈশবের দিনগুলো এখন কেটে যাচ্ছে অসহ্য যন্ত্রণায়।  টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে এ শিশু। উন্নত চিকিৎসার অভাবে দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। চিকিৎসকরা দ্রুত অস্ত্রোপচার ও বিশেষায়িত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, অপারেশনের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রী আব্দুস সামাদ ও জান্নাতি বেগম দম্পতির কোলজুড়ে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয় সাহেরা। জন্মের মাত্র এক মাস পর তার একটি চোখে ছোট্ট একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে পুরো চোখ ঢেকে যায় এবং চোখ থেকে দিন-রাত অবিরাম রক্ত ও পুঁজ বের হতে থাকে।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় পরে গাইবান্ধা, রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সর্বশেষ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, সাহেরা টিউমারে আক্রান্ত। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে।

শিশুটির মা জান্নাতি বেগম বলেন, অন্য শিশুদের মতো আমার সন্তানও খেলতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু সারাক্ষণ ব্যথায় কাতর থাকে। সন্তানের কষ্ট দেখে কিছুই করতে পারছি না। সবাই যদি একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে হয়তো আমার সন্তান নতুন জীবন পাবে।

শিশুর বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে অনেক টাকা ধার করেছি। এখন আর চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার সন্তানের জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন করা হলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।