মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকদের বিতর্কিত পেশার দিকে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়

 দীপক কুমার পাল

শিক্ষক, জাতি গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকতা পেশা মহৎ মহান ও সর্বোত্তম মর্যাদার। আমি মনে করি শিক্ষকতা পেশা গবেষণাধর্মী। সমাজ সংস্কার ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সুন্দর ও বলিষ্ঠ জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবেন শিক্ষকরা। বাস্তব জ্ঞান অন্বেষণ,অধ্যায়ন এবং জ্ঞানের আঁধার সঞ্চয়ন করতে না পারলে কোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ শিক্ষক বা জ্ঞানী হতে পারে না।

বিধায়, আপাদমস্তক শিক্ষক হতে না পারলে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা দান করাও কষ্টসাধ্য। বিধায়, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে কোন প্রজন্মেই সুন্দর ও বলিষ্ঠ জাতি গঠনে জন্য তৈরি হতে পারে না। সুতরাং এই মহৎ পেশার সাথে অন্য কোন পেশার তুলনা করাই নির্বোধের কাজ এবং বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি মনে করি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদানের পর বাকি সময়টুকু তাকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিৎ এবং নিয়মিত জ্ঞান অন্বেষণের লক্ষ্যে স্টাডি করা উচিৎ। কিন্তু অনেক শিক্ষকই তার করেন না। তারা শিক্ষকতার এই মহান পেশাকে অর্থ বিত্তের আবর্তে গুলিয়ে ফেলেন। নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং মর্যাদাকে অন্য পেশার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে অপদস্ত ও বিতর্কিত করছেন।

একজন কলেজ শিক্ষক তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থিদেরকে তাঁর মোট কর্ম কালের দের ঘন্টা পাঠদান করান বটে,কিন্তু বাকি সাড়ে ৬ ঘন্টা তাঁকে হেলাফেলা করে কাটান। ঐসময়গুলো তাঁকে স্টাডি বা গবেষণা করবার জন্য দেয়া হয়েছে। অথচ এঁদের কেউ সাংবাদিকতা কেউবা ব্যবসা অথবা অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকেন। ইদানিং শিক্ষকরা বাড়তি সম্মানের লোভে মূল পেশা শিক্ষকতাকে পাস কাটিয়ে সাংবাদিকতা পেশায় নেমে পড়েছেন। এর ফলে একদিকে যেমন পেশাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে নিজের ভাবমূর্তিকে আত্ম অহমিকার গর্বে গর্বিত করার চেষ্টা করেন।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব শিক্ষকরা প্রশাসনের উপর নানা কাজে প্রভাব বিস্তারও করে থাকেন। সব মিলে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আকর্ষিত হওয়ার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও দপ্তরের সংশ্লিষ্ট লোকজনদের ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান অপরাধ ও দুর্নীতিগুলোকে প্রোটেকশন দেয়া।অন্যদিকে, অপ-সাংবাদিকতায় জড়িতদের উৎসাহিত করা।তাই,আমি মনে করি, শিক্ষকদের বিতর্কিত পেশার দিকে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়।

লেখক- দীপক কুমার পাল, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ছাড়া সৈরাচারমুক্ত সমাজ কল্পনা করা যায় না

শিক্ষকদের বিতর্কিত পেশার দিকে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়

প্রকাশের সময়: ০২:১৩:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

 দীপক কুমার পাল

শিক্ষক, জাতি গড়ার কারিগর। তাই শিক্ষকতা পেশা মহৎ মহান ও সর্বোত্তম মর্যাদার। আমি মনে করি শিক্ষকতা পেশা গবেষণাধর্মী। সমাজ সংস্কার ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে বিলিয়ে দিয়ে সুন্দর ও বলিষ্ঠ জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবেন শিক্ষকরা। বাস্তব জ্ঞান অন্বেষণ,অধ্যায়ন এবং জ্ঞানের আঁধার সঞ্চয়ন করতে না পারলে কোন ব্যক্তি পরিপূর্ণ শিক্ষক বা জ্ঞানী হতে পারে না।

বিধায়, আপাদমস্তক শিক্ষক হতে না পারলে শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা দান করাও কষ্টসাধ্য। বিধায়, সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে না পারলে কোন প্রজন্মেই সুন্দর ও বলিষ্ঠ জাতি গঠনে জন্য তৈরি হতে পারে না। সুতরাং এই মহৎ পেশার সাথে অন্য কোন পেশার তুলনা করাই নির্বোধের কাজ এবং বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি মনে করি স্কুল পর্যায়ের শিক্ষকদের দীর্ঘ সময় ধরে পাঠদানের পর বাকি সময়টুকু তাকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিৎ এবং নিয়মিত জ্ঞান অন্বেষণের লক্ষ্যে স্টাডি করা উচিৎ। কিন্তু অনেক শিক্ষকই তার করেন না। তারা শিক্ষকতার এই মহান পেশাকে অর্থ বিত্তের আবর্তে গুলিয়ে ফেলেন। নিজের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং মর্যাদাকে অন্য পেশার সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে অপদস্ত ও বিতর্কিত করছেন।

একজন কলেজ শিক্ষক তাঁর প্রিয় শিক্ষার্থিদেরকে তাঁর মোট কর্ম কালের দের ঘন্টা পাঠদান করান বটে,কিন্তু বাকি সাড়ে ৬ ঘন্টা তাঁকে হেলাফেলা করে কাটান। ঐসময়গুলো তাঁকে স্টাডি বা গবেষণা করবার জন্য দেয়া হয়েছে। অথচ এঁদের কেউ সাংবাদিকতা কেউবা ব্যবসা অথবা অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকেন। ইদানিং শিক্ষকরা বাড়তি সম্মানের লোভে মূল পেশা শিক্ষকতাকে পাস কাটিয়ে সাংবাদিকতা পেশায় নেমে পড়েছেন। এর ফলে একদিকে যেমন পেশাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়েছে, অন্যদিকে প্রশাসনের কাছে নিজের ভাবমূর্তিকে আত্ম অহমিকার গর্বে গর্বিত করার চেষ্টা করেন।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, এসব শিক্ষকরা প্রশাসনের উপর নানা কাজে প্রভাব বিস্তারও করে থাকেন। সব মিলে দেখা যায়, অধিকাংশ শিক্ষকদের শিক্ষকতা পেশার পাশাপাশি সাংবাদিকতায় আকর্ষিত হওয়ার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও দপ্তরের সংশ্লিষ্ট লোকজনদের ও শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান অপরাধ ও দুর্নীতিগুলোকে প্রোটেকশন দেয়া।অন্যদিকে, অপ-সাংবাদিকতায় জড়িতদের উৎসাহিত করা।তাই,আমি মনে করি, শিক্ষকদের বিতর্কিত পেশার দিকে ঝুঁকে পড়া ঠিক নয়।

লেখক- দীপক কুমার পাল, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক